১১ জুন, ২০১৭ ০৩:২৭ পিএম

মার্কারী দূষণের ফলে বছরে ৮-১৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মার্কারী দূষণের ফলে বছরে ৮-১৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ডা. আশরাফুজ্জামান মমিন :

বর্তমানে মার্কারী দূষণের কারণে বাংলাদেশ-সহ আরো ১৪টি দেশের জনস্বাস্থ্য  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা ভবিষ্যত  আর্থিক সংকটের পূর্বাভাস। মার্কারী দূষণের ফলে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৮ থেকে ১৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এনভায়রমেন্ট  অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গ্যানাইজশন-এসডোর সহযোগীতায় "দ্যা জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট"-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণা পত্রের মাধ্যমে এই তথ্যটি জনসম্মুখে তুলে ধরা হয়। ৮ জুন আইপেন ও বায়োডাইভারসিটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিআরআই) এর যৌথ  উদ্যোগে এসডো-র প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং-এর মাধ্যমে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও এসডোর চেয়ারপার্সন, সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ গবেষণাপত্রটি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমাণে ঢাকা শহর ও তার আশেপাশের এলাকার জনগণ প্রতিনিয়ত মার্কারী দূষণের শিকার হচ্ছে। এসডোর গবেষণা টিম  এই আন্তর্জাতিক গবেষণায় গুরূত্বপূণ ভূমিকা রেখেছে। তারা ঢাকা শহরের মার্কারী দূষণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের চুলের নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং  আবাসিক এলাকার কাছাকাছি সিমেন্ট কারখানার উপস্থিতি এই শহরটিকে মার্কারী দূষণের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করেছে। এ কারণে শহরে অবস্থিত জলাশয়সমূহ কারখানা, হাসপাতাল ও শহরের অন্যান্য বর্জ্য দ্বারা মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের একটি নদীর নিকট দূরত্বে অবস্থিত সিমেন্ট কারখানার প্রাত্যহিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭৪০০ মেট্রিক টন। মার্কারীর মিনামাটা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এ সকল উৎস থেকে সৃষ্ট মার্কারী দূষণরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাংলাদেশ সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক।

 এসডো মহা সচিব, ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ঢাকা শহরের এই সমীক্ষার মাধ্যমে অন্যান্য শহরগুলি কি ভয়াবহ পরিমাণ দূষণের স্বীকার হচ্ছে তার একটি ক্ষুদ্র নমুনা আমরা দেখতে পাই। মার্কারী দূষণের যে চরম মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে, আশাকরি তা ভবিষ্যতে  এই দূষণরোধে আমাদের উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী করবে। তিনি আরও বলেন, "ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বসবাসকারীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি প্রতিরোধে মিনামাটা কনভেনশনকে অনুমোদন এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন"।

সংগ্রহকৃত চুলের নমুনায় প্রাপ্ত মার্কারীর পরিমাণ ০.২ থেকে ২.৬৮ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। অর্ধেকেরও বেশী নমুনায় প্রাপ্ত মার্কারীর পরিমাণ ০.৫৮পিপিএম এর চেয়ে বেশী, যা কিনা মানবদেহে মার্কারীর সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা হিসেবে বিবেচিত।

"মার্কারী দূষণ বিশ্বব্যাপী মানব স্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক গুরুতর হুমকি। তাই বিশ্বব্যাপী মানবজাতি ও পরিবেশকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে মার্কারী দূষণের উৎস নিরীক্ষণ করা অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ" আইপেন-এর বিজ্ঞান ও কারিগরি উপদেষ্টা পিএইচডি ড. জো ডিগাঙ্গি বলেন। 

মার্কারী মানবদেহে প্রবেশ করলে এটি স্নায়ূতন্ত্র, কিডনি এবং হৃদতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।  বাড়šত শিশু বিশেষত, গর্ভস্থ ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রসহ অন্যান্য  সকল অঙ্গ এই দূষণের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্র¯ত হয়। বিভিন্ন জলাশয় বর্তমানে মার্কারী দ্বারা দূষিত হচ্ছে। এসকল জলাশয়ের দূষিত মাছ  মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে এবং পরবর্তীতে মার্কারী দূষণ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে নির্গত মার্কারী বাষ্পও মানবদেহে মার্কারী প্রবেশের অন্যতম কারণ। 

আইপেন নেটওয়ার্কের জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলির প্রণিত প্রটোকল অনুযায়ী গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে চুলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যা পরবর্তীতে বায়োডাইভারসিটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিআরআই)-এ পরীক্ষা করা হয়। 

আইপেন, বেসরকারী সংস্থাগুলির একটি নেটওয়ার্ক, যে সংস্থাগুলি বিশ্বের ১০০টিরো বেশী দেশে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে  রাসায়নিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে আসছে। 

 বায়োডাইভারসিটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিআরআই) একটি অলাভজনক পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যার লক্ষ্য  সহযোগীতামূলক গবেষনার মাধ্যমে বণ্যপ্রানী ও ইকোসিস্টেমের উপর ঝুকির পরিমাণ নির্ধারণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ ফলাফলের মাধ্যমে  সকলের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে এই সচেতনতা মূলক বার্তা পৌঁছে দেয়া।

 

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত