ডা. মো. জহিরুল ইসলাম

ডা. মো. জহিরুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক, রেটিনা বিশেষজ্ঞ, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা


০৭ জুন, ২০১৭ ০২:১৭ পিএম

চিকিৎসক আন্দোলন কেন? আমিই বা এত সক্রিয় কেন?

চিকিৎসক আন্দোলন কেন? আমিই বা এত সক্রিয় কেন?

আমি আমার চিকিৎসা পেশাকে ভালবাসি, আমি রোগিকে ভালবাসি। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ত্রুটিপূর্ণ। এর ফলে রোগিরা কষ্ট পাচ্ছে, চিকিৎসকরা প্রায়শই নাজেহাল হচ্ছেন। এর জন্য কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে আমি এককভাবে দায়ী করবো না। এর জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ঔপনিবেশিক অর্বাচীন ব্যবস্থাপনা। 

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। প্রয়োজন একে জনবান্ধব, চিকিৎসক বান্ধব করা।

বুঝতে হবে চিকিৎসক রোগির প্রতিপক্ষ নয়, রোগিও চিকিৎসকের প্রতিপক্ষ নয়। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচে না, তেমনি ডাক্তার রোগি ছাড়া চলবে কী করে? আর রোগির জন্য ডাক্তার তো দেবতাতূল্য। অতএব সমস্যা ডাক্তার-রোগিতে নয়। সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পিষ্ঠ অর্বাচীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। এটা সংশোধন করবে কে? সংশোধনের উদ্যোগ কারা নেবে? স্ট্যাকহোল্ডার কারা ? ভুক্তভোগী জনতা অথবা চিকিৎসক সমাজ। জনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এহেন আন্দোলন করা দুরূহ। তাই চিকিৎসক সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে এর সংশোধন ও আধুনিকায়নের জন্য।

কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য চিকিৎসক সমাজ আজ বহুধা বিভক্ত, নেতৃত্বের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থ, অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজ করে। নেতৃত্ব প্রায়শই অদৃশ্য কারনে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের তল্পিবাহক হয়ে পড়েন। ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সংষ্কার প্রচেষ্টা অন্ধকারেই রয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে রোগির ভোগান্তি কমে না, ডাক্তাররাও মার খায়।

এজন্যই আমি চাই একটি সমন্বিত আন্দোলন, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সংষ্কার আন্দোলন। নিষ্ঠাবান ঐক্যবদ্ধ বিএমএ নেতৃত্বের অধীনে সংষ্কার আন্দোলন। এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে সমর্থন দিতে হবে জনগণকে, সহযোগিতা করতে হবে মিডিয়াকে। জনবান্ধব সরকারকেও সমস্যার গোঁড়ায় পৌছতে হবে। আমরা চাই সমস্যার প্রকৃত সুরাহা হোক।

এজন্যই চিকিৎসা পেশাকে ভালবাসি বলেই, রোগিকে ভালবাসি বলেই মনে মগজে, কলমে- কদমে, ভার্চুয়ালি - অ্যাকচুয়ালি একটি সফল ও পূর্ণাঙ্গ আন্দোলনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহ পাক অচিরেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সংষ্কার আন্দোলনের সফলতা দিবেন, আশা করছি।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত