আতাউর রহমান কাবুল

আতাউর রহমান কাবুল

স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিক, দৈনিক কালের কণ্ঠ


২৯ মে, ২০১৭ ০৩:৩০ পিএম

আসুন গুণীজনদের কদর করতে শিখি

আসুন গুণীজনদের কদর করতে শিখি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আফিয়া আক্তার চৈতি (২০) মে মাসের ১৭ তারিখে কয়েক দিনের জ্বর এবং কাশি নিয়ে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে যায় চিকিৎসার জন্য। জ্বরের সঙ্গে র‌্যাশ ও গায়ে ব্যথা দেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দেন দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ স্যার। ওইদিনই পাওয়া রিপোর্টে দেখা যায়, আফিয়ার হিমোগ্লোবিনের পরিমান ৪.৫০ যার স্বাভাবিক মাত্রা থাকার কথা ১২ এর ওপর। শ্বেত রক্ত কণিকা বা ডব্লিউবিসি ১ লাখ ৩৭ হাজার যা স্বাভাবিকের অনন্ত ১৫-২০ গুণ বেশি। প্লাটিলেট মাত্র ১৬ হাজার যা থাকার কথা দেড় লাখের ওপর (মানে হলো যে কোন সময় রক্তক্ষরণ হতে পারে)। ব্লাস্ট সেল ৯৯ শতাংশ, অথচ ২০ শতাংশের বেশী থাকা মানে একিউট লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার। ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোটে ডেঙ্গু এনএস ১ এন্টিজেন অনুপস্থিত এসেছে। তার মানে ডেঙ্গু হয়নি। অন্যান্য রিপোর্টে হাইপোক্যালেমিয়া (মানে পটাশিয়াম কম যার কারণে মাংসপেশীর দুর্বলতাসহ হৃদপিন্ডের সমস্যা হতে পারে)। এছাড়া এক্সরেতে নিউমোনিয়াও ধরা পরে। 

স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় মনে করি, জ্বরের রোগীকে একদিনের মধ্যেই ব্লাড ক্যান্সার স্বনাক্ত করা এটা অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ স্যারের বিশেষ যোগ্যতা। হাসপাতালে ভর্তি হবার পর কোন রোগীকেই সব পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না যে তার কি হয়েছে তা জানতে। পরীক্ষাগুলো করা হয় ধাপে ধাপে। অধিকাংশ রোগীদের ব্লাড ক্যান্সার নিরুপন হয় অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষার পর। অথচ তিনি লক্ষন দেখে সন্দেহ করে সে পরীক্ষাটাও করতে দিলেন এবং তাতে ফলও মিললো। এরপর তিনি এই চিকিৎসা নিজের কাছে রাখেননি। জটিল রোগীটিকে সঙ্গে সঙ্গে সাপোর্টিভ চিকিৎসা দিয়ে দেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট বা রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ বিএসএমএমইউর হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সেন্ট্রাল হাসপাতালের অতিথি চিকিৎসক অধ্যাপক মাসুদা বেগমের কাছে রেফার করেন। এরপর একুইট মাইলয়েড লিউকেমিয়ার (এএমএল) প্রাথমিক চিকিৎসা, কিছু পরীক্ষা এবং কয়েক ইউনিট প্লাটিলেট দেবার পরামর্শ দেয়া হয় হেমাটোলজি বিভাগের পক্ষে। কিন্তু চিকিৎসা নিতে না নিতেই রোগীর শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ (অক্সিজেন স্যাচুরেশন) কমতে থাকে। একপর্যায়ে আফিয়া আক্তার চৈতি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। রিপোর্ট দেখে যতদুর জেনেছি, এই রোগীর ইনিশিয়াল ডায়াগনোসিস ক্যান্সারই ছিলো। এই ধরণের ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা কেমোথেরাপি যেটা শুরু করাই সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ক্যান্সারের চিকিৎসা সঙ্গে সঙ্গে দেবার মতো কিছু নেই। তাহলে ক্যান্সারের চিকিৎসা দিয়ে রোগী মেরে ফেলার অভিযোগ এলা কীভাবে? 

রোগীর সঙ্গে থাকা নাফিউল নয়ন নামের ইবরাহিম মেডিকেলের ২০১৫-১৬ সেসনের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করলো, ‘চৈতির ডেঙ্গু হয়েছে অথচ ক্যান্সারের ভুল চিকিৎসা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। রক্ত দিলে বা সময় মত আইসিইউতে নিলে রোগীটা হয়তো বাঁচত।’ একই কথা সে ফেসবুকেও শেয়ার করে। এ খবর পেয়ে চৈতির সহপাঠিরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসে। তারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের মারধর শুরু করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পুলিশ এসে পরিচালক ডা. এমএম কাশেমসহ তিন চিকিৎসককে থানায় নিয়ে যায়। ভুল চিকিৎসায় আফিয়ার মৃত্যু হয়েছে এ অভিযোগে রাতের দিকে ধানমন্ডি থানায় ৯ জন চিকিৎসকের নামে মামলা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী। মামলায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষক, মেডিকেলের আন্তর্জাতিক মানের বই লেখক, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একুশে পদক প্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ স্যারকে এক নম্বর আসামী করা হয়। রাতেই হাসপাতালের পরিচালক ডা. এমএ কাশেমকে গ্রেফতার করে হাজতে নেয়া হয়!

আমেরিকান কাউন্সিল অব হেমাটোলিস্ট সূত্রে বলা হয়েছে, ‘ব্লাড ক্যান্সার এবং ডেঙ্গু জ্বর একই সঙ্গে এবং একই সময়ে থাকতে পারে। দুটোতে প্লাাটিলেট কমে যায়। একটা থেকে আরেকটা আলাদা করা খুব কঠিন।’ তাই প্লাটিলেট কম মানে যে ডেঙ্গুই হয়েছে এটা বলা কঠিন। তাছাড়া ডেঙ্গু এনএস ১ এন্টিজেন রিপোর্টেও চৈতির ডেঙ্গু নেগেিেটভ বা অনুপস্থিত এসেছে। অথচ শুধুমাত্র ধারণার ওপর ভিত্তি করে অন্যরকম ঘটনা ঘটানো হলো। আতুঁর ঘরের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা হয়েছে এই বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে মামলা ঠুকে দেয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের পক্ষে। ভুল চিকিৎসার নুন্যতম প্রমানাদি না থাকার পরও এ মামলা হলো যা দু:খজনক।

প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ‘একটা পরিবারের স্বপ্ন যে ধ্বংস হল, স্বপ্ন ভঙ্গ হল কিছু ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও গাফিলতির জন্য- এটার দায় দায়িত্ব তাদের নেওয়া উচিৎ। এরকম যারা সেবক থাকবে, তারা যদি সেবক না হয়ে ব্যবসায়ীর মতো আচরণ করে, তাহলে তাদের এটার জন্য শাস্তি পাওয়া উচিৎ।’ আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তিনি কি প্রক্টর না ডক্টর? এই প্রক্টর মহোদ্বয় কোন মেডিকেল থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন? তা না হলে ভুল চিকিৎসা হয়েছে এটা তিনি কীভাবে বলতে পারলেন? আর তিনি ব্যবসায়ী বলতেইবা কাকে এবং কী বোঝাতে চেয়েছেন?

চিকিৎসকরা যেহেতু ভুল চিকিৎসাই করে, তাহলে তাদের চিকিৎসা না নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাই বন্ধ করে দিন। আর আমরা যেহেতু নন মেডিকেল হয়েও এসব বিষয়ে বেশি জ্ঞান রাখি, তাই নিজেরাই নিজেদের চিকিৎসা করি! তাহলেইতো মনে হয় ভালো হয়?

চিকিৎসকগণ ভুল করতেই পারেন। তারা যে সকল ভুলের উর্ধে তা বলছি না। কিন্তু তাদের ভুল দেখা বা বোঝার ক্ষমতা সাধারন পাবলিকের নেই। অথচ ভুল চিকিৎসা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে হাসপাতাল ভাংচুর ও চিকিৎসকদের মারধোর করে মামলা দেয়া-এটা যেন কালচারে পরিনত হয়েছে। এখন অহরহ ঘটছে এসব। দু:খজনক হলো, দেশের প্রথম সারির বেশ কিছু পত্রিকা, অনলাইন এবং টিভিগুলোর নিউজেও ঘটনাটি এভাবে প্রচার হয়েছে যে, ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, হয়েছে ডেঙ্গু চিকিৎসা ক্যান্সারের’ ইত্যাদি শিরোনামে। অথচ ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না এর কোনরুপ তদনন্ত ছাড়াই তাৎক্ষনিকভাবে কোন মিডিয়ার এটা আসা উচিৎ নয়। সেক্ষেত্রে শিরোনাম হতে পারতো, ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ। কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি পত্রিকা অবশ্য এখাবেই শিরোনাম করেছে। আর ভুল চিকিৎসা বিষয়ে কারো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার প্রচলিত বিধান রয়েছে। অথচ না জেনে না বুঝে লিখে ফেলা হলো ভুল চিকিৎসা। এতে সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের মধ্যে অহেতুক একটা ভুল বোঝাবোঝি তৈরি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। চিকিৎসকরা এটাকে বলছেন হলুদ সাংবাদিকতা যা দু:খজনক। কী দরকার সাংবাদিকদের এর দায় নেয়ার? গত কয়েকদিনের স্যোসাল মিডিয়াতে এমন আলোচনা ভরে গেছে।

আমি মনে করি, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসক বা হাসপাতাল ভাংচুর- এই কালচারের চির অবসান দরকার। যারা এসব করছেন, তাদের মাথায় এই ভাবনাটা থাকা উচিৎ যে-উক্ত হাসপাতালে আরো অনেক সংকটাপন্ন রোগী থাকেন। ভাংচুরের ঘটনায় অন্য কারো চিকিৎসা ব্যাহত হলে বা অন্য কোন রোগীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক দুর্ঘটনা ঘটলে তখন এর দায় কে নেবে? অন্তত আবদুল্লাহ স্যারের বেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে এসবের অবসান এখন সময়ের দাবী।

আমাদের হারানো বোন আফিয়া আক্তার চৈতির জন্য কষ্ট হচ্ছে। আমিও গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে পড়াশোনা করে আজ সাংবাদিকতা করছি। চৈতিও চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে পড়াশোনা করছিলো। তাঁর জীবনেও অনেক স্বপ্ন ছিলো প্রতিষ্ঠিত হবার। কিন্তু অকালেই ঝড়ে গেল বোনটি আমাদের। আল্লাহর কাছে এই বোনটির জন্য অনেক দোয়া যেন সুখে থাকে। 

অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ স্যার বিএসএমএমইউর তিন বারের নির্বাচিত ডিন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নিশ্চয় ভুল চিকিৎসা দেন এমন একজন চিকিৎসককে তাঁর চিকিৎসার জন্য নির্বাচিত করেননি। একুশে পদক পাওয়া এই  চিকিৎসক এক কথায় দেশের সম্পদ। তার লেখা ছয়টি বই বিশ্বের ৪১টি দেশে মেডিকেলের পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে বসে হবু ডাক্তারদের জন্য শর্ট কেসের নতুন এডিশন লেখার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন কম্পিউটার অপারেটরের সঙ্গে। এবিএম আবদুল্লাহ স্যারকে গত ২৭ ফেব্র“য়ারি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তাঁর বাড়ীতে দাওয়াত দেন। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির ওয়েবসাইটে এখনও সে ছবি শোভা পাচ্ছে। 

সারাদিন আবদুল্লাহ স্যার যত রোগী দেখেন তার অর্ধেকই ফ্রি দেখেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে তাঁর রুমের বাইরে প্রতিদিন যত রোগী ভিড় করে থাকেন তত রোগী অন্য কোন চিকিৎসকের রুমের সামনে যান না। সকলের নিকট আস্থার একটা জায়গা তিনি তৈরি করতে পেরেছেন বলেই মানুষজন তাঁর শরনাপন্ন হচ্ছেন। এরপর এক এক করে সবাইকে বিনা ভিজিটে দেখে প্রেসক্রিপশন করে দেন কোন বিরক্তি ছাড়াই। চেম্বারে এখনো তাঁর ভিজিট মাত্র ৩শ টাকা যেখানে তার ছাত্ররা পর্যন্ত ভিজিট নেন এক হাজার টাকা বা তারও বেশি। তিনি চেম্বারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১ বা ১২ টা পর্যন্ত রোগী দেখে যত টাকা রোজগার করেন, তার চার ভাগের এক ভাগ সময় ব্যয় করে তার লেবেলের না হয়েও অন্য একজন চিকিৎসক আয় করেন তার তিন বা চার গুনের চেয়েও বেশি টাকা। দিনভর রোগী আর হাসপাতালে ছুটাছুটি করে রাত দুপুরে বাসায় ফিরে আবারো সকালে সেই হাসপাতাল, সেই রোগীদের চিকিৎসা দিতে ছুটে আসা। হিসেব মেলে না যে, তিনি আসলে ঘুমান কখন? তাঁকে কোনদিন সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে, হাতির ঝিলে ওয়াটার বাসে ঘুরতে কিংবা নিউ মার্কেটে শপিংয়েও দেখা যায়নি। অথচ তিনিওতো রক্ত মাংসে গড়া একজন সাধারন মানুষ।

এই মামলার পর আবদুল্লাহ স্যারের ছেলে ডা. সাদী আবদুল্লাহ মনে আক্ষেপ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আল্লাহ্র অশেষ রহমতে তোমাকে যা দিয়েছে তাতে তুমি চাইলে অনেকে কিছু করতে পারতা। কিন্তু সেই ৯শ টাকার বাটা স্যান্ডেল আর ইন ছাড়া হাফ শার্ট পড়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কিংবা চেম্বারে যাওয়ার এই ছিলো তোমার ড্রেস। জীবনে একটা মাত্র ব্লেজার বানালা তাও সাবাহর বিয়ের সময়। এই ৩শ টাকার ভিজিট থেকে মিনিমাম ৫শ টাকা করতে কতো তোমার সাথে রাগ দেখালাম। আর তখনই কৌশলে প্রসঙ্গ এভোয়েড করতা। শুধু নেক্সট জেনারেশন ডাক্তাররা যাতে উপকৃত হয় তাদের বই লেখার জন্য চেম্বার থেকে এসে এক গাদা টেক্সট বই নিয়ে বসে কত কষ্ট করেছো আমি জানি। তাতে দেশ ও জাতির উপকার হবে-এই ছিলো তোমার ধ্যান। খুব শর্টে এই তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা। মানুষের অপরিসীম ভালবাসা তোমার জন্য। তোমার স্টুডেন্টরা তোমাকে পিতার মত ভালবাসে। আল্লাহর রহমতে তুমি একুশে পদক পেয়েছো। দেশের খুব নিম্ন পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষজন আল্লাহ্র হুকুমে তোমার ট্রিটমেন্টে সুস্থ হচ্ছে। দেশের প্রতিটা প্রান্তে আল্লাহ্ তোমার সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছে। এই দেশও তোমাকে অনেক দিয়েছে। কিন্তু দেশের কতিপয় মানুষ আজ না বুঝে তোমাকে বিনা কারণে হেয় করলো।’

আবদুল্লাহ স্যার দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের দিক নিয়ে যেমন ভাবেন, তেমনি ভাবেন চিকিৎসকদের নীতি নৈতিকতার দিকটিতেও। ডাক্তারদের কমিশন নেয়াকে তিনি চরমভাবে ঘৃণা করে এর বিরুদ্ধে কলম ধরে লিখেছেনও প্রচুর। এক লেখায় তিনি লিখেছেন, ‘যখন একজন মানুষ চিকিৎসা নিতে কোন চিকিৎসকের নিকট যান বা অপারেশনের জন্য প্রস্তুতি নেন, তখন মূলত তিনি তার জীবনকে ওই চিকিৎসকের কাছে সপে দেন। সুতরাং চিকিৎসকের উচিৎ রোগীর দিকটিতে ভেবে রোগীর লোকজনকে সম্ভাব্য চিকিৎসা বিষয়ে বুঝিয়ে বলা’। আর সেই আবদুল্লাহ স্যার আজ ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলার এক নম্বর আসামী!!!

দেশের প্রথিতযশা একজন চিকিৎসক, শিক্ষক, খ্যাতনামা স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, আপাদমস্তক সাদামনের এমন ভালো একজন মানুষকে হয়রানি করার কোন মানে হয় না। তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ও মামলা ঘটনায় সারাদেশের চিকিৎসক সমাজ শুধু নয়, সাধারন মানুষ বেজায় চটেছেন যাদের তিঁনি প্রিয় ডাক্তার হতে পেরেছেন। চিকিৎসক সমাজের আইকন এবিএম আবদুল্লাহ স্যারের মতো মানুষকে  যখন আসামী করা হয়, তখন কার সন্তান মেডিকেলে পড়ে ডাক্তার হতে চাইবে? বরং মানী লোকের মানহানির দায়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

তাই আসুন, আমরা দেশের গুণীজনদের কদর করতে শিখি। নচেত এ দেশে অনেক খুঁজেও কোনদিন গুণী মানুষ পাওয়া যাবে না।

লেখক : স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিক, দৈনিক কালের কণ্ঠ
https://www.facebook.com/akabul

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত