ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. নাজিরুম মুবিন

মেডিকেল অফিসার, মিনিস্ট্রি অব হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার


ফাইনাল প্রফ উত্তীর্ণদের অভিনন্দন ও কিছু পরামর্শ

আজ মনে হচ্ছে এই তো সেদিন ছোটভাইগুলোকে Bones কিনে দিলাম। বই কিনে দিলাম। Terminology, Thoracic vertebrae, Heart এর ডেমো দিলাম। আজ নাকি তারা ডাক্তার!!! বিশ্বাসই হয় না। সময় এতো দ্রুত চলে যাচ্ছে।
সবাইকে কংগ্রাচুলেশনস, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, মোবারকবাদ।

আমি জানি তোমরা সবাই অনেক বুদ্ধিমান, স্মার্ট, দূর-দৃষ্টি সম্পন্ন। এরপরও কয়েকটা টেকনিক্যাল বিষয়ে তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

১) আমাদের ব্যাচের রেজাল্ট কিন্তু এপ্রিলের ১৩ তারিখ দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের ইন্টার্নি শুরু হয় ঠিক এক মাস পরে। এদিকে অনেক মেডিকেলের রেজাল্ট আমাদের দুই সপ্তাহ পরে দিলেও তাদের ইন্টার্নি শুরু হয় আমাদেরও এক সপ্তাহ আগে।
এতে লাভ বা ক্ষতি কোথায়?

ইন্টার্নি আগে আগে শুরু হলে শেষও হবে আগে আগে। ইন্টার্নশিপ কমপ্লিশন সার্টিফিকেট, বিএমডিসি সার্টিফিকেট আগে আগে তুলতে পারবা। এবং এই কাজগুলো যদি ১৫ মে, ২০১৮ এর মধ্যে শেষ করতে পার তাহলে জুলাই ২০১৮ তে তোমরা এফসিপিএস পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় বসতে পারবা। আমরা কয়েকদিনের জন্য পারিনি। আশা করছি তোমরা এই সুযোগটা কাজে লাগাবা।

২) সবাই ৩৮তম বিসিএস এর ফর্ম ফিল আপ করে ফেলো। সরকারি চাকুরি করা না করা পরের বিষয়। ৩৮তম বিসিএসের পুরো প্রসিডিউর শেষ হতে আরো ২ বছর লাগবে। ততদিনে তো সরকারি চাকুরির ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে।
এদিকে প্রতি বছর নতুন করে দশ হাজার ডাক্তার পাশ করে কম্পিটিশনে যোগ হচ্ছে তাই যত তাড়াতাড়ি পারা যায় বিসিএস ও পোস্ট গ্রাজুয়েশনের পার্ট ওয়ানটা করা ফেলাটাই ভালো।

৩) আমার মতো যারা ৫ বছর ফাঁকিবাজি করছ তারা ইন্টার্নির একটা বছর সিরিয়াস হও। এই শেষ শেখা। আর কেউ শেখাবে না। এরপরে যেখানেই কাজ করতে যাবা কোনকিছু না পারলেই বলবে কোন মেডিকেল থেকে পাশ করছ? ইন্টার্নির সময়টাতে টাকা পয়সার খুব খুব খুউব বেশি সমস্যা না হলে ক্লিনিক ডিউটি না করাটাই ভালো।

৪) ক্যারিয়ার কিসে করবা ইন্টার্নির সময়ই ফুল এন্ড ফাইনাল করে ফেলতে হবে। ইন্টার্নির সময় যে ওয়ার্ডে তোমার কাজ করতে ভালো লাগে সেটাকেই টার্গেট ফিক্স করো। কোন সাবজেক্টই সহজ না। শর্টকাট কোনটাতেই নাই। আয় রোজগারও সব সাবজেক্টেই ভালো। ননক্লিনিক্যাল বা দেশের বাইরে ক্যারিয়ার করার ইচ্ছে থাকলে যারা অলরেডি বাইরে আছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপ টু ডেট ইনফো কালেক্ট করতে হবে। অন্য কারো পরামর্শ নিলেই বিপদ।

৫) চিকিৎসা পেশা সম্পর্কে চারপাশে এখন থেকেই হতাশার বাণী শুনতে হবে। টাকা পয়সা নাই। স্যাচুরেটেড হয়ে যাচ্ছে। হেন তেন। আমি নিজেও প্রতিদিন হতাশ হই। আবার নিজেকে নিজে মোটিভেশন দেই। মনে রাখতে হবে, সবার রিজিক পূর্ব নির্ধারিত। সেটা সে নিউরোসার্জন হলেও পাবে, জেনারেল প্র‍্যাকটিশনার হলেও পাবে আবার রিক্সা গ্যারেজের মালিক হলেও পাবে। অতএব হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তবে আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে। রিক্সা গ্যারেজ খুলে বসে থাকলে হবে না। 

৬) একটা সময় অনেকেই ডাক্তারি পেশাটা নিয়ে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়বা। আমরাও হই। কিন্তু চিকিৎসা পেশা আসলেই মহান পেশা।

"হযরত মোহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সেবা-শুশ্রূষা বা খোঁজ খবর নেয়ার উদ্দেশ্যে সকাল বেলা কোন রোগীর পাশে যায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তরজন ফেরেশতা ওই ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে থাকে। আবার সন্ধ্যাবেলা একই কাজে রোগীর পাশে গেলে সত্তরজন ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে।" [তিরমিজি শরীফ, আবু দাউদ শরীফ]

ইন্টার্নির সময় যদি তোমাকে দশটা বেড দেওয়া হয়। সকাল সন্ধ্যা ফলো আপ দেওয়ার জন্য তোমাকে দশজন রোগীর কাছে যেতে হবে। এখন ক্যালকুলেটর নিয়ে হিসাব করো তো কতজন ফেরেশতা তোমার জন্য দোয়া করবে?
আর কোন পেশাজীবীদের পক্ষে ফেরেশতাদের এতো দোয়া পাওয়া সম্ভব?

৭) অনেক সময় রোগীর আত্মীয়-স্বজন, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতারা ডিস্টার্ব করবে। এদের সাথে ঝামেলায় জড়ানোর দরকার নাই। তর্ক করার দরকার নাই। মুই কী হনুরে ভাব দেখানরও দরকার নাই। আল্লাহ্‌ বলেই দিয়েছেন, "রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে আর মূর্খরা তর্ক করতে আসলে বলে সালাম।" [সূরা ফোরকান ৬৩]

৮) লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট
যারা এবার পাশ করো নাই। মন খারাপ, কান্না কাটির চ্যাপ্টার তাড়াতাড়ি ক্লোজ করো। আমাদের সাথের অনেকের পার্ট ওয়ান হয়ে গেছে, বিসিএসের ভাইভা দিয়ে এসেছে কিন্তু তারা প্রথম বার খারাপ করেছিল। আবার অনেকে প্রথম বার পাশ করেও এখনো কিছু করতে পারে নি। কেউই পিছিয়ে নেই।

একটা কথা প্রায়ই বলি, জীবন হচ্ছে একটা ২০০ মিটারের দৌড় প্রতিযগিতা কেউ প্রথম ১০০ মিটার জোরে দৌড়ায় কেউ শেষের ১০০ মিটার। ফিনিশিং লাইন সবাই টাচ করে। কেউ একটু আগে কেউ একটু পড়ে। অতএব দৌড়াতে থাকো।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 





জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর