পিনাকী ভট্টাচার্য্য

পিনাকী ভট্টাচার্য্য

ব্লগার, লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

সাবেক শিক্ষার্থী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ। 


২৫ মে, ২০১৭ ১২:৩৯ পিএম

প্রক্টর সাহেব! সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিন..

প্রক্টর সাহেব! সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিন..

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল সমঝোতায় পৌছেছে। খবর এসেছে যে, এই সমঝোতার পিছনে যে প্রণোদনা কাজ করেছে তা হচ্ছে দুই প্রতিষ্ঠানই মনে করে তাদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি ছিলো, তাই এই সমঝোতা হয়েছে। সমঝোতার মানে হচ্ছে মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

আপনি যখন বলবেন, ভুল বুঝাবুঝি ছিলো, ঠিক তখন পুরো ঘটনার দায় গিয়ে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে। কারণ তারাই মামলা করেছে, তারাই ভাংচুর করেছে তারাই ডাক্তারদের মেরে রক্তাক্ত করেছে, তারাই প্রফেসর আব্দুল্লাহকে কাঠগড়ায় তুলেছে, তারাই ডা. কাশেমের কোমরে দড়ি পড়িয়েছে। এইটার দায় কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নিচ্ছেন?

সংবাদে এসেছে, নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। কে দেবে আর্থিক সহায়তা? কোথায় থেকে দিবে? কেনই বা দেবে? এর মানে কি এই যে টাকা পয়সার লেনদেন করে একটা সমঝোতা করা হচ্ছে? এটা অনৈতিক, শুধু তাই নয় এমনকি আইনের দৃষ্টিতেও তা অগ্রহনযোগ্য। ঢাবি ছাত্রীর পরিবার কি বিচারের পরিবর্তে মানবিক সহায়তার নামে আর্থিক সাহায্য চায়?

ঢাবির ছাত্ররা ঘটনার পরে যে রক্তারক্তি করেছে- সেটার বিচারের জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতাল কিছু না করলেও যে কোন নাগরিক রিট করতে পারে। প্রক্টর আমজাদ সাহেব, মামলা করে, সমঝোতা করে এটাই প্রমাণ করেছেন এই দুর্বিনীত ছাত্রদের নেপথ্য নেতা তিনিই। আর তাই এই রক্তারক্তির দায় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের দায় তাকেও নিতে হবে।

এখন প্রক্টর সাহেব বলছেন, তিনি এখন একজন জুনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করবেন। এইটা লাগামহীন উন্মত্ততা। একটা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নিবর্তনমুলক আইনের আশ্রয় নেবে, তাও একজন জুনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে!!! এটা চিন্তার অগম্য; ভাবতেও কষ্ট হয়।

ডিয়ার ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্লিজ কাম টু ইউর সেন্সেস এন্ড ডু নট ওপেন প্যান্ডরাস বক্স। এই ৫৭ ধারার কলঙ্ক নিজের শরীরে মাখলে তার দুর্গন্ধ কয়েক শতাব্দীতেও আপনার শরীর থেকে যাবেনা।

কিছু করার আগে প্রক্টর সাহেবকে অনুরোধ করবো সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। ঢাবি কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ করবো কারো প্রতিহিংসার দায় যেন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে না হয়।

আর আমরা আম জনতা ঘটনার উপরে নজর রাখছি।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত