২৪ মে, ২০১৭ ১০:৫৪ এএম
দাবদাহে ২০ জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

আইসিডিডিআরবিতে ঘণ্টায় ২৫ রোগী

আইসিডিডিআরবিতে ঘণ্টায় ২৫ রোগী

কয়েক দিন ধরেই প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে পুরো দেশ। এর ওপর প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু-বৃদ্ধসহ বহু মানুষ। প্রতিদিনই এই অসুস্থতার হার বাড়ছে। এর বেশির ভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তাদের মধ্যে আবার কারো কারো অবস্থা কলেরার পর‌্যায়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০ জেলা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য এসেছে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে ওই সব জেলায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৪২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুসারে, গত এক সপ্তাহে ২০ জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৭৬৪ জন। এর মধ্যে গত সোমবার আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয় ৯৫৮ জন। রবিবার ওই সংখ্যা ছিল ৭৯৬ জন এবং শনিবার ৭২২ জন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, ঢাকায় সোমবারের চেয়ে গতকাল তাপমাত্রা আরো বেড়েছে। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সোমবার ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি। এ ছাড়া চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমের মধ্যে গতকাল ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গতকাল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি। আগের দিন ছিল ৩৫ ডিগ্রি। তবে গতকালও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে—৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে কলেরা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র-বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে টাঙানো রয়েছে রোগীর সংখ্যাগত হিসাবচিত্র। তাতে দেখা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২০-২৫ জন করে রোগী আসছে ডায়রিয়া চিকিৎসার এই বিশেষায়িত হাসপাতালে।

দেখা গেল, জরুরি বিভাগে যাওয়া মাত্র একেকজন রোগীকে দ্রুত নিয়ে শুইয়ে দেওয়া হচ্ছে একেকটি শয্যায় (বেড)। কেউ বমির পাশাপাশি ছটফট করছে, কেউ বা নিস্তেজ। আর রোগী শয্যায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নার্স স্যালাইন পুশ করে দিচ্ছেন। ছুটে আসনে চিকিৎসক। আগে থেকেই প্রতিটি শয্যার সঙ্গে থাকা স্ট্যান্ডে ঝুলিয়ে রাখা হয় চারটি করে স্যালাইন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেল, জরুরি বিভাগে স্যালাইন দেওয়ার পর কারো শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে। নারী-পুরুষ-শিশু সব রোগীরই ভিড় ওয়ার্ডজুড়ে। পাতা হয়েছে অতিরিক্ত বিছানাও।

এক রোগীর স্বজন শাহজাহান জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই তাঁর ভাবি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। রাতে ৯-১০ বার পাতলা পায়খানা হয়েছে, বমিও হয়েছে কয়েকবার। তাই গতকাল ভোরেই তাঁকে আইসিডিডিআরবিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

সুলতানা নামের এক রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার পথে বলেন, ‘তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলাম। সময়মতো যদি এই হাসপাতালে না আসতে পারতাম, তাইলে মনে হয় মারাই যেতাম। ’

আইসিডিডিআরবি ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই চিত্র রাজধানীর বাইরের অনেক জেলায়।

ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ার ব্যাপারে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের প্রধান ড. আজহারুল ইসলাম খান বলেন, অত্যধিক গরমের প্রভাবে মানুষ অসাবধানতাবশত অনিরাপদ পানি বা খাদ্য খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবারই এমনটা হয়। এ ক্ষেত্রে যারা হাসপাতালে আসছে তাদের মধ্যে এখন ৮-১০ শতাংশ কলেরায় আক্রান্ত থাকে। বাকিরা অন্যান্য জীবাণু থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। অনেকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এই হাসপাতালে আসছে।

আইসিডিডিআরবির মিডিয়া ম্যানেজার এ কে এম তারিফুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ধরে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবছরই অত্যধিক গরমে এমন অবস্থা দেখা যায় এ হাসপাতালে।

তারিফুল ইসলাম জানান, ১৮ মে রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৬৫। পরদিন ১৯ মে একটু কমে হয় ৪৫৩। কিন্তু এর পরদিন থেকে ওই সংখ্যা অনেক বাড়তে থাকে। ২০ মে ৫৩৭, ২১ মে ৫৩২ এবং ২২ মে দাঁড়ায় ৫২২। আর গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এদিকে চট্টগ্রামেও ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ব্রংকোলাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ গরমজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১২৮ জন শিশুকে বহির্বিভাগে নিয়ে আসেন তাদের অভিভাবকরা। এর আগে গত ২২ মে ১৪৮, ২১ মে ১৪৮, ২০ মে ১৪৫, ১৮ মে ১৩৯, ১৭ মে ১৪৩ এবং ১৬ মে ১৪২ জন শিশুকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক জেবিন চৌধুরী বলেন, প্রায় ১০ দিন ধরে গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অনেক শিশুকে চিকিৎসার জন্য তাদের অভিভাবকরা নিয়ে আসছেন। এখানে আনা শিশুদের ৫০ শতাংশই জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতিটিতে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ জন শিশু এবং চার-পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী আসছে। গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা হাসপাতালে আসছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক। শিশুরা জ্বর, সর্দি ও কাশি এবং বড়রা খাদ্যজনিত কারণে ডায়রিয়ার পাশাপাশি ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৌমেন সরকার বলেন, গরমের কারণে হাসপাতালে যেভাবে রোগী আসছে বেশি, তেমনি চিকিৎসকদের চেম্বারেও রোগী বেড়েছে। ভাইরাল জ্বরের পাশাপাশি ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়েও অনেকে আসছে চেম্বারে।

গরমে করণীয় সম্পর্কে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের প্রধান ড. আজহারুল ইসলাম খান পরামর্শ দিয়ে বলেন, গরমে মানুষকে তাপমাত্রা থেকে যতটা সম্ভব নিরাপদে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে ঘনঘন পানি ও পানিজাতীয় খাবার খাওয়া, বাসি খাবার না খাওয়া, নিরাপদ খাবার পানি পান করা, খাবার পানির পাত্র পরিষ্কার রাখা, পথঘাটের অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করা উচিত। সেই সঙ্গে ঘরে খাবার স্যালাইন সংরক্ষণ করা এবং আক্রান্ত হলে খাবার স্যালাইনে কাজ না হলে হাসপাতালে যেতে হবে। তবে স্যালাইনের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবারও খেতে হবে। শিশুদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ছয় মাসের নিচের বয়সের শিশুদের শুধুই বুকের দুধ দিতে হবে, অন্য শিশুদের ঘরে তৈরি সম্পূরক খাবারের সঙ্গে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে।

সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ

 

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা
একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

অধ্যাপক প্রাণ গোপালকে বিজয়ী ঘোষণা করে রোববার বিজ্ঞপ্তি: রিটার্নিং কর্মকর্তা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি