রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী

ভুল চিকিৎসাটা কোথায় হলো? টিভি টকেশোতে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

মেডিভয়েস রিপোর্ট : 

ভুল চিকিৎসাটা কোথায় হলো? কারণ তাকে সাপোর্টেড যে চিকিৎসা সবই আমরা দিয়েছি। আর তার যে ক্যান্সার হয়েছে, সেটার চিকিৎসা করার সময়-ই তো আমরা পাই নি। ৭১ টিভির টকশোতে অংশ নিয়ে এই সাহসী চালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। সেন্ট্রাল হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে শুক্রবার রাতে ৭১ টিভি এই টকশোর আয়োজন করে। সেখানে অত্যন্ত মার্জিত ও স্পষ্টভাষায় কথা বলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিজ্ঞচিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যার। 

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যার বলেন, আসলে একটি রোগী কোন রোগে আক্রান্ত হলো, কেন মারা গেল- এটা একজন ডাক্তার বলতে পারবেন। এবং এটা তাদেরই বলতে পারার কথা। যাই হোক যে ঘটনাটা ঘটেছে, তা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনা ঘটা উচিত নয়।

স্যারের ভাষায়, ‘আমি স্ট্রিক্টলি বলি, পত্রিকায় যা এসেছে- সেটা মিলায়ে দেখবেন। আসলে একজন ডাক্তার একটি মেয়েকে মারতে পারে না। এই মেয়েটির ব্যাপারে যখন আমাকে কল করা হলো, আমি গিয়ে দেখলাম যে, মেয়েটি আসলে সিরিয়াস। তারা (রোগীর স্বজন) হিস্ট্রি দিল জ্বর, কাশি, ব্যথা, ব্লিডিং হচ্ছে।

আসলে ডেঙ্গু নিয়ে যে কথাগুলো উঠেছে, রোগীর ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে আর ডাক্তার ক্যান্সারের চিকিৎসা দিয়েছে এটা ঠিক নয়। কারণ ঢাকায় কেউ গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত থাকলে- তার হয় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া অথবা টাইফয়েড হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়।

আমার মেয়েটিকে দেখার পর সন্দেহ হলো- মেয়েটি হয়ত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া অথবা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে। তারপরও আমি টেস্ট না করে তো কনফার্ম হতে পারছি না। প্রথমে তাকে ব্লাড টেস্ট করার কথা বললাম। তাহলে আমি বুঝতে পারব এটা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া না অন্য কিছু।

সেই কথা অনুযায়ী, ব্লাড টেস্ট হলো এবং রাতেই রিপোর্টে দেখা গেল যে, সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং অবস্হা খুবই সিরিয়াস। রাতেই তার অবস্হা ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকে এবং আমি একজন হিমাটলোজিস্টের কাছে রেফার্ড করি।

পরবর্তীতে রোগীর খুবই খারাপ অবস্হা দেখে আইসিইউতে শিফট করা হয়। আর আইসিইউ মানেই কিন্তু, রোগীর অবস্হা খারাপ না হলে আইসিইউতে পাঠানো হয় না। হিমাটলোজিস্ট চিকিৎসক রিপোর্ট দেখে বলেন যে, এটি ব্লাড ক্যান্সার এবং উনি তখন রোগীর লোকদের খুঁজছেন বিষয়টি জানানোর জন্য। তাঁর যতটুকু চেষ্টা করার তিনি সবটুকুই করেছেন।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু- পত্রিকার এমন রিপোর্টের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যার বলেন,  ক্যান্সার যে হয়েছে তার চিকিৎসা করার সময়ই ডাক্তার পায়নি। এর আগেই রোগী মারা গেল। আমরা তাকে চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি। যেহেতু মিডিয়াতে এসেছে ভুল চিকিৎসা হলো, ডেঙ্গু বলে ক্যান্সারের চিকিৎসা দেয়া হলো আসলে ভুল চিকিৎসাটা কোথায় হলো? তাকে সাপোর্টেড যে চিকিৎসা সবই আমরা দিয়েছি। আর তার যে ক্যান্সার হয়েছে, তার চিকিৎসা করার সময়ই তো আমরা পাই নি।

প্রসঙ্গত : বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় চৈতির মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা করা হয়েছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, কাশেম ইউসুফ, ডা. মর্তুজা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম মাতলুবুর রহমান, ডা. মাসুমা পারভীন, ডা. জাহানারা বেগম মোনা, ডা. মাকসুদ পারভীন ও ডা. তপন কুমার  বৈরাগী এবং হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ কাশেম। মামলার পর হাসপাতালের পরিচালক এম এ কাশেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ



















শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর