১৯ মে, ২০১৭ ০১:৫৭ পিএম

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যারকে আসামী করায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসক সমাজ

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যারকে আসামী করায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসক সমাজ

ইলিয়াস হোসেন :

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যারকে আসামী করায় চরম ক্ষুব্ধ দেশের চিকিৎসক সমাজ। তারা মনে করছেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসককুল শিরোমনি আব্দুল্লাহ স্যারকে চরম অপমান করা হয়েছে। এই মহান শিক্ষকের মানহানী করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মামলা প্রত্যাহার ও প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।    

ডা. জাহিদুর রহমান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ স্যার স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদক পাওয়া একজন স্বনামধন্য মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ। উনার লেখা মেডিক্যাল টেক্সট বুক শুধু আমরা না, আরো কয়েকটি দেশের ডাক্তার এবং মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীরা পড়ে। উনি একজন জনপ্রিয় কলামিস্ট এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। বিএমএ এবং স্বাচিপের রাজনীতিতেও উনার যথেষ্ট প্রভাব আছে, উনি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীরর ব্যাক্তিগত চিকিৎসকও। সবচে বড় কথা, উনি দেশের সবচে বড় এবং পুরোনো মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডীন, একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। আর বিরুদ্ধে মামলা করার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর কি একবারও ডাঃ আবদুল্লাহ স্যারের এই 'শিক্ষক' পরিচয়টার কথাও চিন্তা করলেন না?

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম লিখেছেন, ডাক্তারদের অবদান যে কি সেটা এই অকৃতজ্ঞ মানুষদের বোঝাবার জন্য এবং ডাক্তারদের অহেতুক অসন্মান এবং গায়ে হাত তোলার প্রতিবাদে শুধু ৩/৪ টা দিন সারা বাংলাদেশে শুধু প্রাইভেট প্রাক্টিসটা বন্ধ করা যায় না?

অমিত নয়ন নামের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক লিখেছেন, একজন এ.বি.এম. আব্দুল্লাহ এদেশে ক্ষণজন্মা। আমি নিজেও একজন ঢাবি'র ছাত্র। আমার অনেক বন্ধু, বড়ভাই, ছোটভাই, বোন সেখানে পড়ছে। ডাক্তার বিদ্বেষ এ দেশে নতুন কিছু না। কিন্তু শিক্ষিতের প্রতিবাদের ভাষা আর অশিক্ষিতের প্রতিবাদের ভাষায় যদি পার্থক্য না থাকে তাহলে শিক্ষার মূল্য থাকলো কি।

মানুষ গড়ার কারখানায় আজ যদি তৈরি করা হয় গাড়ি ভাঙা, হাসপাতাল ভাঙা, চিকিৎসকের হাড্ডি ভাঙার অস্ত্র তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ সাবেক ছাত্র হিসেবে আমি লজ্জিত হই, সেই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রাণের বন্ধু যারা ব্যথা পেলে আমিও সমব্যথী হই তাদের হয়ে আমি লজ্জিত হয়, সর্বোপরি লজ্জিত হই সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের অধিকারী দেশটির হয়ে।

মেডিকেল শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ লিখেছেন, শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের প্রায় ৪০ টি দেশে ডা. তৈরী হয় এই কিংবদন্তী চিকিৎসকের লেখা বই পড়ে । জ্বি, এই চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নামেই মামলা হয়েছে, "ভুল চিকিৎসা"র অভিযোগে । উঁনার নামেই মিডিয়াতে নিউজ হয়েছে "ভুল চিকিৎসা" শিরোনামে। শ্রদ্ধেয় প্রক্টর সাহেব মামলা ঠুকে দিলেন । যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর লেখা বই দিয়েই কিন্তু তাঁর চিকিৎসার ভুল প্রমান করতে হবে । মাথায় ঢুকলো কিসছু.....????

প্রসঙ্গত : বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন- অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, কাশেম ইউসুফ, ডা. মর্তুজা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম মাতলুবুর রহমান, ডা. মাসুমা পারভীন, ডা. জাহানারা বেগম মোনা, ডা. মাকসুদ পারভীন ও ডা. তপন কুমার  বৈরাগী এবং হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ কাশেম। মামলার পর হাসপাতালের পরিচালক এম এ কাশেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত