রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী

ভুল চিকিৎসায় ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাংচুর, মিডিয়ার অপপ্রচারঃ প্রকৃত ঘটনা

আফিয়া জাহান চৈতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার সকালে জ্বর,ব্লিডিং এবং র‍্যাশ আক্রান্ত হয়ে গ্রীন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ স্যারের আন্ডারে ভর্তি হন। ইনিশিয়ালি ডেঙ্গু উইথ হেমোরেজিক ফিভার ডায়াগনোসিস করা হয়। এরপর ব্লাড টেস্ট করা হয়। এতে টোটাল কাউন্ট ১,৩৭০০০, ব্লাস্ট সেল ৯৯%, হিমোগ্লোবিন ৭.২, প্লাটিলেট ১৬০০০

বিএসএমএমইউর একজন হেমাটোলজিস্ট ম্যাডাম দেখেন স্বাভাবিকভাবেই এটার ইনিশিয়াল ডায়াগনোসিস চিন্তা করা হয় AML (একিউট মায়েলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া)। এরপর PBF করা হয়। সেখানেও লিউকেমিয়ার পক্ষেই রিপোর্ট আসে এবং সেখান থেকে বোন ম্যারো এক্সামিনেশন করার জন্য সাজেস্ট করা হয়।

কিন্তু এটি একটি সময়সাপেক্ষ্য পরীক্ষা এবং রোগীর কন্ডিশন খারাপ থাকায় এটা করা সম্ভব হয়নি। রোগীর ইনিশিয়াল ডায়াগনোসিস রোগীর এডেনডেন্টদের জানানো হয়। ম্যাডাম রোগীর পার্টিকে জানান, রোগীর জন্য প্লাটিলেট এফেরেসিস লাগবে। রোগীর পার্টি তাদের আর্থিক স্বল্পতার কথা জানায়। তখন ম্যাডাম পরের দিন বিএসএমএমইউতে ১৪ হাজার টাকায় প্লাটিলেট এফেরেসিস করে দিবেন জানান। তবে এও বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় রোগীকে আইসিইউতে ট্রান্সফার করা হয়।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয় এবং রোগী আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর রোগীর এটেন্ডদের কেউ কেউ দাবী করেন, রোগীর ডেঙ্গু জ্বর হয়েছিলো। অথচ তাকে ক্যান্সারের চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ঢাকা ভার্সিটি থেকে একদল ছাত্র গিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতাল ভাঙচুর করে। একজন ডিউটি ডাক্তার যে আসলে ওইসময় ডিউটিতে ছিলোই না, তাকে মেরে আধমরা করে দেওয়া হয়। দেশের প্রথম সারির সবগুলো পত্রিকার অনলাইন ভার্সন এবং টিভিগুলোর ব্রেকিং নিউজে আসতে থাকে- ' ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, ক্যান্সারের-চিকিৎসায়-ডেঙ্গু-রোগীর-মৃত্যু"। অথচ ভুল চিকিৎসার বিষয়টি এখানে অবান্তর।

এই রোগীর ইনিশিয়াল ডায়াগনোসিস ক্যান্সারই ছিলো। এই ধরণের ক্যান্সারের চিকিৎসা কেমোথেরাপি। সেই কেমোথেরাপিই এখানে শুরু করা হয়নি। তাহলে ক্যান্সারের চিকিৎসা দিয়ে রোগী মেরে ফেলার অভিযোগ কিভাবে আসে? ক্যান্সারের রোগীর ইমিউনিটি খুবই খারাপ থাকে। তাই নানা ধরণের ইনফেকশন এদের হয়।এই রোগীর ক্ষেত্রেও ক্যান্সারের পাশাপাশি ডেঙ্গু থাকতে পারে। ডেঙ্গু ছিলো বলে তার ক্যান্সার ছিলো না- আমাদের সাংবাদিক সমাজ চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই নিগুঢ় তথ্য কোথায় পেলেন?

আর এই ধরণের মানসিকতা নিয়ে যদি আমাদের রোগীর এটেন্ডেন্টরা আসে, তাহলে ঠিক কিভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব?

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ



















শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর