ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


১৭ মে, ২০১৭ ০৫:৩২ এএম
থ্যালাসেমিয়া রোগ

বিয়ের আগে যা করা দরকার

বিয়ের আগে যা করা দরকার

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। এটা autosomal recessive ধরনের। পিতা মাতা উভয়েই যদি এই রোগের বাহক হন, তাহলে গড়ে তাদের প্রতি ৪ সন্তানের একজন এই রোগের রোগী হতে পারে। বাহক কখনোই রোগে ভুগেন না। সাধারন জীবন যাপন করেন। পিতা মাতা খুব বেশি সৌভাগ্যবান হলে তারা উভয়ে বাহক হওয়া সত্ত্বেও সন্তানেরা স্বাভাবিক বা বাহক হতে পারে। আর বাহক পিতা মাতা হতভাগা হলে এমনকি তাদের সব সন্তান কাকতালীয় ভাবে রোগী হতে পারে।

পিতা মাতার যে কোন একজন মাত্র বাহক হলে সন্তানেরা কখনোই রোগী হবে না। কিন্তু পিতা মাতা উভয়ে বাহক হলে সব ধরনের দুশ্চিন্তার কারন। কারন সে ক্ষেত্রে সন্তানদের কেউ কেউ রোগী হতে পারে। autosomal recessive ধরনের রোগ সাধারনত আত্মীয়দের মাঝে বিয়ে হলে হয়। কিন্তু একটি সমাজে এর বাহকের সংখ্যা বেড়ে গেলে তখন আত্মীয়র বাইরে বিয়ে হলেও এ রোগ হতে পারে। জানা যাচ্ছে আমাদের দেশে এই রোগের বাহক এবং তার ফলশ্রুতিতে রোগীর সঙ্খ্যা বাড়তেছে! ফলে এখন থেকেই সাবধানতা জরুরী । যখন কেউ রোগী হন তখন সেই রোগটার নাম beta thalassaemia major (বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর)। আর বাহক হলে সেই অবস্থাটার নাম beta thalassaemia trait or beta thalassaemia minor (বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট বা বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর)।

এ রোগ হলে রোগীকে সারা জীবন অন্যদের থেকে রক্ত গ্রহন করে টিকে থাকতে হয়। আর রক্ত গ্রহনের থাকে নানাবিধ ঝামেলা। শরীরে আয়রন এর পরিমান বেড়ে গিয়ে হৃদপিণ্ড লিভার গিরার রোগ হতে পারে। দাতার শরীর থেকে বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু ঢুকতে পারে রোগীর শরীরে । এ ছাড়াও নিওমিত রক্ত সঞ্চালনের আছে আরো বহু জটিলতা। একদিকে থ্যালাসেমিয়া অন্যদিকে সেটার চিকিৎসার কারনে নতুন করে অন্যান্য অঙ্গের রোগ ! কত কষ্ট ! কত কষ্টের জীবন! অথবা রোগীকে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়। সেটা করতে গিয়েও থাকে নানাবিধ নতুন রোগের ঝুঁকি। কিন্তু এসব ঝুঁকি এড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হচ্ছে বিয়ের আগে পাত্র পাত্রীর হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস করানো। মুল্য আনুমানিক ১০০০ টাকা। এ পরীক্ষা করে কেউ যদি দেখেন যে, তিনি একজন বাহক ; তাহলে তিনি যেন কোন অবস্থাতেই অন্য একজন বাহক বা রোগীকে বিয়ে না করেন। করলে কিন্তু সেই দুশ্চিন্তায় পেয়ে বসবে। সন্তানদের কেউ কেউ রোগী হতে পারে। সেটা হলে সারা জীবন সেই সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াতে হবে। অথবা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট এর মতো জটিল চিকিৎসা করাতে হবে।

অনেকেই হয়তো বলবেন, "আমিতো বিয়ের আগে এই পরীক্ষা করাইনি, আমিতো ভালো আছি"। এর উত্তর হচ্ছে সবার এমনটা হবে না। কিন্তু যিনি এটার শিকার হবেন , তিনি বুঝতে পারবেন কত ধানে কত চাল!

আমি ২০০৯ সালে এই কারনে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস করেছিলাম। ফলাফল স্বাভাবিক ছিল। তাই বিয়ের আগে নিজের ভালোর জন্যই হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস এবং রক্তগ্রুপ পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসককে সেটার ফলাফল দেখান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত