১৫ মে, ২০১৭ ১০:২৪ এএম
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে

৪ হাজার টাকার ইনজেকশন বিনামূল্যে!

৪ হাজার টাকার ইনজেকশন বিনামূল্যে!

এক সপ্তাহ আগেও রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ৪ থেকে সাড়ে হাজার টাকা দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে জীবন রক্ষাকারী স্ট্র্যাপটোকাইনেজ ইনজেকশনটি কিনতে হতো হৃদরোগীদের। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা ইনজেকশনটি কিনতে পারলেও গরিব অসহায় রোগীরা ছিল বিপাকে। এত দামের ইনজেকশনটি কিনতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ত তারা। অনেক গরিব রোগী ধার-কর্জ করে কিনতেন স্ট্রাপটোকাইনেজ। কিন্তু এখন আর সেই অসহায়ত্ত নেই হাসপাতালটিতে আসা হৃদরোগীদের।

বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান একটি নতুন আদেশ জারি করেছেন হাসপাতালটিতে। গত ৭ মে জারিকৃত আদেশে তিনি বলেছেন, এখন থেকে হাসপাতালের ভেতরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্ট্রাপটোকাইনেজ ইনজেকশন সরবরাহ করা হবে। তাই বাইরে থেকে এটি কিনে আনার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাবে না। এ আদেশ জারির পরও যদি কোনো নার্স বা ইনচার্জ রোগীদের দিয়ে বাইরে থেকে ইনজেকশনটি কিনে আনতে বলেন তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচালকের এ আদেশের পর থেকে সিসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিনামূল্যে স্ট্রাপটোকাইনেজ পাচ্ছেন রোগীরা। তাতে একদিকে প্রতিটি ইনজেকশন বাবদ যেমন ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি অনেক রোগীর জীবন রক্ষা পাচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের যখন অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না কিংবা অন্য ওষুধে কাজ করে না তখন শেষ চিকিৎসা এই স্ট্র্যাপটোকাইনেজ ইনজেকশন। এটি প্রয়োগ করার পর অনেক রোগী বেঁচে যায়। সিসিইউতেই এর ব্যবহার বেশি হচ্ছে। হাসপাতালটির কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রামপদ সরকার বলেন, হার্ট অ্যাটাকের ৬ ঘণ্টার মধ্যে স্ট্র্যাপটোকাইনেজ ইনজেকশন দিতে পারলে ভালো। ইনজেকশনটির কাজ হচ্ছে হার্ট অ্যটাকের কারণে জমাটবদ্ধ রক্তকে তরল করে দেওয়া। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হলে হার্ট সচল হয়ে ওঠে। এদিকে হৃদরোগীদের আরেকটি সাশ্রয়মূলক কার্জক্রম শুরু হয়েছে এ হাসপাতালে। এখন ওষুধ প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে হার্টের রিং। আগে প্রাইভেট ডিভাইস কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মূল্যে রিং বিক্রি করত। আবার এনজিওগ্রাম করাতে বা রিং পরাতে হৃদরোগীদেরও সময় কম লাগছে। ভোগান্তিও দূর হয়েছে। আগে অন্তত একমাস অপেক্ষা করতে হতো রিং পরাতে বা এনজিওগ্রাম করাতে। এর কারণ ছিল ক্যাথল্যাব স্বল্পতা। ৫টি ক্যাথল্যাবের মধ্যে ৪টিই ছিল অকেজো। এখন আর সেই দিন নেই। পুরনো একটি নিয়ে ৪টি ক্যাথল্যাবই সচল। এখন আর একমাস অপেক্ষা করা লাগছে না, একসপ্তাহের মধ্যেই এনজিওগ্রাম ও রিং পরাতে পারছেন হৃদরোগীরা।

এছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগও হাসপাতালটির চিত্র পাল্টে দিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে টিকিট কাউন্টারসহ প্রতিটি নথিপত্র সংরক্ষণ কাজে ডিজিটালাইজড পদ্ধতি চালু, শিশু হৃদরোগীদের জন্য নতুন আইসিইউ, বড়দের আইসিইউকে আন্তর্জাতিকমানে রূপান্তর, বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবে অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন, কয়েকটি নষ্ট অটোক্লেভ মেশিন সচল করা, মহিলা হৃদরোগীদের জন্য একটি নতুন পেয়িং ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা, কিছু ওয়ার্ড, স্টোরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে নতুন এসি চালু, জরুরি ভাসকুলার সার্জারি বিভাগে সিট বাড়ানো, রেডিওলজি বিভাগে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের সিটি এনজিওগ্রাম মেশিনটি মেরামত করা ও নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা। তবে এতকিছুর পরও হাসপাতালে ভাল্ব, রিং ও সিট সংকট তীব্র। ৪১৪ বেডের বিপরীতে এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি রোগী থাকে ৬৮৮ জন এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে ৬০৯ জন। অতিরিক্ত রোগীর ঠাঁই হচ্ছে ওয়ার্ডের মেঝেতে ও বারান্দায়। দুটি হার্ট লাং মেশিন নষ্ট হওয়ায় হৃদরোগ অপারেশনেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে বড় বড় সমস্যা যখন দূর হয়েছে তখন এসব ছোটখাটো সমস্যাও দূর হবে। শিগগিরই ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দামের ভাল্ব ও রিং স্বল্পমূল্যে পাবে গরিব হৃদরোগীরা। নামমাত্র মূল্যে পাওয়া যাবে অক্সিজেনেটর যন্ত্রও। 

সূত্রঃ আমার সংবাদ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি