ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪ ঘন্টা আগে
আসিফ শুভ্র

আসিফ শুভ্র

Apollo Hospitals Dhaka For Community

Registrar- Critical Care Department.


১৩ মে, ২০১৭ ০৯:২৫

পিতৃতুল্য দরদী শিক্ষক প্রফেসর ডা. মাহবুব

পিতৃতুল্য দরদী শিক্ষক প্রফেসর ডা. মাহবুব

- ' হ ..... !  তুই ই তো প্রফেসর মাহবুব ! দেখ্ ফয়েজ! গলার tune পাল্টাইয়া মজা লইস না কইলাম ......... ! হারামী কোথাকার ! 

ঘুমাইতে দে আমারে ! মাহবুব স্যারের তো খাইয়া দাইয়া কাম নাই যে আমারে ফোন দিবো ! বদমাইশ ...... !!!! আরেকবার ফোন দিবি তো এক থাবড়ায় ............... ! ' 

- ' আমি প্রফেসর মাহবুব ই বলছি ...... তোমার বন্ধু ফয়েজের নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছি ! 

পাঁচ মিনিটের মধ্যে ক্লাসে আসো ! Just within five minutes ! 

লাউড স্পিকারে চলছে প্রফেসর মাহবুব আর সুমনের কথোপকথন ! 

সুমনের আত্মায় আর পানি নাই রে ........ l সুমন কে আমরা close Friend রা ' ফুটা ' নামে ডাকতাম ........, নামটা ফকিরের দেয়া l Faquir Walid Shah Upol এর ডাক নাম ছিলো ফকির l কেনো সুমনকে ফুটা ডাকতাম ইহা পাবলিক প্লেসে কোনোভাবেই বলা যাইবে না ! 

এক দৌড়ে সুমন স্যারের সামনে এসে হাজির ........, হাঁপাচ্ছে ! আমরা তো টেনশানে শেষ .....!

মাহবুব স্যার সার্জারীর জাদরেল অধ্যাপক , ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল l

পুরো টিউটোরিয়াল ক্লাসে পিন পতন নিরবতা l সুমন মাথা নিচু চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে , একটু পরপর তোতলাতে তোতলাতে বলছে - ' স্যা..র মাফ করে দেন্ আমাকে ! ' 

বন্ধু সুমনের জন্য মায়া লাগছে খুব l

স্যার শাস্তি দিলেন ..... কঠিন শাস্তি ! 

- ' প্রতিদিন তোমার ক্লাস পার্সেন্টেজ আমি চেক করবো l যদি absent থাকো ....... আমি তোমাকে ফাইনাল প্রফেশনাল exam এ বসতে দেবো না ! 

আর বেটা ....! তোমার মুখ এতো সুন্দর কেনো ? কি সুন্দর সুন্দর গালি রে !!! বাহ্ ! 

যাই হোক ! মাফ করে দিলাম তোমাকে, কিন্তু খবরদার ! পার্সেন্টেজ কম হলে - no mercy ! '

এই শাস্তি সুমনের জন্য কি যে পেইন ছিলো ! ওর মতো ঘুমকাতুর ছেলেকে প্রতিদিন টিউটোরিয়াল ক্লাস করতে হবে ......  ! '

প্রতিদিন চোখ ডলতে ডলতে সুমন টিউটোরিয়াল ক্লাসে যেতো আর আমরা বন্ধুরা দাঁত কেলিয়ে ওরে ক্ষেপাইতাম l

জ্বী ভাই ..........

এটা একজন প্রফেসরের আর ছাত্রদের জীবনের বাস্তব গল্প l একজন মাটির মানুষের গল্প ............. শিক্ষক ছাত্রের সুসম্পর্কের গল্প l 

আমরা সবাই ই আজ প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক l প্রফেসর মাহবুবের মতো শিক্ষক পাওয়া দু:ষ্কর l একজন ছাত্রকে টিসি দিয়ে দেয়া, শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দেয়া শিক্ষকের ক্রেডিট না ...... হতে পারে না l ছাত্র ...... ভুল করবেই l

ঢাকা মেডিকেল কলেজের তিন জন ছাত্র ( হতাশাজনিত কারণে ) ড্রাগ নেবার সময় এই মাহবুব স্যারের হাতেই হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন l স্যার তখন প্রিন্সিপাল l 

একাডেমিক কাউন্সিলে সব শিক্ষক যখন চিৎকার করে বলছিলেন - ' Drug addict boys ! ঢাকা মেডিকেলের কলঙ্ক! টিসি দিয়ে বের করে দেয়া হউক ! '

একমাত্র প্রফেসর মাহবুব সেদিন ভেটো দিয়েছিলেন ........ প্রিন্সিপালের অন্তীম ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিলেন, বলেছিলেন - ' টিসি দিয়ে দিলে ওরা আরো হতাশ হয়ে যাবে ........ , প্রত্যেকটা ছাত্রই ক্রীম স্টুডেন্ট ....! এম্নি এম্নি DMC তে টিকে নাই ওরা l আমি ওদের সুযোগ দিতে চাই ......... one and only chance ! ওরা একবার ফেল করেই হতাশ হয়ে গেছে l কারণ জীবনে ফেল জিনিসটার স্বাদ ওরা কোনোদিনই পায়নি l পাশ করলে ওদের এই হতাশা আর থাকবে না , কেটে যাবে l '

কেটে গিয়েছিলো ওদের হতাশা ........, সবাই আজ প্রতিষ্ঠিত l স্যার ওদের তিনজনকে নিয়ে লং ড্রাইভে গিয়েছেন ...... , বয়েসের এতো ব্যবধান হবার পরও রাতবেরাতে ওদের কে সময় দিয়েছেন ......, মোটিভেট করেছেন এবং তিনি শতভাগ সফল হয়েছেন l তিনজনের একজনও আজ সিগারেট ই খান না l 

অনেক দিন বেঁচে থাকুক আমাদের প্রিয় স্যার টা .......... ভালো রাখুক তাঁকে আল্লাহ ll

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত