১১ মে, ২০১৭ ০১:৫১ পিএম
‘অটিজম ব্যবস্থাপনায় পরিবার ও মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা

সময়মত শিশুর অটিজম শনাক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ চাই

সময়মত শিশুর অটিজম শনাক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ চাই

দেশে শতকরা একভাগ শিশু প্রতিবন্ধিতার শিকার। তাদের প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য যেমন আলাদা; তেমনি তাদের প্রতিভাও ভিন্ন। সঠিক সময়ে শিশুর অটিজম শনাক্তে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকরা এই শিশুদের নিয়ে সমাজে কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার ভিত্তিতে গণমাধ্যম সচেতনতার বিষয়ে কাজ করবে। এ বিষয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অটিজম ব্যবস্থাপনায় পরিবার ও মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ফেইথ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে সভায় অটিজম আক্রান্ত শিশুর বাবা-মা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকরা গণমাধ্যমের কাছে কি চান? এমন প্রশ্নের জবাবে একজন অভিভাবক বলেন,‘প্লিজ আমাদের বাচ্চাদের ‘প্রতিবন্ধী’ বলবেন না। ওরা প্রতিবন্ধী নয়; এই শব্দটা আমরা শুনতে চাই না’। তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ভর্তি নেয়ার কথা থাকলেও, সব স্কুল তা মানছে না। 

তরী ফাউন্ডেশনের পরিচালক মারুফা হোসেন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতিভা যে এক রকম হবে তা নয়; কেউ হয়তো ভালো ছবি আঁকতে পারছে, কেউবা টয়লেট ক্লিনিং করতে পারছে—সেটাও ওই শিশুর জন্যে একটা সাফল্য বলে খুশি থাকতে হবে। 

ড. উম্মে শারমিন আক্তার বলেন, স্কুলে এই শিশুদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে, তা স্কুলের শিক্ষকদের জানতে হবে। তিনি বলেন, স্কুলে যে দিন কোনো অনুষ্ঠান থাকে, সেদিন আমার বাচ্চাকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে দেন; আমাকেও জানিয়ে দেন, ‘ওইদিন স্কুলে প্রোগ্রাম আছে, ওকে যেন নিয়ে না আসি’!

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেন, অটিজমে আক্রান্ত প্রত্যেক শিশুর বৈশিষ্ট্য আলাদা। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের বলতে হবে, আপনারা কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আপনারা কি ধরনের সচেতনতা চান গণমাধ্যমের কাছে। তিনি বলেন, গবেষণা করার জন্যে ফান্ড আছে কিন্তু ‘অটিজম’ বিষয়ে গবেষণা করতে গত পাঁচ বছরে কোনো টাকা খরচ হয়েছে কি-না; সে বিষয়গুলোও তুলে আনতে হবে গণমাধ্যমকে।

ডা. আইরিন বলেন, প্রতিবছর যেমন টিকা দিবস পালন করা হয়, তেমনি প্রতিটি শিশুর অটিজমের মাত্রা শনাক্তের জন্য সরকারি উদ্যোগ থাকা জরুরি। এটা হলে সহজে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্যে করণীয় বিষয়গুলো অভিভাবক জানতে পারবে এবং আড়াই/তিন বছরে শিশুর অটিজম শনাক্ত হবে।

অধ্যাপক ডা. শারমিন ইয়াসমিন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্যে কেবল মাকে নয়, বাবাকেও কোয়ালিটি সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুলে সপ্তাহে অন্তত একদিন বিশেষ শিশুদের জন্য সুযোগ রাখার। তিনি বলেন, অভিভাবকদের কাউন্সিলিং দরকার। কারণ এই শিশুদের অভিভাবকরা ভালো থাকলে তাদের সন্তানটিও ভালো থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্র্াস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ গোলাম রব্বানি। শুরুতে অটিজম ব্যবস্থাপনায় পরিবারের ভূমিকা নিয়ে উপস্থাপনা করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলালউদ্দিন আহমেদ। মিডিয়ার করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিক নুরুল ইসলাম হাসিব। ফেইথ বাংলাদেশ-এর চেয়ারপার্সন নিলুফার আহমেদ করিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোঃ ফারুক আলম, আইসিডিডিআর,বি’র ট্রেনিং ইউনিটের প্রধান ডা. আফতাবউদ্দিন, সাহিক-এর পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সামাদ। বিশেষ আলোচক ছিলেন আরিফ আর হোসাইন ও সাংবাদিক শিশির মোড়ল, বাংলাদেশ থ্যাপাপি বিভাগের প্রধান নবাগত দাস, স্পীড অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট সাদিয়া আফরিন শামা, সৈয়দা তাসকিয়া সুলতানা, ইসরাত আলম, ক্লিনিক্যাল অকুপেশনাল থেরাপিষ্ট হুমায়রা উম্মে সালমা প্রমুখ।

সূত্র: ইত্তেফাক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি