ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


১০ মে, ২০১৭ ০৯:৫৬ পিএম

চিকিৎসকদের হতাশাঃআমেরিকার চিত্র।

চিকিৎসকদের হতাশাঃআমেরিকার চিত্র।

আপনি যদি একজন তরুণ ডাক্তার হয়ে থাকেন এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডাক্তার হিসেবে ভুল দেশে জন্মগ্রহণ করার আক্ষেপে ভুগেন, তাহলে এই তথ্যগুলো আপনার জন্য।

১।আপনি যদি একজন পুরুষ চিকিৎসক হয়ে থাকেন এবং চারপাশে সাদা এপ্রোন পরিহিত বিপরীত লিংগের ক্রমবর্ধমাণ উপস্থিতিতে বিব্রত হয়ে থাকেন, তাহলে শুনুন, এই চিত্রটি কেবল বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের।১৯৭৭ সালে মেডিকেল স্কুলে পড়ুয়াদের বিশ শতাংশ ছিলো মেয়ে।এখন এই সংখ্যা সব দেশেই পঞ্চাশ শতাংশের বেশী।
২।শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর সব দেশেই ডাক্তারদের মধ্যে বেড়ে চলেছে পার্ট টাইম ওয়ার্ক।এমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশনের হিসেব অনুযায়ী, ২০০৫ সালে পুরুষ চিকিৎসকদের মধ্যে ৭ শতাংশ এবং মেয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে ২৯ শতাংশ পার্ট টাইম ওয়ার্কের সাথে জড়িত ছিলেন।২০১১ সালে এই হার বেড়ে দাড়িয়েছে যথাক্রমে ২০ এবং ৪৪ শতাংশ।
৩।এমেরিকান ফিজিশিয়ান সার্ভে জানাচ্ছে, ২০১২ সালে তাদের জরিপ অনুযায়ী ২৩.৪ শতাংশ চিকিৎসক জানান, তারা যদি পুনরায় সুযোগ পেতেন, তাহলে ক্যারিয়ার হিসেবে চিকিৎসাকে বেছে নিতেননা।আগের বছর এই সংখ্যা আরো দুই শতাংশ কম ছিলো।
৪।অধিকাংশ চিকিৎসক তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত করছেন।২০১২ সালে মাত্র ২৭ শতাংশ চাচ্ছেন, তাদের সন্তানরা চিকিৎসক হোক।
৪। একজন নতুন চিকিৎসকের ক্যারিয়ার শুরুর সময় গড় ঋণের পরিমান প্রায় ১৫০০০০ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা এক কোটির উপরে।
৫। মাত্র ১৯ শতাংশ ডাক্তার জানাচ্ছেন, তারা তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সুখী।

চিকিৎসা পেশা পৃথিবীর সব দেশেই একটা টাফেস্ট জব।উপরের তথ্যগুলোর অধিকাংশই এমেরিকার হিসেব, যা ডাক্তারদের কাছে এক স্বপ্নরাজ্যের মতো।আমাদের চিকিৎসা পেশার সার্বিক নৈরাজ্যের মধ্যেও হতাশ হওয়ার আগে এই তথ্যগুলো স্মরণ রাখা আমাদের তরুণ ডাক্তারদের জন্য বড়ই জরুরী।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত