ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল

হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ।


০৯ মে, ২০১৭ ১২:১৫ পিএম

খবরটা কি একটু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছে দেওয়া যায়?

খবরটা কি একটু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছে দেওয়া যায়?

খবরটা কি একটু প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছে দেওয়া যায়? অথবা নীতিনির্ধারক কারো কানে?

বাংলাদেশের ১০% মানুষ জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে বহন করছে থ্যালাসেমিয়ার জিন। এরা বাহক। অধিকাংশ বাহকেরা জানতেও পারেনা যে তারা বাহক।

দুজন বাহকে বিয়ে হয়ে গেলে সর্বনাশ। সম্ভাবনা থাকে এদের পঁচিশ শতাংশ বাচ্চা থালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবে, পঞ্চাশ শতাংশ হবে ক্যারিয়ার।

আবার ধরুন একই বংশের দুজনের মধ্যে বিয়ে হলেও বিপদ। মানে কাজিনদের মধ্যে। রক্তের সম্পর্কের হওয়ায় এরা হয়ত দুজনই নিজেদের ভেতর একই ধরনের সুপ্ত জিন বহন করছিল। সুপ্ত সুপ্ত মিলে প্রকট হয়ে গেল। ঘটনা একই।

বাংলাদেশে প্রতিবছর দেড় হাজার বাচ্চা থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আগামি পঞ্চাশ বছরে থ্যালাসেমিয়ার রোগী দ্বিগুন হয়ে যাবে। ব্যাপারটার ভয়াবহতা কি আমরা বুঝতে পারছি?

প্রধানমন্ত্রীর কানে কেন দিতে বলছি? 
একটা প্রোগ্রাম হাতে নিলেই বড় একটা কাজ হয়ে যাবে। দেশের সব মানুষকে বিনামূল্যে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস করার একটা ব্যাবস্থা। বা শুধু স্কুল গুলোতে জাস্ট রক্তের রুটিন পরীক্ষার ব্যাবস্থা। কাদের নিরব এনিমিয়া আছে দেখে নেওয়া গেল ।

বা ধরুন শুধু জানানো বিষয়টা যে করতে হবে। ব্লাড গ্রুপের মত সব মানুষ জানুক তার হিমোগ্লোবিনের খবর। সে কি ক্যারিয়ার নাকি নিরব সাফারার?

এইটুকু হলেই হবে। দুজন ক্যারিয়ার বিয়ে করবেনা। বা যদি করেই ফেলে বাচ্চা পেটে আসলে ভ্রুনের পরীক্ষা করিয়ে নেবে। বাচ্চা যদি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয়, পৃথিবীতে তাকে এনে কষ্ট দেওয়ার থেকে ভ্রুণেই বিদায় জানানো।

এর জন্য সরকার, এনজিও, দাতা গোষ্ঠী সাহায্য দেবে।

আমার দাবীটা একটু বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ বছর পর থ্যালাসেমিয়া একটা জাতীয় দু:খ হয়ে যাবে।

সাইপ্রাসে এরকম হয়েছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী ছিল তাদের দেশে। তারা ঠিক উপরের পদ্ধতিতে কাজ করে এখন থ্যালাসেমিয়াকে নিয়ে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। 
বাংলাদেশেও সম্ভব।

বিষয়টা সবার জানা দরকার। সবাইকে জানানো দরকার। 
বাংলাদেশ ইপিআইতে সাফল্য পেয়েছে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও। এখানেও পাবে। 
 সেই একই পদক্ষেপ। বিজ্ঞাপন বানানো, প্রচার করা। কোন একজন সেলিব্রেটিকে দিয়ে বিষয়টা বলানো। 
স্কুল প্রোগ্রাম বা কলেজে শিক্ষকদের দিয়ে বলানো। এইসব আরকি।

শুধু একটা সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। 
৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।

থ্যালাসেমিয়াকে জানুন, অন্যকে জানান, ঐক্যবদ্ধ হোন, একটা সুন্দর আগামি গড়ে তুলুন।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত