ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


০৮ মে, ২০১৭ ১২:৫৬ পিএম

সরকারী হাসপাতালে ভিআইপিদের স্বাগতম!

সরকারী হাসপাতালে ভিআইপিদের স্বাগতম!

রমনা পার্কে ভিআইপি সচিব আমলারা দৌড়াতে আসেন। বিদেশী অনেক নাগরিককেও দেখা যায় এখানে ব্যায়াম করতে। তাই দেখলাম এই পার্কের বাথরুম গুলো ঝকঝকে পরিষ্কার; ময়লা আবর্জনাও তেমন চোখে পড়ে না। অথচ অন্য পার্কে এমন আশা করাও বাতুলতা। এটা এমনি এমনি না। ভিআইপিদের চাপে তদারকিটা ভালো করে করা হয় বলেই এতো পরিচ্ছন্ন থাকে পার্ক।

সরকারী হাসপাতালগুলোতে যদি বড় বড় আমলা আর রুই কাতলাদের চিকিৎসা নেয়ার কালচার তৈরী করা যায় তবে এখানেও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া সময়ের ব্যাপার। নিজেরা চিকিৎসা নিতে এসে যখন তারা নানা অনিয়ম আর সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন তখন এ ব্যাপারে মনোযোগ দিতে বাধ্য হবে।

যখন যুগ্ম সচিব চিকিৎসা নিয়ে এসে দেখবেন হাসপাতালের গেট থেকে ট্রলি ম্যানেজ করে ওয়ার্ডে ঢুকতেই তিনশো টাকা পকেট থেকে নাই হয়ে গেলো, এমন কি যতোবারই ট্রলি লাগে প্রতিবারই এই অবস্থা! তখন দেখা যাবে তার নেয়া উদ্যোগে পরদিনই ট্রলি বাণিজ্যকারী সিন্ডিকেটের পেটে মোচর দেয়া শুরু হয়ে গেছে। যখন সচিব সাহেব দেখবেন দুপুর বারোটার পর আর প্যাথলজী কাউন্টারে ইনভেস্টিগেশন এর স্যাম্পল নেয়া হয় না। একটা এক্সরে করাতে তিনঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তখন তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে ২৪ ঘন্টা ইনভেস্টিগেশন এর ব্যবস্থা করবেন।

ধরে ধরে একটা একটা করে অনিয়মগুলো দূর করতে পারলে একসময় সরকারী হাসপাতালগুলোই আদর্শ হয়ে উঠবে। বাড়তি বরাদ্দের কথা বলছি না লুটপাট ঠেকাতে পারলে এই খরচেই আরো অনেক ভালো চিকিৎসা দেয়া যায়। কিছু কিছু খাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এটি করে দেখিয়েছেন।

রথী মহারথীদের সরকারী হাসপাতালে স্বাগতম। নাক কুঁচকে একে ওকে গালাগালি করে হম্বি তম্বি করার জন্য না। একজন সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে কি পরিমাণ কষ্টের মধ্যে পড়ে তা বোঝার জন্যে আসুন। প্রোটকলের মহড়া নিয়ে নয়। একদিন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে চিকিৎসা নিতে লম্বা লাইনে এসে দাড়ান। দেখবেন গতকালের আপনার আর আর আজকের আপনার মধ্যে অনেক তফাৎ। আপনারও মন কাঁদবে মানুষের কষ্ট কমাতে কিছু করার জন্য।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত