ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬,    আপডেট ১১ ঘন্টা আগে
ডা. শামসুল আলম

ডা. শামসুল আলম

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চিকিৎসক,

সাবেক শিক্ষার্থী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট। 


০৭ মে, ২০১৭ ১২:২৫

ডাক্তারের ভালবাসার গল্প

ডাক্তারের ভালবাসার গল্প

আমি তখন সিলেট মেডিকেলের ফোর্থ ইয়ার student, একদিন মেডিসিন ওয়ার্ডে ক্লাস করতে গিয়ে দেখি, আমাদের এক ইন্টার্নি আপু রুগীর বেডের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন, একটু কাছে গিয়ে দেখি আমাদের সিমকি দি, আমার মনে হলো রুগীটা হয়তো দিদির কোনো আত্মীয়, পরে জানলাম আসলে কেউনা, উনার বেডের রুগী, বেশ কিছুদিন ধরে দেখছেন কিন্তু রুগীটাকে বাঁচানো গেলোনা, তাই দিদি কাঁদছেন।

দৃশ্যটা দেখে কয়েকজন হেসেছেন, বলেছেন "সিমকি একটা পাগল, এতো আবেগী হলে হবে ? বোকা মেয়ে "

আমি খুব মুগ্ধ হয়ে সিমকিদিকে দেখছিলাম, আরো ইন্টারেস্টিং হলো, দেখলাম রুগীর একজন আবার দিদির মাথায় হাত বুলিয়ে উনাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন।

কিছুদিন পর একদিন শুনি আমাদের সিমকিদি ডক্টরস ওয়ার্ডে ভর্তি, থানা হেলথ কমপ্লেক্সে গিয়ে এনকেফালাইটিস নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞান।

সময়টা ছিল ঠিক সন্ধ্যার একটু পর, ওয়ার্ডে গিয়ে দেখি, দিদিকে ঘিরে আমাদের সব স্যাররা বসে আছেন, আহবাব স্যার, প্রদ্যুত স্যার, মতিউর রহমান, ফয়সাল স্যার, ইসমাইল পাটোয়ারী, মোতাহার স্যার।

সবাই চেম্বার থেকে ছুটে এসেছেন, আলোচনা করছেন ,আহবাব স্যার দিদির মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, প্রদ্যুত স্যার বাবার মত হাত টা ধরে বসে আছেন স্যারের চোখের কোনে একটু জল, মনে হলো অভিমানী মেয়েকে বলছেন, "আমাদের ছেড়ে যাস না মা"

না, দিদিকে বাঁচানো যায়নি, পরদিন তিনি মারা যান।

আমরা ডাক্তার হিসেবে মানুষের প্রতি যে ভালোবাসাটা দেখাই, প্রায়ই তার প্রতিদান পাইনা, অভিমান হয়... কিন্তু আসলেই কি তাই ?

আপাতদৃষ্টিতে তা মনে হলেও আসলে কিন্তু আমরা ঠিকিই পাই, সিমকিদির মৃত্যুর সময়টা তাই বলে. আজ না পেলেন কাল ঠিকিই পাবেন, সারা জীবন না পেলেও মৃত্যুর সময় পাবেন আর তা না হলে মৃত্যুর পর প্ৰতিদানতো রইলোই।

এইযে একযুগ পর সিমকি-দি'কে স্বরন করছি, এটাই দিদির প্রতিদান।

ভালোবাসা ফিরে আসেই........

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত