ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী

শিশুর অটিজমের জন্যে আপনি কোথাও ঘুরতে যাবেন না, তা কিন্তু ঠিক নয়

অটিস্টিক শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া

আপনার অটিস্টিক (বিশেষ) শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যাবার কথা ভাবছেন? শিশুর অটিজমের জন্য আপনি কোথাও ঘুরতে যাবেন না, তা কিন্তু ঠিক নয়। যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে আপনিও আপনার অটিস্টিক শিশুকে নিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন।

ভালো পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলে, তা আপনার শিশুর সাথে সাথে আপনাদের জন্যও আনন্দর ব্যাপার হতে পারে। যে সকল বস্তু বা খেলনা বা বিষয় আপনার শিশুকে শান্ত রাখে বা সে উত্তেজিত হয়ে গেলে তাকে শান্ত করে- সেগুলোকে আপনার ভ্রমণ প্রস্তুতির তালিকায় রাখতে হবে- এটি হচ্ছে প্রথম কাজ।  

আপনার অটিস্টিক শিশুকে নিয়ে বাইরে কোথাও বেড়াতে যাবার সময় কি কি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার- সে সম্পর্কে কিছু ধারণা নেওয়া যাক। লেখাটি লিখেছেন- বোরহান মাহমুদ

প্রতীকী চিত্র

১। আপনি আপনার শিশুর অভ্যাস, পছন্দ এবং ধরন সম্পর্কে যত জানবেন, ততই আপনার প্রস্তুতি পরিকল্পনা ভালো হবে। আপনার শিশুকে ম্যানেজ করার জন্যে যে সকল ছোট ছোট খেলনা বা বস্তু বা বিষয় আপনার কাজে লাগে সেগুলোর তালিকা করুন। উদাহরণস্বরূপ, এমন দেখা যায় যে আপনার শিশুটি কান্না শুরু করলে বা কোনো কারণে উত্তেজিত হয়ে গেলে কোনো সুনির্দিষ্ট খেলনা বা কোনো মিউজিক তাকে শান্ত করে। এগুলো ভ্রমণের সময় আপনি সাথে নিয়ে নিতে পারেন। একই সাথে আপনি আপনার অটিস্টিক শিশুকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কিভাবে ম্যানেজ করবেন, সেগুলোর পরিকল্পনাপূর্বক ব্যবস্থাপনার ছক মনে মনে ঠিক করে নেবেন। এগুলো ভ্রমণকালীন সময় আপনার উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখবে।  

২। আগাম পরিকল্পনা আপনার ভ্রমণকে উদ্বেগহীন এবং আনন্দপূর্ণ রাখবে। অটিস্টিক শিশুরা সাধারণত দৈনন্দিন রুটিনের ব্যত্যয় পছন্দ করে না। দৈনিক রুটিনের হেরফের ঘটলে তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, নার্ভাস হয়ে যায়, ক্ষেত্রবিশেষে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। শিশুর এ আচরণ আপনার জন্যও স্ট্রেসফুল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।  

প্রতীকী চিত্র

ধরুন আপনার শিশু একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট মেন্যুর স্ন্যাক্স খায়। বাইরে বেড়ানোর সময় শিশুর খাবারের সময় হয়ে গেলে ওই সময় আপনার শিশুকে দেওয়ার জন্যে নির্দিষ্ট স্ন্যাক্সটি একটি বক্সে নিয়ে নিন। অনভ্যস্ত পরিবেশে নিজের পছন্দর খাবার পেলে তা তাকে আশ্বস্ত রাখবে।  

আপনার আগাম পরিকল্পনায় আপনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে আগে থেকেই রুম বুক করে রাখবেন, সেখানে যাতায়াতের জন্যে গাড়ির প্রয়োজন হলে তাও আগাম বুক করে রাখুন। আপনার শিশুকে নিয়ে হোটেলে হোটেলে রুম খোঁজা, সিঁড়ি বা লিফট ধরে ওঠানামা- এগুলো তাকে বিরক্ত করতে পারে। পথে খাবারের সময় হয়ে গেলে কোথায় খাবেন তাও ঠিক করে রাখুন। আবার এমন করবেন না যে, শিশুর দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজে সারাদিন না খেয়ে থাকলেন। এটি কখনোই করবেন না; কারণ, নিজে ক্ষুধার্ত থাকলে অন্য কারো সমস্যার দিকে আপনার মনোযোগ দেওয়ার সক্ষমতা বিঘ্নিত হয়।

৩। বেড়াতে যাবার সময় আপনি আপনার অটিস্টিক শিশুর কথা বিবেচনা করে অনেক জিনিস সাথে নেবেন না। যেটুকু না হলেই নয়, তার মধ্যেই থাকার চেষ্টা করুন। কারণ, বেড়াতে গিয়ে আপনি আপনার শিশুর নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনার দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি অনেক লাগেজ বহন করার পরিস্থিতি তৈরি করে রাখলে শেষে দিকে তাল হারাতে পারেন। কারণ, ভ্রমণে এতসব কিছু সামলাতে গেলে আপনি কোনোটাই ঠিকভাবে করতে পারবেন না। আর ভুললে চলবে না যে আপনি আপনার বিশেষ শিশুটির জন্যও ভ্রমণে এসেছেন।

৪। টেকনোলজি আপনার বন্ধু (যতক্ষণ তাতে চার্জ থাকে)। আপনার স্মার্টফোনটিকে সত্যিকারের স্মার্ট বানিয়ে রাখুন। যেখানে যাচ্ছেন সে এলাকার প্রয়োজনীয় সব কন্ট্যাক্ট নম্বর থেকে শুরু করে দিনভিত্তিক ট্যুর প্ল্যানটিকে সেখানে সংরক্ষণ করুন। এতে আপনি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে 'আজ কী করা যায়'- এ ধরনের ভাবনা থেকে মুক্ত থাকবেন এবং আপনার শিশুর দিকে পূর্ণ মনোযোগ রাখতে পারবেন।  

৫। যে এলাকায় যাচ্ছেন সেখানে অটিজম ম্যানেজ করতে পারে এ ধরনের কোনো ডাক্তার, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থাকলে তার বিস্তারিত নাম ঠিকানা সাথে রাখুন। ভ্রমণকালীন সময় আপনার শিশুর যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে এদের সাপোর্ট দরকার হতে পারে।

৬। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে জানিয়ে দিন যে আপনার শিশুটি অটিস্টিক। ধরুন, যে হোটেলে উঠছেন, সে হোটেলের রিসেপশনে এ তথ্যটি জানিয়ে রাখুন। এটি আপনাকে প্রকারান্তরে সাহায্য করবে। কারণ, হোটেলে আপনার শিশুটি চিৎকার করলে বা রুমে কান্না করলে অন্যান্য বোর্ডার যদি কোনো অভিযোগও করে, তখন হোটেলকে আগাম জানিয়ে রাখলে তা আপনার জন্যে বিব্রতকর হবে না।

প্রতীকী চিত্র

মনে রাখবেন, কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনাই পারফেক্ট নয়। খুব ভালো ট্রাভেল প্ল্যানেও বিব্রতকর পরিস্থিতি হতে পারে ও হয়ও। তবে আপনার নিজের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি ভালো থাকলে আপনি সাধারণত নির্বিঘ্নে আপনার অটিস্টিক শিশুর জন্যে আনন্দজনক একটি ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পারবেন।

সবাই ভালো থাকুন।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর