ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

ক্যারিয়ার ইন রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং

সম্প্রতি অনেকেরই ইন্টার্নী শেষ হয়েছে। এখন ক্যারিয়ার নিয়ে মাথায় যে প্রশ্নটি  ঘুরে ফিরে বারবার আসছে তা হল  ক্যারিয়ার গড়বো কোন সাবজেক্টে? যারা এর মধ্যেই নিজের কাঙ্খিত লক্ষ্য ঠিক করতে পেরেছেন তারা অবশ্যই কিছুটা এগিয়ে গেছেন। তবে এ সংখ্যা খুব বেশী নয়। বরং শত সাবজেক্টের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছেন এরকম দোদুল্যমানদের সংখ্যাই বেশী। 

কোন সাবজেক্টে যাবেন? সত্যিই এক কঠিন প্রশ্ন। ইন্টার্নীর একটি বছর রোগ, রোগী আর চিকিৎসা এই তিন অনুষঙ্গের সাথে ওৎপ্রোতভবে জড়িত থাকার কারণে ক্লিনিক্যাল ফিল্ডের প্রতি ভালোলাগা তৈরী হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক। ডাক্তার মানেইতো রোগী দেখা, চেম্বার করা আর ঔষধ প্রেসক্রাইব করা, তাই তো? কিন্তু এর মাঝেও অনেকেই আছেন যারা একটি বছর এই ক্লিনিক্যাল ফিল্ডের সমুদ্রে অবগাহন করেও ঠিক যেন মানিয়ে নিতে পারেননি। উফ! এত চাপ? আর যেন সহ্য হয় না। রাত দিন সবসময় রোগী ম্যানেজ  করা এ কাজ আমার দ্বারা আর সম্ভব নয় বাবা! নাইট ডিউটির নির্ঘুম রাতগুলির পুনরাবৃত্তি আর চাই না- এমনই যাদের চিন্তাভাবনা তাদের জন্য ক্যারিয়ার গড়ার সুন্দর একটি উপায় হতে পারে  রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং । এতে যেমন রয়েছে রোগ নির্ণয়ের স্বস্তি তেমনি রয়েছে হাসপাতাল কেন্দ্রিক অতিরিক্ত চাপ থেকে মুক্ত থাকার সুবর্ণ সুযোগ।
 

 রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং কি ?
এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারনা নেই। অনেকেই বিষয়টিকে এক্স-রে'র মধ্যেই সীমাবদ্ধ মনে করেন অথচ বর্তমানে রোগ নির্ণয়ে বিশাল একটি ক্ষেত্র নিয়ে ত্রাতার ভূমিকায় অবতির্ণ হয়েছে রেডিওলজি এবং ইমেজিং বিষয়টি। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাতেও ক্রমেই ক্ষেত্রটির অংশগ্রহন বাড়ছে। তৈরী হচ্ছে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ারের নিত্য নতুন দিগন্ত। প্রায়োগিক দিক থেকে সাবজেক্টটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১. ডায়াগনস্টিক রেডিওলজিঃ এই ক্ষেত্রের একজন ডাক্তার রেডিওলজি ইমেজিং এর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে রোগ নির্ণয় করে থাকেন। বর্তমানে এ বিষয় সম্পর্কিত প্রচলিত রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তি গুলো হলো 
* আলট্র্রাসনোগ্রাফী 
* এক্স-রে
* সিটি স্ক্যান : (Computed Tomography Scan)
* এম আর আই: (Magnetic Resonance Imaging)
* PET স্ক্যান : (Positron Emission Tomography Scan)
* ম্যামোগ্রাফী : Low energy X-Ray, যা ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
*   বোন স্ক্যান, থাইরয়েড স্ক্যান প্রভৃতি

২. ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিঃ

ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নূন্যতম বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় (minimal invasive procedure) রোগ নির্ণয় ও রোগের চিকিৎসার যে পদ্ধতি সেটাই ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি নামে পরিচিত। চার্লস ডটারের হাত ধরে মেডিকেল সাইন্সের এই তুলনামূলক নতুন শাখাটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এর বিস্তৃতি বেড়েই চলছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফী/CT গাইডেড FNAC, এনজিওগ্রাম কিংবা ডিজিটাল সাবস্ট্রাকশন এনজিওগ্রাম (DSA)- এই ইন্টারভেনশনগুলো এখন আমাদের দেশেও বেশ পরিচিত। উন্নতবিশ্বে রোগের চিকিৎসায় ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।

উদাহরণস্বরূপ: 
*   সংকুচিত রক্তনালীকে প্রসারিত করা (Baloon Angiogram)
*   স্টেন্ট ব্যবহার করে বন্ধ রক্তনালীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা (stenting)
*   Pulmonary Embiolism এর চিকিৎসা
*    Vericose vein এর চিকিৎসা ।
*    টিউমার এবলেসন ও ক্রায়োথেরাপী
*    ভার্টিব্রোপ্লাস্টিসহ আরোও অনেক রোগের চিকিৎসা এখন ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজির মাধ্যমে করা হচ্ছে।

কোর্স এবং ডিগ্রী সমূহ :
বাংলাদেশে রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং এ MD রেসিডেন্সি প্রোাগ্রাম এবং ফেলোশিপ (FCPS) চালু আছে। এছাড়াও MRCP এবং আরো কিছু ডিগ্রী অর্জন করার সুযোগ আছে। 

১. MD রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম :
এটি পাঁচ বছর মেয়াদী কোর্স। Phase-A এবং Phase-B এই দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মূলত বেসিক সাবজেক্ট থেকেই বেশী প্রশ্ন থাকে। কোর্সটি BSMMU এর সার্জারী বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়।
 বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব কোর্সের  আসন সংখ্যা নিম্নরুপ-


প্রতিষ্ঠানের নাম       সরকারী    বেসরকারী
বিএসএমএমইউ        ০৪         ০৩
ডিএমসি                 ০৩         ০৩
এসএসএমসি            ০২         ০২
এসওএমসি              ০৩         ০৩
বারডেম                  নেই         ০৩


২. ফেলোশিপ (FCPS) প্রোগ্রামঃ 
প্রতি বছর জানুয়ারী এবং জুলাই মাসে FCPS Part- 1 পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩ বছর ট্রেনিং এবং এক বছর কোর্স অথবা ৪ বছর ট্রেনিং করার পর FCPS Part- 2 পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা যায়। Part-1 পাশ করার পূর্বে সর্বোচ্চ ১ বছরের ট্রেনিং গ্রহনযোগ্য।

রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বর্তমানে খ্বুই সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। এ সেক্টরে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে শুধু দেশে নয় দেশের বাহিরেও স্কলারশিপ সহ পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার সুযোগ রয়েছে। যেমন University of North Carolina, Sanhills Community College প্রভৃতি। যেহেতু এই ক্ষেত্রটি বেশ ব্যয়বহুল ও পরবর্তীতে রয়েছে যথেষ্ট আয়ের প্রতিশ্রুতি তাই এই ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে একটু বেশীই কাঠখড় পোড়াতে হয়। তবে তা একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা গবেষণামূলক প্রকল্পে কাজ করার সুযোগও রয়েছে এই বিষয়ে।

দেশে ও দেশের বাইরে রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রয়েছে দারুণ কদর। উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করার পর দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বড় মাপের প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে কাজ করার অবারিত সুযোগ রয়েছে এ সেক্টরে। এছাড়াও এ বিষয়ে শিক্ষকতার সুযোগতো আছেই। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও এ বিশাল ক্ষেত্র বিশালতর হচ্ছে প্রতিদিন।
 

লেখক : ডা. আব্দুলাহ ওমর নাসিফ

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৫, বর্ষ ২, জুন-জুলাই ২০১৫ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর