অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক 

 


০৬ মে, ২০১৭ ১২:১৯ পিএম

ডায়াবেটিস : সারা জনমের রোগ

ডায়াবেটিস : সারা জনমের রোগ

 

মানুষের কিছু কিছু অসংক্রামক দীর্ঘস্থায়ী রোগ দেখা দেয়, তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম । সোজা কথায় ডায়াবেটিসে একবার আক্রান্ত হলে সারাজীবন এই রোগ পালতে হবে । তাই সবচেয়ে সহজ উপায় হল এই রোগ যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা । আর কেউ যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েই থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই জানতে হবে এর নিয়ন্ত্রণ কিভাবে করতে হবে, না করলে কি কি জটিলতা হবে ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, একবার জটিলতা হয়ে গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত দুরুহ।

ডায়াবেটিস নামক ঘাতক রোগটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সারা পৃথিবীতে ২৮৫ মিলিয়ন মানুষ নিরব ঘাতক ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত এবং এর শতকরা ৭০ ভাগই দরিদ্র ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ৷ ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

আগে মানুষের গড় আয়ু ছিল অনেক কম। কলেরা, ডায়রিয়া, বসন্ত ইত্যাদি সংক্রামক রোগের আক্রমণে মানুষ মারা যেত বেশি, উজাড় হতো গ্রামের পর গ্রাম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি, উন্নততর চিকিৎসা, নিরাপদ পানি ও খাদ্যের সরবরাহ, বিভিন্ন রোগের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে সংক্রামক ব্যাধি থেকে আমাদের যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি এখন হয়ে উঠেছে বড় ঘাতক। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে খুব দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। মানুষের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম কমে যাচ্ছে, মানসিক চাপ বাড়ছে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হচ্ছে ইত্যাদি কারণে আনুপাতিক হারে ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। অধিক ক্যালরিসমৃদ্ধ ও অধিক চর্বি শর্করাজাতীয় খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস শিশু কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খেলার মাঠের অভাব, বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা বা খেলাধুলার সংস্কৃতির বিলোপ, টেলিভিশন আর কম্পিউটার গেম ও ফেসবুক, অলস জীবন, গাড়ি-লিফট-চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারের প্রবণতা। অনেক বাচ্চাদের বেলায় ছেলেবেলা থেকেই পড়াশোনার অত্যধিক প্রতিযোগিতা, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, খেলাধুলার প্রতি অনীহা বা পড়াশোনার ব্যস্ততায় সময়ের অভাব, মানুষকে আরো বেশি অলস জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তুলছে আর বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য রোগ ব্যাধি।

পল্লীগ্রামের শিশুদের ছেলেবেলার অপুষ্টি এবং বড় হয়ে শহরে অভিবাসনের পর অধিক পুষ্টির মন্দ চক্রও এখানে ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী। সর্বোপরি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বেশি সংখ্যায়। এই রোগ সনাক্ত হচ্ছে, যা কয়েক দশক আগেও এত সহজ ছিল না।

ডায়াবেটিসের কিছু টিপস : আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। কিনা অথবা ডায়াবেটিস হয়ে গেলে, তা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা বোঝার জন্য কিছু টিপস জেনে রাখুন। যে কোন সময় কিছু সন্দেহ হলেই দ্রুত রক্তের সুগারটি মেপে নিন।  

  • ডায়াবেটিসের মূল লক্ষণ যেমন অতিরিক্ত পিপাসা, ঘনঘন প্রস্রাব, রাত্রে উঠে প্রস্রাব করতে হয়, প্রচুর খিদে পায় ইত্যাদি।  
  • আপনি সব সময় সুস্থ ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ মনে হচ্ছে ওজন কমে যাচ্ছে, অথচ খাওয়া দাওয়া ঠিক মতোই চলছে এবং রুচি বা ক্ষুধাও বেশ বেশি, অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত।
  • যদি এমন হয় দ্রুত ওজন হারাচ্ছে শরীর, অথচ তার কোন চেষ্টা করা হয়নি। যেমন হাঁটাচলা, ব্যায়াম কিছুই হচ্ছে না বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণের কোন চেষ্টা চলছে না, অযথা অকারণে ওজন কমছে, তাহলে ধরে নিতে পারেন, রক্তের সুগার বেড়েও যেতে পারে।  
  • আপনি ভালো ছিলেন। অথচ বেশ কিছুদিন যাবত বাড়তি ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ করেন।  
  • বারবার ছােট খাট অসুখ হচ্ছে, যেমন ঘনঘন শরীরে ফোড়া হচ্ছে, বা প্রস্রাবে ইনফেকশন হচ্ছে, জিহবায় সাদা সাদা ক্যানডিডার আক্রমণ, মহিলাদের যৌনাঙ্গে ঘন ঘন ছত্রাক জাতীয় রোগের আক্রমণ ইত্যাদি।
  • কোথাও সামান্য কাটা ছেড়া বা ঘা হবার পর তা দ্রুত শুকাচ্ছে না।
  • পায়ে ঘা হওয়া বা পায়ের আঙ্গুলের মাঝে ছত্রাকের আক্রমণ।
  • কারণে অকারণে হাত পা অবশ হয়ে আসে বা ভারি ভারি লাগে। এগুলোকে মেডিক্যাল টার্মে নিউরোপ্যাথি বলে, যার অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস।
  • যারা গ্রামে গঞ্জে খোলা জায়গায় প্রস্রাব করেন, সেখানে দেখা যায় পিঁপড়া আসছে ।

 

 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত