ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী

যারা এফসিপিএস করতে চান

আপনার ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছে কোনটিতে ঠিক করেছেন কি? অনেক কিছু পড়লাম, অনেক কিছু জানলাম, সেটা বড় কথা নয়। পড়াটা লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল কিনা সেটাও দেখতে হবে। আর প্রথমে জানুন আপনাকে কোন বিষয় কতোটুকু পড়তে হবে। ধরুন, মেডিসিন এর কোনো ব্রাঞ্চে পরীক্ষা দিতে চাচ্ছেন, তাহলে আপনার প্রস্তুতি ও ইন্টারনাল মেডিসিনের প্রস্তুতির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আবার জেনারেল সার্জারী বা সার্জারী ফ্যাকাল্টির যে কোন ব্রাঞ্চে পরীক্ষা দিলেও প্রস্তুতি একই। 

এর বাইরে অন্যান্য ব্রাঞ্চগুলোতে ফাইনাল পার্টের আগে প্রিলিমিনারি নামে একটি পরীক্ষা দিতে হয় যা একটু কষ্টকর। আর হ্যা, ইন্টারনাল মেডিসিনে বা জেনারেল সার্জারীতে পার্ট-১ হলে একবছরের মধ্যে ৫০০/-ফি দিয়ে ব্রাঞ্চে ট্রান্সফার করতে পারবেন কিন্তু কোন ব্রাঞ্চে পার্ট-১ হলে ইন্টারনাল মেডিসিনে বা জেনারেল সার্জারীতে ট্রান্সফার করা যাবেনা।

যারা পেডিয়াট্রিকস, অবস-গাইনী, রেডিওলজি, রেডিওথেরাপি, অনকোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, সাইকিয়াট্রি বা বেসিক সাইন্স এ পরীক্ষা দেবেন তাদের পার্ট-১ এর প্রশ্ন এবং পার্ট-২ সব কিছুই আলাদা এবং কোন প্রিলি দিতে হবে না। পরীক্ষা দেবার বিশেষত্ব হচ্ছে এতে পার্ট-১ এর পর ট্রেনিং-কোর্স শেষে সরাসরি পার্ট-২ পরীক্ষা দিয়ে পাস করলেই কোর্স শেষ। 

দয়া করে সবার আগে আপনার বিষয়টির সিলেবাস জোগাড় করুন। বিসিপিএস এ পাবেন কিংবা বিএসএমএমইউ লাইব্রেরি বা আজিজ সুপার মার্কেটের নাজিম ফটোস্ট্যাটে পাবেন। 

ক) মেডিসিনঃ নতুন ডেভিডসনে দখল নিন, পুরাতনটি পড়া বোকামী হবে। কিছু জায়গা থেকে প্রশ্ন আসবেই। জেনে নিন। বেসিকের উপর চাই ভালো দখল; বিশেষ করে ফিজিওলজি। এফসিপিএস এর প্রস্তুতিতে এম.ডি কাভার নাও হতে পারে, সাথে চাই প্যাথলজি আর এনাটমিতেও দখল। 

খ) জেনারেল সার্জারীঃ বুঝে পড়ুন, খুঁজে পড়ুন। মুখস্থ করলে ধরা খাবেন। 'বেইলি এন্ড লাভ' এর বিশেষ অংশ সিস্টেমিক সার্জারীর ১২ নম্বরের জন্য জরুরী। বিশেষ স্থানগুলো থেকে বারবার প্রশ্ন আসে। বায়োস্ট্যাট, হসপিটাল ইনফেকশন, স্পেসিমেন এন্ড স্যাম্পলিং এর প্রশ্নগুলো চাইলেই আপনি সম্পূর্ণ উত্তর করে আসতে পারেন। ছোট বলে উপেক্ষা করবেন না। স্মিড্ডি, রড্ডি পাশে নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাবেন। এফসিপিএস এর প্রস্তুতিতে এম.এস কভার হবে।

গ) অবস-গাইনিঃ জেফকট-দত্ত থেকে অনেক প্রশ্ন আসে। এনাটমির একই রকম প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, তাই কমন জিনিস ভুল করলে মাথা কাটা যাবে। গাইনি-অবস রিলেটেড প্যাথলজি, ফার্মাকোলজির উপরেও রাখতে হবে শ্যেন দৃষ্টি। এফসিপিএস এর প্রস্তুতি এম.এস কাভার করবে। 

ঘ) পেডিয়াট্রিক্সঃ অ্যানাটমি-ফিজিওলজি-প্যাথলজি-মাইক্রো সবই লাগবে। পেডিয়াট্রিক্স সম্পর্কিত জেনারেল ও সিস্টেমিক প্রিপারেশন নিতে হবে। নেলসন মুখস্থ করতে পারেন, তবে সময় পার হতে থাকলে পার্ট-১ হবার আগে পার্ট-২ হয়ে যেতে পারে! 

ঙ) ইএনটি: জেনারেল প্যাথলজি-ফিজিওলজি-মাইক্রো বাদে অন্য কিছুর পন্ডিত হয়ে লাভ নেই। চান্স পেতে চাও ''নাক-কান গলা'' নিয়ে মাতো। রিলেটেড অ্যানাটমি-প্যাথলজি-ফার্মাকোলজি পড়তে হবে নির্দিষ্ট গাইড লাইন অনুযায়ী। মাথা-মুন্ডুর কিছুই বাদ দেয়া যাবে না। 

চ) রেডিওলজিঃ রেডিও ফিজিক্স এ ভালো প্রস্তুতি নেয়া ছাড়া প্লিজ টাকা নষ্ট করবেন না। ছয় মাস পর পর সাত হাজার টাকা বাঁচাতে পারেন! অ্যানাটমি-ফিজিওলজি-প্যাথলজি-মাইক্রো সবই লাগবে। সার্জারী ফ্যাকাল্টির অধীনে আপনার পরীক্ষা হলেও ডিগ্রী কিন্তু আপনার এম.ডি! এফসিপিএস এর প্রস্তুতি এম.ডি-ও কাভার করবে। 

ছ) এনেসথেসিয়াঃ অ্যানাটমি-ফিজিওলজি-প্যাথলজি-মাইক্রো সবই দরকারি। তবে আরো কিছু কৌশল অনুসরণ করতে হবে। ফিজিক্স আছে। নির্দিষ্ট বইগুলো দ্রুত জোগাড় করুন তাড়াতাড়ি। পড়া কিন্তু অনেক! 

জ) ডার্মাটোলজিঃ এমবিবিএস পাস করে ট্রেনিং এ ঢুকুন। এটা অবশ্যই জরুরি। ট্রেনিং পার্ট-১ কে করবে আরও সহজ। পৃথিবীর সব বেসিক আর মেডিসিন জেনে ভালো ফিজিশিয়ান হবেন, কিন্তু পার্ট-১ দেরী হয়ে যেতে পারে। বিষয়ানুগ প্রস্তুতি নিন। 

ঝ) রেডিওথেরাপি-অনকোলজিঃ আগে রেডিও ফিজিক্স এ দখল নিন। নাহয় টাকা নষ্ট হবে। অ্যানাটমি-ফিজিওলজি-প্যাথলজি-মাইক্রো সবই লাগবে। এমবিবিএস পাস করে আগে ঢাকা মেডিকেলে ট্রেনিং এ ঢুকুন। ট্রেনিং পার্ট-১ কে করবে আর সহজ-সাবলীল-সুগম। 

ঞ) অপথ্যালমোলজিঃ জেনারেল প্যাথলজি-ফিজিওলজি-মাইক্রো বাদে অন্য কিছুর বেশী লাগবে না। চোখে 'চোখ' রাখুন। অকুলার অ্যানাটমি-প্যাথলজি-ফার্মাকোলজিতে দুর্বল? সন্দেহ নেই বিসিপিএস বলবে, ধন্যবাদ! আবার আসবেন! 

ঠ) হেমাটোলজিঃ একটু ব্যতিক্রম। উল্টো পাল্টা না পড়ে আগে পড়ার টেরিটরি বুঝে নিন। হেমাটোলজি সম্পর্কিত পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে, ভালো দখল থাকতে হবে মেডিসিন-মাইক্রো বায়োলজি-প্যাথলজির উপর। প্র্যাকটিস রেফারেল বেজড কিন্তু পার্ট-১ করতে পারলে ভবিষ্যত ভালো, স্যাররা অনেক হেলপফুল। 

ড) ফিজিক্যাল মেডিসিনঃ সেকেন্ড পেপারে ফিজিক্যাল এজেন্ট আর ফিজিয়াট্রি অ্যানসার করতে গিয়ে সকলে কুপোকাত। আগে ট্রেনিং এ ঢুকলে ভালো। বিএসএমএমইউতে হলে বেস্ট। কিন্তু সমস্যা হলো অনারারী করতে ৬ মাসে ১২,০০০/- চাঁদা দিতে হবে। এফসিপিএস বেস্ট ডিগ্রি। 

ঢ) মাইক্রোবায়োলজিঃ এমফিল, এমডির জন্য অ্যানাটমি-ফিজিওলজি-প্যাথলজি-মাইক্রো সবই দরকারি। এফসিপিএস এর জন্য স্রেফ লেঞ্জ বইটা খেয়ে ফেলতে হবে!
 

লেখক : ডাঃ মুহিব্বুর রহমান রাফে, বি.এস.এম.এম.ইউ

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৬, বর্ষ ২, ডিসেম্বর-জানুয়ারী ২০১৬ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৮তম বিসিএস’র মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই

৩৮তম বিসিএস’র মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ৩৮তম বিসিএস’র মৌখিক পরীক্ষার প্রার্থীদের তালিকা ও তারিখ ঘোষণা করেছে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর