ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ

* আপনি কোন সাবজেক্টে ক্যারিয়ার করবেন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বেশী দেরি করবেন না। যত দেরি করবেন ততই পিছিয়ে যাবেন।  ইন্টার্নশীপের শুরুতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ খুব বেশী তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত যাতে না হয়, তাই কোন সাবজেক্টে যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, কি কি সম্ভাবনা, কি কি প্রতিবন্ধকতা আছে এসব কিছুর সন্তোষজনক জবাব গুছিয়ে নিতে হবে।

*  ইন্টার্নশীপের সময় আপনার বেডে যে রোগী থাকবে রোগটা ঐ সময় অন্তত একবার হলেও পাঠ্য  বই থেকে পড়ে  নিন। 

*  এখন এফসিপিএস/রেসিডেন্সির একটার প্রশিক্ষণ আরেকটাতে কাজে লাগানো যায় না। তাই যে কোন একটিকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু করুন। ট্রেনিং শুরু করলে প্রথমে প্যারেন্ট ওয়ার্ড দিয়ে শুরু করা ভালো এবং এক বছর পূর্ণ না করে ব্রাঞ্চ এ যাবেন না। এতে পরবর্তীতে ব্রাঞ্চগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে সুবিধা হবে। তাছাড়া ঐ এক বছরের প্রশিক্ষণ দেখিয়ে পরে প্রয়োজন মনে করলে এমসিপিএস পরীক্ষা  দেয়া যাবে।

*  ট্রেনিং এর লগ বইয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের স্বাক্ষর যথাসময়ে নিশ্চিত করবেন। অন্যথায় অধ্যাপক বা আপনি বদলি হয়ে গেলে বিপদে পড়বেন। 

*  ভালো প্রস্তুতি না নিয়ে পরীক্ষা না দেয়াই ভালো। এতে করে আর্থিক ও আত্মবিশ্বাসের অপচয় হয়। 

*  বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিলেই বুঝবেন কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সহায়ক বই গুলো থেকে এগুলো দেখলেই আপনার লিখিত এবং অসপি পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা হয়ে  যাবে। অবশ্য প্রস্তুতি নেবেন পাঠ্য বই থেকে।

*  রেসিডেন্সিতে আনুমানিক ৬৫% প্রশ্ন বেসিক সাবজেক্ট থেকে আসে। অর্থাৎ মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি, ফিজিওলজি ইত্যাদি। এফসিপিএস প্রথম পর্বে ঠিক তার উল্টো অর্থাৎ বেসিক থেকে আসে আনুমানিক ৩৫% প্রশ্ন। বাকিটা ক্লিনিক্যাল থেকে। 

*  অনেকে জানেনই না যে, এফসিপিএস/এমডি/এমএস এর জন্য থিসিস/ডিজারটেশন করা লাগে। এফসিপিএস এর ডিজারটেশনের জন্য বিসিপিএস তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেয়। আপনার প্রশিক্ষণ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ওই তিন দিনের প্রশিক্ষণ করে নিলে ভালো। এফসিপিএস এর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দুই বছর পূর্ণ হওয়া মাত্র ডিজারটেশনের কাজ শুরু করে দিবেন। এর জন্য আনুমানিক এক বছর সময় লাগে।

*  থিসিস/ ডিজারটেশন করতে হয় অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের অধীনে। জেলা সদর হাসপাতালে সিনিয়র কনসাল্টেন্ট এর অধীনে প্রশিক্ষণ করা যাবে কিন্তু সেখানে থিসিস করার ব্যবস্থা নেই।

*  সরকারি চাকরিতে থেকে প্রশিক্ষণের জন্য পোস্টিং নেয়ার পর তিন বছর পার হলে যে কোনও মুহূর্তে আপনার প্রশিক্ষণ পদ বাতিল করতে পারে কর্তৃপক্ষ। পরে এক বছরের কোর্স করতে হয়।

*  উপজেলাতে দুই বছর পূর্ণ না করে প্রশিক্ষণ পদে কখনই আসবেন না। অন্যথা পরবর্তীতে অনেক মাশুল দিতে হবে । অল্পতে সন্তুষ্ট থাকুন। 

*  চাকরিতে যোগদান করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপনার পিডিএস একাউন্ট খুলুন। যে কোন আবেদনের সাথে পিডিএস দিতে হয়। 

*  প্রত্যেক জানুয়ারিতে এসিআর জমা দিন। এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ। 

*  প্রশিক্ষণ পদে যাওয়ার আগেই ফাউন্ডেশন ট্রেনিং করা ভালো। সংশ্লিষ্ট তথ্য সমূহ এর ব্যাপারে সময়মত আপডেট জেনে নিবেন।

*  মহিলা ডাক্তারদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সম্ভব হলে সার্জারি বিশেষজ্ঞ হতে পারেন। এতে নারী রোগীরা অনেক উপকৃত হবে। 

*  একবার একটি বিষয় কোনো একটি পাঠ্য বই থেকে পড়লে  পরবর্তীতে কখনো ভুলে গেলে সেটি আবার ঐ বই থেকেই পড়বেন। নিজের দাগানো বই কখনো হাতছাড়া করবেন না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি Robins & Cotran জেনারেল প্যাথলজি বই থেকে একবার Tumor  maker মুখস্থ করে থাকে তাহলে পরবর্তীতে ভুলে গেলে ওই তালিকাটিই আবার পড়বেন। শুধু নতুন Tumor  maker আবিষ্কৃত হলে সেটা আলাদা করে মনে রাখবেন বা একটি আলাদা নোট করে নিবেন। 

*  পড়া মুখস্থ করার জন্য নিজের বানানো সূত্র কখনো ভুলে যাবেন না। বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর জন্য একটি আলাদা ব্যক্তিগত নোট তৈরি করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। সে নোটের মধ্যে থাকতে পারে নিজের বানানো সূত্র, আগে থেকে মুখস্থ করা বিচ্ছিন্ন বিষয় যেমন, Robins থেকে পড়া Tumor  maker চার্ট,  Rx of TB in special ইত্যাদি।  কিছু কিছু টপিক পরস্পর তুলনা করে পড়লে ভাল হয়।

*  এক বই থেকে সব কিছু পাওয়ার আশা করা যায় না। তাই কোন টপিক কোন বইয়ে ভাল তার একটি সংক্ষিপ্ত নোট রাখলে ভাল হবে। 

*  Medical Ethics Poisoning Psychiatry এগুলো থেকে মূলত লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। তাই লিখিত পরীক্ষার  জন্য এগুলোর প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে। 

*  ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতে ষড়হম পধংব এ  পরীক্ষকের খুব প্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রোগীর Clinical Feature of Failure আছে কি না, যেমনঃ  flaping tremor, bilateral plantar extensor বা liver failure এর ক্ষেত্র অতিরিক্ত হিসেবে Constructional apraxia আছে কি না, পরীক্ষার্থী সেটা দেখেছে কি না?

*  ক্লিনিক্যাল পরিক্ষাতে কোন প্রশ্নের  উত্তর জানা না থাকলে তাৎক্ষণিক  আত্মসমর্পণ করাই ভালো অথবা বলতে হবে এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। এতে করে সময় নষ্ট হবে না।

*  long case এ যে খাতাটি দেয়া হয়, সেটি প্রকৃত পক্ষে পরীক্ষক খুব ভাল করে দেখেন না। তিনি খেয়াল করেন আপনার উপস্থাপনা। তাই মনে মনে রোগীর ভহুটগপচ সাজিয়ে রাখবেন। কিছু ব্যাপার উল্লেখ না করলে ভাল ফলাফল তো দূরের কথা ফেল করার সম্ভাবনা অনেকটা নিশ্চিত। যেমন, কোন রোগীর Nephrotic Syndrome Suspect করলে অবশ্যই Heat Coagulation test  করার জন্য বলতে হবে।

* ‍Short Case এ আপনাকে যে পরীক্ষা করতে বলা হবে সেটার কোনো পয়েন্ট বাদ রাখা যাবে না। বিশেষ কিছু ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। Liver palpation করতে গেলে palpable হোক আর না হোক অবশ্যই Uper Border of Liver Dullness দেখতে হবে। ধনফড়সবহ বীধসরহধঃরড়হ করতে দিলে Abdomen Examintion দেখতে ভোলা যাবে না। Testicles বলার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তনগুলো নিজে থেকেই বলে দিতে চেষ্টা করবেন।  

*  পরীক্ষার হলে বয়োকনিষ্ঠ রোগীকে আদর করে ‘তুমি’ বলতে যাবেন না। এটা আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে। সব রোগীকে ‘আপনি’ করে বলুন। রোগীকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করার মুহূর্তে আপনার এবং রোগীর উভয়ের Comfortable Position অত্যাবশ্যকীয়। introduction, Greetings, Consent, right side, proper exposure, female attendend (if needed), adequate day light, temperature of your hand (specially in cold season.)  ইত্যাদির বেপারে ভুলবেন না।

*  পরীক্ষার আগে রোগী দেখার জন্য NICVD, NIDCH, NINS যাওয়া উচিত। সেখানে একসাথে বিভিন্ন রোগীর বিভিন্ন ভরহফরহমং গুলো তুলনা করে সহজে শেখা যায়। 

* Academic Corner এর Programe গুলিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করবেন। 

*  বেশী বেশী রোগী দেখুন। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে দেখুন। গাইতে গাইতে গায়েন। সাফল্যের সংক্ষিপ্ত কোন পথ নেই। তিলে তিলেই  দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

*  কেউ কেউ জানতে চান রেসিডেন্সি কোর্স নাকি আরো কঠিন করা হচ্ছে? যে কোনো কোর্স সময়ের সাথে আপডেট করাটাই স্বাভাবিক। সে নিয়ে চিন্তা করলে হবে কিভাবে? যতটা বলা হয় আসলে ততটা নয়। নিজে পরিশ্রম করতে থাকুন। সাফল্য আপনার পায়ে এসে ধরা দিবে। 

*  কেউ কেউ আলোচনা করে, আমরা এই মেডিকেলের পরীক্ষার্থীরা ওই মেডিকেলে পরীক্ষা দিতে গেলে পরীক্ষকেরা আমাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরই করবে না তো? মূলত এ ধরনের আশংকা অযৌক্তিক। নিজের Optimum Knowledge, Skill, Attitude থাকলে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পরীক্ষা দিলে এবং সেখানে পরিচিত কোন শিক্ষক কেউ না থাকলেও পরীক্ষার্থী পাস করবেন।

* যে কোনো প্রয়োজনে পরিচিত সিনিয়র ভাই/আপুর পরামর্শ নিন। তবে আপনার নিজের ব্যাপারে আপনার নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। 

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৭, বর্ষ ৩, এপ্রিল-মে ২০১৬ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৮তম বিসিএস’র মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই

৩৮তম বিসিএস’র মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ৩৮তম বিসিএস’র মৌখিক পরীক্ষার প্রার্থীদের তালিকা ও তারিখ ঘোষণা করেছে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর