ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মুভি রিভিউ: Concussion (2015)

পিটার ল্যান্ডসম্যানের পরিচালনায় একটি জীবনীভিত্তিক মেডিক্যাল-স্পোর্টস ড্রামা “Concussion ” মুভিটি। মূল চরিত্রে অভিনয়ে আছেন দু’বার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে নমিনেশন পাওয়া বিখ্যাত অভিনেতা উইল স্মিথ। এছাড়াও অভিনয় করেছেন অ্যালেক বাল্ডুইন, গুগু এম্বাথারাও, আরলিস হাওয়ার্ড, পল রেইজার প্রমুখ। 

ডক্টর বেনেট ওমালু (উইল স্মিথ) একজন নাইজেরিয়ান ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট। এমবিবিএসের পর ৮টি ডিগ্রী সম্পন্ন করা ওমালু পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গে একটি হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে কাজ করেন। একদিন ওমালুর অটোপসি টেবিলে ময়নাতদন্তের জন্য আসে ফুটবল টিম “পিটসবার্গ স্টিলারস” এর অবসরপ্রাপ্ত তারকা মাইক ওয়েবস্টারের লাশ। মাত্র ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণের আগে মাইকের আচরণে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা  গিয়েছিলো। মাইক পরিবার থেকে দূরে একটা পিকআপ ভ্যানে একা বাস করতো। অ্যামনেসিয়া, ডিমেনশিয়া, ডিপ্রেশন, মাংসপেশির প্রচন্ড ব্যাথা ছাড়াও অনেক অদ্ভুত আচরণ (যেমন তারপিন তেলে নিঃশ্বাস নেয়া) ছিল তার মধ্যে। সাধারণ টেস্ট বা সিটি স্ক্যানের পর আপাতদৃষ্টিতে মাইককে খুব স্বাভাবিক মনে হলেও ওমালুর কাছে মাইকের সমস্যাগুলো খুব অস্বাভাবিক লাগল। তাই নিজ পকেটের টাকা খরচ করে মাইকের ব্রেইন টিস্যু বায়োপসি করার জন্য পাঠালেন ওমালু। টিস্যু বায়োপসিতে খুব অদ্ভুত এবং অপরিচিত একটা প্রোটিনের আধিক্য পেলেন ওমালু। গবেষণার পর বেরিয়ে এল এক অজানা এবং অপ্রিয় সত্য। মানুষের মস্তিষ্কে কোন “শক অ্যাবসরবার” না থাকায় ফুটবল খেলার সময় খেলোয়াড়দের মাথায় বিভিন্নভাবে আঘাত লাগার ফলে মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারে এক বিশেষ প্রোটিনের পরিমান অত্যধিক বেড়ে যায়। টিস্যু অ্যানালাইসিস ছাড়া অন্য কোন ডায়াগনস্টিক টেস্টে এ অ্যানোম্যালি ধরা পড়ে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি হ্যালুসিনেশন, মেমোরি লস ও মস্তিষ্কের নানা সমস্যায় ভুগেন। ওমালু তার আবিষ্কৃত এই রোগের নাম দেন “ Choronic Traumatic Encephalopathy” বা সংক্ষেপে CTE.      

ফুটবলের খুব সামান্য জ্ঞান ছিল ওমালুর, তার চেয়েও অল্প জানতেন আমেরিকান ফুটবলের পেছনের অসামান্য শক্তিধর কর্পোরেট দুনিয়া সম্পর্কে। একজন নন-আমেরিকান হয়ে সম্পূর্ণ একা “ NFL” বা National Football League কে চ্যালেঞ্জ করা খুব একটা সহজ ব্যাপার ছিল না। আর এজন্য ওমালুর পরিবার, ক্যারিয়ার কিংবা ব্যক্তিজীবন কম বিপত্তির সম্মুখীন হয়নি। যতটুকু না ঈঞঊ আবিস্কারের গল্প, তার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ওমালুর চারিত্রিক দৃঢ়তা, নিষ্ঠা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, ত্যাগ আর সবকিছুর শেষে স্বীকৃতি পাওয়ার গল্প।     

বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্মিত হওয়ায় মুভির শেষে ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’ ধরনের একটা রেশ রয়ে যায়। অর্থাৎ CTE সমস্যার কোন সমাধান বা NFT এর কোন পরিবর্তন না দেখিয়ে ব্যক্তি ওমালুর “স্বীকৃতি” পাওয়াটাই যেন Concussion  এর চূড়ান্ত পরিণতি বা ন্বার্থকতা। 
উইল স্মিথ একাই মুভিটাকে টেনে নিয়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত। বক্স অফিসে খুব একটা সফলতার মুখ না দেখলেও অভিনেতা উইল স্মিথ বেশ কয়েকটি এ্যাওয়ার্ড জিতেছেন এই মুভির জন্য। টিপিক্যাল মহাশক্তিধর ভিলেন বনাম সুপারহিরোর গল্প না হলেও, মেডিকেল স্টুডেন্ট আর ডাক্তারদের কাছে Concussion খুব অনুপভোগ্য হবে বলে মনে হয় না। কোন এক অলস বিকেলে হাতে দু’ঘন্টা সময় থাকলে দেখে নিন Concussion  মুভিটি।

লেখক : ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা, সহকারী ডেন্টাল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হোমনা, কুমিল্লা

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৭, বর্ষ ৩, এপ্রিল-মে ২০১৬ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর