ঢাকা      মঙ্গলবার ২০, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারঃ ফাদার অব ট্রান্সফিউশন মেডিসিন

মানবদেহের রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন অস্ট্রিয়ান-আমেরিকান চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ‘ব্যাডেন বেই উইয়েন’ নামক শহরে ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের সময় ওনার বাবা লিয়োপোল্ড এর বয়স ছিল ৫০ বছর। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। তবে তার মা ফ্যানি হেস ছেলেকে বড় করে তোলেন পরম মমতায়। 

স্কুল জীবন শেষ করে তিনি ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনের উপর অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৮৯১ থেকে ১৮৯৩ পর্যন্ত রসায়নের উপর জ্ঞানার্জন করেন উজবার্গ, জুরিখ ও মিউনিখের বিখ্যাত শিক্ষকদের কাছে। এরপর দেশে ফিরে এসে যোগ দেন ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজিকাল-এনাটমিক্যাল পরিষদে। সেখানে ১৮৯৭ থেকে ১৯০৮ পর্যন্ত প্রায় দশ বছর এন্থন উইশেলবাম এর অধীনে সেরোলজি, ব্যাকটেরিয়োলজি, ভাইরোলজিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন। মজার ব্যাপার হল, এনাটমিক্যাল পরিষদের শিক্ষক হওয়ায় উনাকে অটোপসিও করতে হত। আর এই দশ বছরে উনি প্রায় ৩৬০০ টি অটোপসি করেছিলেন। 

সেরোলজি নিয়ে গবেষণা করার সময় ১৯০০ সালের দিকে তিনি দেখলেন, দুজন মানুষের রক্ত একত্রে মিশ্রিত করলে কখনো জমাট বাঁধে তো কখনো বাঁধে না! কি হতে পারে এর কারণ? এটি জানতে উঠে পড়ে লাগলেন এ গবেষক। এক বছরের মধ্যেই ১৯০১ সালে তিনি আবিষ্কার করলেন তিনটি রক্তের গ্রুপ -অ, ই, ঈ। পরবর্তীতে এই 'ঈ' কেই 'ঙ' নাম দেয়া হয়। তবে রক্তের রেসাস ফ্যাক্টর তখনো আবিষ্কার হয়নি। ১৯৪০ সালে আরেক বিজ্ঞানী উইনার এর সহযোগিতায় রেসাস বানর ও খরগোশের রক্ত পরীক্ষা করে তারা জয ভধপঃড়ৎ আবিষ্কার করেছিলেন। বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার সর্বপ্রথম রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করলেও তিনি প্রথম রক্ত পরিসঞ্চালন করেননি। ওনার আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে ১৯০৭ সালে সর্বপ্রথম রক্ত পরিসঞ্চালন করেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক ওটেনবার্গ।

১৯০৮ থেকে ১৯২০ পর্যন্ত ভিয়েনার উইলহেলমিন হসপিটালে গবেষণা করেন। সেখানেই ১৯১১ সালে তিনি সহযোগী অধ্যাপক হন। এরপর বিজ্ঞানী এরউইন পাপার এর সহযোগিতায় পোলিও ভাইরাসকে আলাদা করে এর সংক্রামক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পর অস্ট্রিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়ে। গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার মত কোন সম্ভাবনা দেখতে না পেয়ে তিনি নেদারল্যান্ডের হেগ-এ এসে একটি হাসপাতালে কাজ শুরু করেন। তবে সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থারও খুব একটা উন্নতি না হওয়ায় ১৯৩২ সালে ডা. সিমন ফ্লেক্সনারের প্রস্তাবে সপরিবারে নিউইয়র্ক চলে আসেন। বাকি জীবন এখানেই অতিবাহিত করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বেশ আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন। ১৯১৬ সালে হেলেন নামের একজন গ্রীক নারীকে বিয়ে করেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পুরষ্কার হল ১৯৩০ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি। এছাড়াও ১৯৪১ সালে তিনি নিউইয়র্কে ঋড়ৎবরমহ গবসনবৎ ড়ভ জড়ুধষ ঝড়পরবঃু হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সালের ২৬ জুন নিউইয়র্কে এই মহান গবেষক মৃত্যুবরণ করেন।
 

লেখক: মুসাদ্দিক আহনাফ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৭, বর্ষ ৩, এপ্রিল-মে ২০১৬ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর