রবিবার ১৭, ডিসেম্বর ২০১৭ - ২, পৌষ, ১৪২৪ - হিজরী

বাংলাদেশে কেবল ডাক্তাররাই অতিরিক্ত দায়িত্বপালন করেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইলিয়াস হোসেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশের পেশাজীবীদের মধ্যে কেবল ডাক্তাররাই নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাদের পরিশ্রমের ফলেই দেশে আজ শিশু মৃত্যুহার ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে। এ অর্জনের ফলে সারা পৃথিবীতে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যখাতের উন্নতিতে প্রশংসা করছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইনশা-আল্লাহ শিগগিরই দেশকে ম্যালেরিয়ামুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজসহ চিকিৎসক নেতারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরো দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মেডিকেল কলেজগুলোকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে।  আর কোন মেডিকেল কলেজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবে না। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি সবচেয়ে মেধাবী ছেলেগুলো মেডিকেলে পড়তে আসে। এ মর্য াদা ধরে রাখতে হবে। এ জন্য টাকা হলেই কম মেধাবীরা যাতে ডাক্তারী পড়তে না পারে, সেজন্য আমরা কঠোর হয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরে বছর ৪টি বেসরকারী মেডিকেলে ছাত্রভর্তি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনেক সুপারিশ হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় তার সিদ্ধান্তে অটল আছে। মন্ত্রী কঠোর ভাষায় বলেন, ব্যাঙের ছাতার মত প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ আর গড়ে উঠতে দেয়া হবে না। 

তিনি বলেন, একবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিলো। আমরা গত বছর সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি, পরীক্ষা কাকে বলে। কেবল প্রকৃত মেধাবীরা মেডিকেলে পড়তে আসবে, ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে-  এক্ষেত্রে আমরা কোন কম্প্রোমাইজ করবো না।  আগামীকাল ১লা মে নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪শ’ ডাক্তারের উজ্জল ভবিষ্যত প্রত্যাশা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক্তারদের প্রথম চাকরি তার নিজ এলাকায় হবে। শুরুতে কমপক্ষে ২/৩ বছর পরিচিত মানুষদের সেবা দিয়ে তবেই শহরে পোস্টিং পাবে। 

গত বছর ১০ হাজার নার্স নিয়োগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন গ্রাম-গঞ্জের হাসপাতালে কোথাও অন্ততঃ নার্সের সংকট নাই। সবাইকে মানবসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি বিএসএমএমইউ-তে নার্স নিয়োগকে কেন্দ্র করে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের মধ্যে যে অনকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সে ঘটনাকে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানমর্যাদার দিকে খেয়াল রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।  

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বার পঠিত



আরো সংবাদ



















শিশু কিশোরদের পাইলস

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

স্যালুট টু ইউ ডক্টর

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:৪১
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর