ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

সম্পাদকের কলম থেকে

শুভ নববর্ষ। ১৪২৩ সাল। এই নতুন বছর চিকিৎসক সমাজে বয়ে আনুক অনেক সফলতা আর সুসংবাদ।
মেডিভয়েস পরিবারের পক্ষ থেকে শুভ কামনা। বিগত কয়েক মাসে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে ঘটে গেছে অনেক নতুন ঘটনা, এসেছে অনেক সম্মান ও সমৃদ্ধি। অবশ্য থেমে থাকেনি চিকিৎসক নির্যাতনের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনাও। এদেশের মানুষকে নিরন্তর সেবা প্রদান করে গেলেও মুহূর্তের ভুল বোঝাবুঝির দায়ভার নিতে হচ্ছে চিকিৎসককেই। এমনকি কখনো কখনো শারীরিক আক্রমণ ও লাঞ্ছনার শিকারও হতে হচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসক নেতৃবৃন্দের আকুল আবেদন ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এসব ঘটনা থেমে থাকছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নতুন বার্ণ ইন্সটিটিউট ভবনের। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তে পা রাখলো। আমরা আশা করি ডা. সামন্ত লাল সেনের নেতৃত্বে এ প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিপূর্ণতা লাভ করবে এবং দেশব্যাপি এর কার্যক্রম ছড়িয়ে দিবে, এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং পোড়া রোগীদের অসহায় অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটাবে।

আরেকটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের ঘোষণা। একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, পোস্ট গ্রাজুয়েশনের ক্ষেত্র যত বৃদ্ধি পাবে, এদেশের স্বাস্থ্যখাত, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা তত এগিয়ে যাবে। বর্তমানে মেডিকেল গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল  বিশ্ববিদ্যালয় এক অসামান্য ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পূর্বে ঘোষিত চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় দুটির কার্যক্রম যথাযথ ভাবে শুরু করতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে অনেক নতুন ধারণার সূচনা করেছে। স্বাস্থ্যখাতকে ডিজিটালাইজেশনের জন্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সম্প্রতি আরো বেশ কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেলিমেডিসিনের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে প্রদান করা হয়েছে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক যন্ত্র। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিত্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষুধের অপ্রতুলতা বরাবরই অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য খাতের জন্য বেশী প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে যে ঘাটতি রয়েছে সেগুলোকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার আশু সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন বোদ্ধাজনেরা।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন চিকিৎসকদের মাঝে সবচেয়ে মেধাবীদের নিয়ে শুরু হয়েছে রেসিডেন্সি কোর্র্সের নতুন ব্যাচ। শুরু হয়েছে আরও একটি স্বপ্নের অগ্রযাত্রা। এই রেসিডেন্সি কোর্স ব্যবস্থাকে স্থায়ী কাঠামো প্রদান ও যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা প্রদর্শনে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত এবং বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান আন্তরিক ধন্যবাদ পেতেই পারেন। 

একটি বিষয় না বললেই নয়, ৩৪তম বিসিএস এ নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত চিকিৎসকেরা নতুন চাকরীতে যোগদানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশ করে নতুন চিকিৎসকদের দায়িত্বপালনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। 
পরিশেষে চিকিৎসক সমাজের সকল সদস্যের জন্য নিরাপদ ও সফল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। সকলের আন্তরিক সহযোগীতা, পরামর্শ ও শুভকামনা মেডিভয়েসের পথচলার অনুপ্রেরণা।
 

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৭, বর্ষ ৩, এপ্রিল-মে ২০১৬ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবস্থাপনায় মশারীর বিকল্প প্রস্তাব

ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবস্থাপনায় মশারীর বিকল্প প্রস্তাব

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব সরকারি হাসপাতাল এবং কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতাল…

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

গুজবে কান দেয়া হুজুগে মনুষ্য জাতির এক সহজাত প্রবৃত্তি। এই সুযোগটাকেই কাজে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর