ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪ ঘন্টা আগে
২২ এপ্রিল, ২০১৭ ২২:০৯

এবার কাটা হাত জোড়া লাগালো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

এবার কাটা হাত জোড়া লাগালো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সিলেটের জাফলং-এ এক স্টোন ক্রাশারে কাজ করেন জহুরা বেগম (৩৮)। পরিবারে স্বামী ছাড়াও রয়েছে তাদের সাত কন্যা। স্বামী কদর আলি ও বড় দুই মেয়ে মিলে জাফলং এর একটি মালিকানাধীন পাথর ভাঙ্গার মেশিনে কাজ করেন। 

গত মঙ্গলবার কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত হাত চলে যায় পাথর ভাঙ্গার মেশিনে। মুহূর্তেই কনুইয়ের নিচ হতে (মিড ফোরআর্ম লেভেল) পুরোপুরি কাটা পড়ে তার ডান হাত। দুর্ঘটনার প্রায় দশ ঘণ্টা পর কাটা হাত নিয়ে তারা আসে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে দ্রুত স্থানান্তর করা হয় প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে। সেখানে বিভাগটির প্রধান ডাঃ হাসিবুর রহমান (সহকারী অধ্যাপক) ও ডাঃ আব্দুল মান্নান এর নেতৃত্বে দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলে অস্ত্রোপচার। তাদের সহায়তা করেন ডাঃ সুবাল, ডাঃ ইকবাল, ডাঃ আব্দুল লতিফ ও দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকবৃন্দ।

অ্যানেস্থেশিওলোজিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মিথুন। এতে তার কাটা পড়া হাতের হাড় পুনঃসংগযোগ ও স্নায়ু-রক্তনালিকার পুনঃসংযোগ (নিউরোভাসকুলার এনাস্টোমোসিস) করা হয় । রক্তনালিকায় রক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করে তারা আরেকটি সফল অপারেশন শেষ করেন। তুলনামূলক সীমিত সুযোগ সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন অস্ত্রোপচার চিকিৎসা ব্যবস্থার নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আহত জহুরা বেগম বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে(ওয়ার্ড নং ১৭, বেড নং ৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছেন। তার স্বামী কদর আলি স্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে মেডিভয়েস প্রতিনিধিকে জানান অভাবের সংসারে এ দুর্ঘটনা বত্তমানে তার মাথায় বজ্রপাতস্বরূপ। তিনি এও জানান চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার আশ্বাস দিয়েছেন স্টোন ক্রাশার মালিক। হাসপাতালের নার্সদের আন্তরিক ব্যবহার ও চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পর্যবেক্ষণে তিনি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করে বলেন, আল্লাহ চাইলে হয়তো তার স্ত্রী এই হাত আবার সঞ্চালন করতে পারবে এবং এর পেছনে মূল অবতারের ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত