২০ এপ্রিল, ২০১৭ ০৩:৩১ পিএম

রিতা–মিতা আবারও হাসপাতালে

রিতা–মিতা আবারও হাসপাতালে

মিরপুরের আলোচিত দুই বোন রিতা ও মিতাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক বলেছেন, দুজনই মারাত্মক ধরনের মানসিক রোগী।

গত মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দুই বোন এক বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। শুরুতে খুব খেপে গেলেও পরে তাঁরা শান্ত হন। গানের দল করার ইচ্ছা জানান। হিন্দি ও বাংলা গানের কিছু অংশ গাইলেনও।

দুই বোনই শারীরিকভাবে খুব দুর্বল। আইনুন নাহার রিতা পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। কথা বলার সময় তিনি রেগে যাচ্ছিলেন। বারবার বলছিলেন, তাঁদের মানসিক রোগী বানানোর জন্যই কোনো কিছু না জানিয়ে সম্পত্তির লোভে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অথচ তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ। নুরুন নাহার মিতা বুয়েট থেকে পাস করা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।

২০০৫ সালের ৭ জুলাই ১৬ ঘণ্টার চেষ্টায় মিরপুরের বাড়ি (ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া) থেকে এই দুই বোনকে উদ্ধার করেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী আইনজীবী এলিনা খান। এর আগে আট থেকে নয় বছর তাঁরা ওই বাড়িতে অস্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। উদ্ধারের পর চিকিৎসায় তাঁরা অনেকটা সুস্থ হন। রিতা একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে চাকরিও পান। ভাড়া বাসায় থাকতেন দুই বোন। কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ তাঁরা কাউকে কিছু না বলে বগুড়া চলে যান। হোটেলে ওঠেন। পরে খোঁজ পেয়ে সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালে রিতা-মিতার বড় বোন কামরুন নাহার মঙ্গলবার বলেন, ১০-১৫ দিন আগে রিতা-মিতা খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেন। এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তাঁরা কিছুটা স্বাভাবিক। তাঁরা শিঙাড়া, আঙুর খাওয়ার বায়না করলে তিনি বাসা থেকে এগুলোসহ অন্য খাবার নিয়ে এসেছেন। 

কামরুন নাহার বললেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই বোন তাঁর সঙ্গেই আছেন। দেখভাল করেন এক নারী। বাসায় তাঁরা সারা দিন গান গাইতেন, ধ্যান করার মতো করে বসে থাকেন। দামি জিনিসের বায়না করেন। গোসলের সময় সাবান টয়লেটে ফেলে দেন। তাঁদের ওষুধ খাওয়ানো সবচেয়ে কঠিন। ঘটনার শুরু সম্পর্কে তিনি বললেন, দুই বোনই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। তবে মানুষের সঙ্গে মিশতেন না। সন্দেহবাতিক ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তাঁর বিয়ে হয়ে গেলে তিনি দূরে চলে যান। একপর্যায়ে তাঁকেও বাড়িতে ঢুকতে দিতেন না দুই বোন। 

কামরুন নাহার বলেন, ২০০৩ সালের দিকে তাঁদের মা মারা যান। দুই বোন মাকে কবর দিতে রাতে হারিকেন নিয়ে বের হলে পুলিশের সন্দেহ হয়। তারপর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাকে কবর দেওয়া হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কমিউনিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছোট বোন মিতা সিজোফ্রেনিয়ার রোগী। আর রিতা বোনের কাছ থেকে ‘শেয়ার ডেলিউশন’-এ আক্রান্ত। দুজনই মারাত্মক ধরনের মানসিক রোগী। চারপাশের সবাইকে সন্দেহ করেন। তাঁরা ভুল, ভ্রান্ত বিশ্বাস স্থাপন করে আছেন। যুক্তিপ্রমাণ দিয়ে তাঁদের সেখান থেকে সরানো যাবে না।

দুই বোনকে আলাদা রেখে চিকিৎসার ওপর জোর দিলেন অধ্যাপক তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদেশে এ ধরনের রোগীদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক দল থাকে। তারাই রোগীর ওষুধ খাওয়ানো ও ফলোআপ করে। এ ছাড়া হাসপাতালে দীর্ঘ মেয়াদে ভর্তি রেখে রোগীদের পুনর্বাসন করে সরকার। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে পরিবারের সদস্যদেরই মূল ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সূত্রঃ প্রথম আলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি