ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫ ঘন্টা আগে
আবদুল্লাহ আল হারুন

আবদুল্লাহ আল হারুন

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ


১৮ এপ্রিল, ২০১৭ ১৫:৩২

রং চা

রং চা

অর্থকষ্ট, মেয়েটা ভদ্র এবং মেডিকেলের পাশেই এসব শর্তেই টিউশনিটা শুরু করি। পড়াতে গিয়ে দেখি মেয়ে শান্ত নয়। চঞ্চল। একটু বেশিই চঞ্চল। সবে ক্লাস নাইনে উঠা মেয়ের প্রশ্ন শুনলে মাথায় মনে হয় কেউ জোঁক লাগিয়ে দিছে। শুর শুর করে। স্যার আপনার যে ফিগার আর চেহারা কমপক্ষে ৩/৪ টা গার্লফ্রেন্ড থাকা দরকার ছিল। কেমনটা লাগে!! হঠাৎ বৃষ্টি সাথে মৃদু বাতাস। পরিবেশটা আজ ঘুমের পক্ষে। মোবাইল বাজতেই দেখি ছাত্রীর কল। স্যার আজকে আসবেন না? :হুম আসবো। এই একটাই সমস্যা। এই ৩ মাসে আমি কোনদিন তার মুখের উপর না করতে পারি নাই।এটা আমার দূর্বলতা। তাছাড়া সামনে তার টার্ম পরীক্ষা। ছাত্রীর রুমে প্রবেশেই দেখি ছাত্রী চা নিয়ে হাজির। এই আবহাওয়ার উপযুক্ত চা। আদা, লেবু আরো অনেক কিছু দিয়ে বানানো রং চা। যাক মেয়েটা ভালোই একটা কাজ করল।

স্যার, "চা" টা কেমন হল? :হুম, ভালোই। ধন্যবাদ। :স্যার,আমি আপনাকে ভালোবাসি। এই একটা কথা আমি না বলে থাকতে পারতেছিনা। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। স্যার আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচবো না। (যেনো কোনো সবচেয়ে কমন রচনা লিখিতেছে, বেশি নাম্বার পেতেই হবে) : (আমি যেন এই বয়সে কোন শুকনো মাটিতে আছাড় খেলাম)। থামো। এসব কি বল। পিচ্ছি একটা মেয়ে আবার ভালোবাসার কথা বল। এই তোমার অবস্থা!!.(ভয় দেখানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম) : স্যার,তাহলে ভালোবাসবেন না? (যেনো করুনা দিয়েই জয় করবে) :না। আমার জন্যে মেয়ে ঠিক আছে। ৭ মাস পর ফাইনাল প্রফ দিয়েই বিয়ে করবো। :সত্যি? :হাঁ সত্যি। তোমার সাথে মিথ্যা বলবো কেন? শোন, এসব বাদ দাও। পড়া শুরু কর। :আসলেই কি সত্যি? (ইচ্ছে করতেছিলো নাকের নিচে একটা ঘুষি দিই। কিন্তু পারলাম না। এতো নাছোড় বান্দা কেন?) সেদিন বাসায় এসে আর ঘুমাতে পারলাম না। মনে হচ্ছিলো ছাত্রীর মা এখনি ফোন করে বলবে, স্যার নিলুফা তো সুইসাইড করেছে।

পরের দিন সকালেই নিলুফার মাকে ফোন করে শিউর হলাম এধরনের কোন ঘটনায় ঘটেনি। সে দিনের পর থেকে নিলুফা আর আমার সাথে কথা বলেনি। এটা আমার জন্যে ভালোই হল। একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম নিলুফা শুকিয়ে যাচ্ছে, এ ক'দিনে অনেকখানি শুকিয়ে গেছে। একদিন সকালে নিলুফার মা কল করে বললো স্যার নিলুফাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনদিন পর নিলুফার লাশ পাওয়া যায় ডলু নদীর উত্তর পাড়ে। পানিতে ঝাপ দিয়েছিল মেয়েটি। আজকে নিলুফাকে অনেক বড় বড় লাগতেছে।

------------------------------------ ঐ কামরুল দুই নাম্বার টেবিলে এক কাপ চা দে। কামরুল আমার নাম। সেদিনের ঘটনার পর সব সময় কেন যেন মনে হত যেকোন সময় পুলিশ এসে আমাকে গ্রেপ্তার করবে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞেস করবে বল নিলুফার সাথে তোর কি হয়েছিল। আর আমি শুর শুর করে সবি বলে দিবো। আমার জেল বা ফাঁসি হবে। সে ভয়ে কলিকাতায় পালিয়েছিলাম। আজ ৭ মাস হলো। হাতে-পায়ে ধরে এক ভাত-চায়ের দোকানে চাকরি নিয়েছিলাম। শুধু বলেছিলাম নিরাপত্তা দিলেই হবে। টাকা-পয়সা লাগবে না। মেডিকেলে থাকলে এতদিনে ডাক্তার হয়ে যেতাম। আজ গালি, চড়-তাপ্পর এসব নিত্য ব্যাপারে দাড়িয়েছে। মেডিকেলের আইটেমের মত। চায়ের দোকানে এসব স্বাভাবিক। আজো বৃষ্টি। মৃদু বাতাস। মালিকের মেয়ে দোকানে আসলো। প্রায় সময়ই আসে।কলিকাতায় মেয়েরাও দোকানে বসে। বাবার অনুপস্থিতিতে দোকানের দেখাশোনা করে। :ভাইয়া চা খাবেন? এই আবহাওয়ায় চা ভালো লাগবে। রং চা। :না। আমি চা খাইনা।

(থাক গল্পটা আর বাড়িয়ে লাভ নাই। তাই সরাসরি না বলে দিলাম। উপযুক্ত ক্ষেত্রে "না" বলাটা উপযুক্ততা)

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত