ডা. মিথিলা ফেরদৌস

ডা. মিথিলা ফেরদৌস

বিসিএস স্বাস্থ্য

সাবেক শিক্ষার্থী, রংপুর মেডিকেল কলেজ। 


১৮ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:৫৮ এএম

বুদ্ধিজীবীদের চিকিৎসা করা খুব কঠিন

বুদ্ধিজীবীদের চিকিৎসা করা খুব কঠিন

সার্জারিতে মেয়ে ডাক্তার কম হবার কারণে অনেক ডাক্তার, মেডিকেল স্টুডেন্টস আসে আমার কাছে হস্পিটালে। আমি আমার চুড়ান্ত আন্তরিকতা দিয়ে চিকিৎসা দেবার চেষ্টা করি। কিছুদিন আগে ফিফথ ইয়ারের এক স্টুডেন্ট আসলো তার আত্মীয়া নিয়ে। ব্রেস্ট এর রুগি। দেখেই বুঝলাম ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিস। তাও বয়স একটু বেশি দেখে ডায়াগনোসিস কনফার্ম করার জন্যে দুইটা পরিক্ষা করে কনফার্ম হলাম ক্যান্সার না।
এই রোগের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা রিয়াসুরেন্স আর দুই তিনটা ঔষধ দিলে অনেকেই দেখি, বলে ভালো হয় ।

প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ টা ব্রেস্টের রুগি দেখতে হয়। তাদের ফলোয়াপেও দেখি রেসাল্ট ভালোই। অনেকেই ভালো হয়ে যায়। অনেকে বলে চাকা কমছে। অনেকে বলে চাকা আছে ব্যাথা কমছে। যাই হোক, ফলাফল ভালো পাই।
আমি সেই ছেলের আত্মীয়াকে দুইটা ঔষধ লিখে দিয়ে, বুঝায় দিলাম। বললাম, টেনশান না করতে।

কিছুদিন পর ওই ছেলে আবার তার রুগী নিয়ে আসলো। জিজ্ঞেস করলাম কি অবস্থা? বলে ভালো হয়নি। আমি কিছুটা অবাক।

বললাম, ঔষধ ঠিকমত খেয়েছেন?

সে দেখি আরেক প্রেক্রিপশান বের করলো। এক গাইনী বিষেশজ্ঞের প্রেস্ক্রিপশান। তাতে অনেক টেস্ট, অনেক ঔষধ। ওইসব খাইছে, আমারগুলা খায়নি। কি বলবো! ছেলেকে বললাম 
-----তুমি একটা মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়ে ব্রেস্টের কেসের চিকিৎসা করাতে গেছো গাইনীতে? আমার কি উচিৎ উনার চিকিৎসা করা? এখানে প্রতিদিন যে রুগী তারা কেউ ডাক্তারের রুগী না। তাই তারা ডাক্তারের প্রতি বিশ্বাস থেকেই ভালো হয়ে যায়। আর তুমি ফিফথ ইয়ার স্টুডেন্ট, জানোনা ব্রেস্ট গাইনীর চিকিৎসা না সার্জারির চিকিৎসা? সবচেয়ে বড় কথা আমার কোন চিকিৎসাই যে নেয়নি, আমার প্রেক্রাইব করা ঔষধ যে খায়নি তার আমি কেমনে চিকিৎসা করি?

ছেলে কাচু মাচু,
-----ম্যাডাম ভুল হইছে আর হবেনা। আপনিই দেখেন।

আমার অভিমান চরমে। আমি তাকে বললাম
-- ভাই তুমি ডাক্তার মানুষ। তুমি আমার চেয়ে ভালো ডাক্তার এর কাছে দেখাও,
টিকেটে রেফার্ড লিখে পাঠায়ে দিলাম।

সে কিছুতেই যাবেনা। আমারও আর একেবারেই ইচ্ছা করতেছিলো না দেখতে, যে আমারে গুরুত্ব দেয়নি। কারণ, আমি বেশি আন্তরিকতা দেখায়া ফেলছিলাম তাই।
খারাপ লেগেছে কিন্তু আমি নিরুপায়। একটা জিনিস বুঝি, বুদ্ধিজীবীদের চিকিৎসা করা খুব কঠিন। তার চেয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করা অনেক স্বস্তিদায়ক।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে