ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৪, পৌষ, ১৪২৫ - হিজরী



নাজমুল হোসাইন

ইন্টার্ন চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ। 


ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরি: একটি নাম, একটি ইতিহাস

জন্ম, শৈশব এবং শিক্ষাঃ গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৪১ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্রগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকালের কিছু সময় তিনি বেড়ে উঠেছেন কলকাতায় এবং পরবর্তীতে তাঁর পরিবার ঢাকায় ফিরে আসেন। তাঁর পিতামার দশজন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন বড় সন্তান। ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার স্কুলের মধ্যে দিয়ে জনাব জাফরুল্লাহ সাহেবের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। দেশের সেরা কলেজ ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলেন। চিকিৎসা শাস্ত্রে ১৯৬৪ সালে স্নাতক করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন "ছাত্র ইউনিয়নের" মেডিকেল শাখার জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। জনাব চৌধুরি তাঁর শৈশব থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সেই সময় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। চৌধুরি তাঁর স্নাতক শেষ করে "জেনারেল এবং ভাসকুলার সার্জারি" তে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করার জন্য যুক্তরাজ্যে গমন করেন।

যা কিছু মহান কীর্তিঃ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জনাব চৌধুরি মুক্তিযোদ্ধা এবং শরনার্থীদের জন্য ৪৮০ শয্যা বিশিষ্ট "বাংলাদেশ হসপিটাল" প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সেই আপদকালিন অনেক মহিলাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য জ্ঞান দান করেন। যা দিয়ে তারা রোগীদের সেবা করতেন। তাঁর এই অভুতপুর্ব সেবা পদ্ধতি পরে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল পেপার" ল্যানসেটে" প্রকাশিত হয়। ঢাকার মধ্যে রুরাল এলাকায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেবার নিমিত্তে তিনি ১৯৭২ সালে "গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা করেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরি বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ সার্ভিসের একজন আইকন। তিনি ১৯৮২ সালের "ঔষধনীতির" জন্য প্রসিদ্ধ । ১৯৮২ সালের পুর্বে বাংলাদেশে ৪০০০ কমার্শিয়াল ড্রাগ পাওয়া যেত। যা বিদেশি কোম্পানি দ্বারা তৈরি হতো এবং আমদানি করতো হতো। এইসব ঔষধের অনেকগুলো ছিল অদরকারী এবং জনগণের ক্রয়সীমার বাইরে। অথচ অতীব দরকারি ১৫০টি ওষুধের সরবরাহ ছিল খুবই স্বল্প। তাঁর প্রচেষ্টায় উন্নয়নশীল দেশের জন্য আমদানি ওষুধের সংখ্যা দাঁড়ায় ২২৫ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ একটি ঔষধ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। 

সম্মাননা প্রাপ্তিঃ ক্ষণজন্মা এই মানুষটি সমাজসেবার জন্য দেশি-বিদেশি বহু পুরস্কার লাভ করেছেন ।

যার মধ্যে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলোঃ

০১। ১৯৭৪ সালে সুইডিশ ইয়ুথ পিস প্রাইজ লাভ করেন ।

০২। ১৯৭৭ সালে তিনি "স্বাধীনতা দিবস" পুরস্কার লাভ করেন।

০৩। " র‍্যামন ম্যাগসায়" নামক পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৫ সালে।

০৪। ১১৯২ সালে " লাইভ লাই হুড" পুরস্কার লাভ করেন সুইডেন থেকে।

০৫। যুক্তরাষ্ট্র থেকে "ইন্ট্যান্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ " পুরস্কার লাভ করেন ২০১০ সালে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জীবন ও কর্ম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নরমাল ডেলিভারি হওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে

নরমাল ডেলিভারি হওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে

সিজারিয়ান করানো খুব সাধারণ ব্যাপার আজকাল। মায়েদের গর্ভাবস্থায় কোন জটিল সমস্যা সৃষ্টি…

স্বাস্থ্যখাতে অবদানে বিশ্বসেরা ৫০ ব্যক্তি

স্বাস্থ্যখাতে অবদানে বিশ্বসেরা ৫০ ব্যক্তি

মেডিভয়েস ডেস্ক: চলতি বছরে বিশ্বে স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এমন পঞ্চাশজন ব্যক্তির…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর