ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



মাহমুদুল হাসান রুবেল

শিক্ষার্থী, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ। 


বাংলাদেশের অন্যতম একজন লিজেন্ড

১৯৩৯ সালের ১লা অক্টোবর এ ময়মনসিংহে তার জন্ম। পড়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (১৯৬৮)। ময়মনসিংহ মেডিকেলের এনাটমি ডিপার্টমেন্ট চালু হয় তারই হাত ধরে। দেশের বর্তমান যত সিনিয়র ডাক্তার আছেন অধিকাংশ ডাক্তারই  তার হাতেই তৈরি হয়েছে। জহুরুল ইসলাম মেডিকেলের এনাটমি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন অনেক দিন ধরে। স্যারের কথা-বার্তা চাল-চলনে কখনো বোঝা যেতো না যে বয়স হইছে।একটা বৈশিষ্ঠ খুবই লক্ষনীয় ছিলো-তিনি যখন পড়াতেন-চোখ বন্ধ করে। স্যারের দৃষ্টিশক্তি-শ্রবণ ক্ষমতা অনেক প্রখর ছিলো। চলাফেরা করার জন্য তিনি কোন লিফট ব্যবহার করতেন না। নিজ পায়ে ভর দিয়ে এই বয়সে তিনি সিঁড়ি দিয়ে হেটে নিজের সেই চিরোচেনা ডিপার্টমেন্ট এ যেতেন।

পরীক্ষা নিতেন এনাটমির Hard part বলে খ্যাত বোনস নিয়ে। এইটা যে Hard part স্টুডেন্টসদের কখনোই বুঝতেই দেননি।

ভাইবা বোর্ডে স্যারের এ ডায়ালগ কেউ শুনে নাই এইটা বিরলঃকি ছেলে/মেয়ে বাসা কোথায়?

শালা পড়াশুনা করে আসিস নি?

মেয়ে দেখতে তো সুন্দরী-পড়াশুনা করোনা কেনো? ইত্যাদি।.....

আমারে লাস্ট ভাইবাতে জিজ্ঞেস করছিলেনঃ

ছেলে বলোতো ধানের লেয়ার কয়টা? (স্যার এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পারিনা আমি)।

স্যারকে যদি ১কিঃমিঃ দূরত্ব থেকে দেখা গেলে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতাম তিনি যতক্ষণ না আমাদের ক্রস করেন। তিনি নিজেই এসে হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে যেতে বলতেন। লিজেন্ড কারে বলে আমি জানিনা-তবে তিনি যে একজন আদর্শ শিক্ষক-আদর্শ ডাক্তার-আদর্শ অভিভাবক সর্বপরি আদর্শ একজন মানুষ ছিলেন সেটা অনায়াসেই বলা যায়।

সম্প্রতি অবসর-প্রাপ্ত আমাদের দেশের একজন লিজেন্ড-আমাদের অভিভাবক-Dr.Hai Fakir স্যারকে আল্লাহ দীর্ঘায়ু দান করুক। বেঁচে থাকুক আমাদের ভালোবাসায়।

"স্যারের নামে আমাদের মেডিকেলের এনাটমি বিভাগের নামকরণ করা হোক"

ভালো থাকবেন স্যার। আপনার জন্য-আপনার পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর