১০ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:২১ এএম

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গুদামে আগুন: কারণ জানতে ৩টি তদন্ত কমিটি

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গুদামে আগুন: কারণ জানতে ৩টি তদন্ত  কমিটি

মেডিভয়েস রিপোর্ট : রাজধানীর মহাখালীতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় গুদামে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ৩টি কমিটি কাজ করছে। এরআগে গতকাল রোববার আলাদা আলদাভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি কমিটিকেই ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় গুদামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট টানা চেষ্টা করে রোববার দুপুর নাগাদ আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে রোববার সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আবদুল মালেককে এবং কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব মো. ফয়সাল শাহ। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অধিদপ্তর থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটির প্রধান অধিদপ্তরের মা ও শিশু বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শরীফ এবং অন্যটির প্রধান মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক ফেরদৌস আলম। উভয় কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর মহাখালীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় গুদামে আগুন লাগে শনিবার মধ্যরাতে। আগুনে কয়েক কোটি টাকার ওষুধ ও উপকরণ পুড়ে গেছে। তবে ঠিক কত টাকার জিনিস পুড়েছে সে বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হিসাব পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাখালীতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গুদামে আগুন লাগে। নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয়দের ধারণা, পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার থেকে আগুন ছড়িয়ে থাকতে পারে। সারা দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ওষুধ ও উপকরণ সরবরাহ করা হয় এ গুদাম থেকে।

সরু রাস্তা ও কাছাকাছি পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। ফলে সময় বেশি লেগেছে। শনিবার সারা রাত তাঁরা আগুন নেভাতে ব্যস্ত ছিলেন। গতকাল সকালে আগুন নেভাতে সক্ষম হন তাঁরা।

গুদামের নিরাপত্তারক্ষী মুসলিম শিকদার জানান, তিনি শনিবার সন্ধ্যা থেকে মেইন গেটের সামনে দায়িত্বে ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি দেখতে পান, বৈদ্যুতিক বাতি নিভে আবার জ্বলে উঠছে। পরক্ষণেই দেখতে পান, গুদামে আগুন জ্বলছে। আগুন দেখে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। মসজিদের মাইক দিয়েও বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিনশেডের গুদামটিতে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায়ও আগুন জ্বলছিল।

গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ মো. বেলাল হোসেন জানান, কত টাকার ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, কাছাকাছি পানি না থাকায় আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আশপাশে আবাসিক এলাকা থাকায় তাঁরা বেশি চিন্তিত ছিলেন। আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয় আগে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) প্রণব নিয়োগী শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, গুদামটিতে পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী মজুদ ছিল।

আগুন লাগার ঘটনা জানতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি