ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


০৯ এপ্রিল, ২০১৭ ১২:৩১ পিএম

কার্ডিয়াক রিং-এর ব্যবস্যা এবং তরুণ চিকিৎসকের আত্মসমালোচনা

কার্ডিয়াক রিং-এর ব্যবস্যা এবং তরুণ চিকিৎসকের আত্মসমালোচনা

কার্ডিয়াক রিং-এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবসা নিয়ে একটা পোস্ট দেখলাম। প্রতিটি কার্ডিয়াক রিং-এর আমদানি মুল্য আঠারো হাজার টাকার মতো। কার্ডিয়াক কেয়ার নামের একটা কোম্পানি এই রিং সব হাসপাতালে সরবরাহ করে থাকে। এক লাখ বিশ থেকে এক লাখ সত্তর পর্যন্ত নিয়ে থাকে প্রতিটি কার্ডিয়াক রিং-এর জন্য।

কার্ডিওলজিতে উচ্চতর প্রশিক্ষনরত একজন ভাইয়ার সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলছিলাম। তিনি জানালেন, ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিস্টরা প্রাইভেট হাসপাতালের চেয়ে সরকারী হাসপাতালে এনজিওপ্লাস্টি করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। সরকারী হাসপাতালে ঝুঁকি কম, সারাক্ষণ প্রশিক্ষনরত অভিজ্ঞ ডাক্তার থাকেন। এনজিওপ্লাস্টির প্রসিডিউর ফি একটু কম হলেও কার্ডিয়াক কেয়ার থেকে পাওয়া কমিশন প্রায় সমান। এবং এটাই উনাদের মুল আয়ের উৎস। আমরা মাঝে মাঝে ডাক্তারদের কমিশন খাওয়া নিয়ে যে পাবলিক পারসেপশন, তার প্রতিবাদ করি। অত্যন্ত যৌক্তিক এই প্রতিবাদ। আমরা জানি, অধিকাংশ ডাক্তার কমিশন খাননা বা খাওয়ার সুযোগ পাননা। কিন্তু তার পাশাপাশি আমরা এও জানি, আমাদের সিনিয়র ডাক্তারদের একটা অংশ এই অনৈতিকতার সাথে জড়িত। অনেকেই প্রফেশনাজিমের ধার ধারেন না। জুনিয়র ডাক্তাররা পায়ের সুকতলা ক্ষয় করে, আধপেটা খেয়ে এফসিপিএস পার্ট ওয়ান পাশ করেন বা এমডিতে ভর্তি হন। এই তথ্যটুকু ব্যবহার করে বা না করে কোনো ফার্মেসিতে যদি বসেন, তবে উনারা বিএমডিসির রুল টেনে নিয়ে এটাকে আনইথিক্যাল ঘোষণা দেন।

অথচ সুযোগ থাকা স্বত্বেও ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনৈতিক ব্যবসার বিরুদ্ধে দাঁড়াননা। বরং নিজেরা সেটার অংশীদার হোন। আমাদের তরুণ ডাক্তারদের অবশ্যই নিজেদের পেশার সুনামের জন্য, ইন্ডিয়ার হেলথ ট্যুরিজম ব্যবসা এবং হেলথ সেক্টরের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার হওয়া উচিৎ। তার পাশাপাশি অবশ্য এসব অনিয়মের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকা উচিৎ। মনে রাখতে হবে, আশি হাজার ডাক্তারের পরিবারেও বিশাল সংখ্যক রোগী আছে। স্বাস্থ্য সেক্টরের যেকোনো অনিয়মের শিকার এরাও হবেন।

আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন ডাক্তার এবং ডাক্তারের বাবা মা এনজিওপ্লাস্টি করিয়েছেন। এদের সবাই এই উচ্চ মূল্যে রিং কিনেছেন। এদের কাছ থেকেও নিশ্চয় কমিশনের টাকা ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিস্টের পকেটে গিয়েছে। যেমন যায় অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও। তাই, সব ডাক্তারের উচিৎ হেলথ সেক্টরের নানা অনিয়মের পিছনের কালপ্রিটদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করা, প্রতিবাদ গড়ে তোলা এবং এগুলো বন্ধের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, কার্ডিয়াক রিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ডাক্তাররাই উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন। আমাদের তরুণ ডাক্তারদের এই শপথও নেয়া দরকার, জীবনে কোনো রকম দুর্নীতির সাথে নিজেরা জড়াবেন না। দুর্নীতি করতে চাইলে, অন্য সেক্টরে চলে যান। গরীব মানুষের পকেটের টাকা খুবই বিষাক্ত। এই বিষাক্ত টাকা আপনাকে কোনো শান্তি দিবেনা। হেলথ সেক্টরের যাবতীয় অনিয়ম নিপাত যাক।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত