ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০৪:৩১ পিএম

প্রিয় চিকিৎসক, নেতিবাচক মানুষদের এড়িয়ে চলুন

প্রিয় চিকিৎসক, নেতিবাচক মানুষদের এড়িয়ে চলুন

জীবনে ভালো থাকতে হলে, সুখী হতে হলে, সফল হতে হলে একটা কাজ অবশ্যই করতে হবে। সেটা হচ্ছে নেতিবাচক মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকা। নেতিবাচক মানুষ মানে খারাপ মানুষ নয়। জীবন সমন্ধে, আশেপাশের মানুষ সমন্ধে, প্রফেশন সমন্ধে, অপেক্ষমাণ ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যারা হতাশা ছড়াতে পারংগম, তারাই নেতিবাচক মানুষ।

মানব সভ্যতার এতো অগ্রগতির পরও মানুষের জীবনযাত্রা তার প্রত্যাশিত মান অতিক্রম করতে পারেনি এবং কখনো পারবেও না।সেই গুহাযুগ (যদি থেকে থাকে) থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের জীবন প্রতিযোগিতামূলক থেকেছে। এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার আকাংখা মানুষকে সুখী হতে দেয়নি। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকেও তারাই সুখী হতে পেরেছে, যারা জীবনের প্রাত্যহিক উপকরণ থেকে সুখের উপকরণ খুঁজে নিতে পেরেছে। যারা বিশ্বাস করেছে, সুখ অলীক কোনো বস্তু নয়। তা নিতান্তই সাধারণ। প্রভাতের সুর্যকিরন বা শিশুর হাসিমুখ সেই সুখ এনে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এই প্রাত্যহিক সুখের উপকরণগুলোই তাদের জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রসদের উপকরণ হিসেবে কাজ করে। নেতিবাচক মানুষের সংস্পর্শ আপনার এই রসদ কেড়ে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপকার করতে পারবেনা। এই কথাগুলো প্রত্যেক মানুষের জন্য সত্য।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি সত্য ডাক্তারদের বেলায়। এদেশের চিকিৎসা পেশায় প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে ব্যবধান হিমালয়সম। এদেশের আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে কোনো ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংএর ব্যবস্থা থাকেনা।এদেশের মেধাবী বলে পরিচিতরা ইন্টার পরীক্ষার পর দলে দলে মেডিকেল কোচিং করে। কোনো এক বিচিত্র কারণে এদেশের মেধাবী সন্তানদের ডাক্তারি পেশার প্রতি সীমাহীন আগ্রহ। ডাক্তারদের অনেক টাকা আর ডাক্তারি করার মাধ্যমেই শুধু মানবসেবা করা যায়- এ জনপ্রিয় কুসংস্কারে বিশ্বাসী অভিভাবকবৃন্দ এই আগ্রহে বাতাস দিয়ে যান।

ডাক্তারি পেশা আর দশটা পেশার মতোই একটা পেশা এবং এ পেশায় সফলতা পেতে হলে দীর্ঘ সময় স্ট্রাগল করতে হয় এবং সেই স্ট্রাগলের ফলশ্রুতিতে কেউ কেউ সফলতা পেয়ে যান - এই সহজ সত্যটুকু কেউ চিকিৎসা পেশার দিকে ধাবমান বিশাল তারুণ্যকে বুঝিয়ে বলেন না। ফলশ্রুতিতে একটা মোহের মধ্যে থেকে এদের সবাই মেডিকেলে আসে। মেডিকেল কলেজে পা দেয়ার পরদিন থেকে নানা ধরণের নেতিবাচক মানুষদের সাথে এদের পরিচয় হয়ে যায়।

মেডিকেলে পড়া অনেক অনেক কঠিন, মেইন বই পড়া সবচেয়ে কঠিন -এই ধারণার সাথে প্রথমদিনই পরিচিত হয়ে যায় তার। এই ধারণা এমবিবিএস কোর্স চলাকালীন পুরোটা সময় মেডিকেল স্টুডেন্টদের তাড়া করে ফিরে। এমবিবিএস পাশ করে ইন্টার্ন শেষ করার পরদিন প্রত্যেকটি ডাক্তার সবচেয়ে বেশি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়। এই সময়ে হতাশার আগুনে জ্বালানি দেয়ার জন্য পাশে এসে দাঁড়ায় একদল নেতিবাচক মানুষ। কোর্সে ঢুকা পৃথিবীর কঠিনতম কাজ, কোর্সে ঢুকার পরে পাশ করা কঠিনের চাইতে বেশি, আর পাশ করার পর তোমার সাবজেক্টে চেম্বারে মশা মারা ছাড়া খুব বেশি করার মত কিছু নাই- এই হতাশার বাণী ফেরি করে বেড়ান তারা।

মানুষ হিসেবে খুবই ফ্লাকচুয়েটিং মানসিকতার অধিকারী আমি। স্থির হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তার উপর অটল থাকা- এই দুর্লভ গুন আমার মাঝে কখনোই ছিলোনা। এই পরিস্থিতিতে জীবনে চারপাশের নেতিবাচক মানুষের সাথে পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অসুখী হওয়া এবং প্রাণশক্তির অপচয় ছাড়া আর কোনো লাভ হয়নি।

তাই আপনি যিনি এই দীর্ঘ লেখা কষ্ট করে পড়লেন, তাদের প্রতি এই নেতিবাচক অনুরোধটাই করি। আপনার চারপাশের মানুষদের মধ্যে যার সাথে কথা বলে, আপনার হতাশা বেড়ে যায়, তাকে এড়িয়ে চলুন। এই অনন্ত নক্ষত্রবীথিতে আপনি চমৎকার একটি জীবন পেয়েছেন। নেতিবাচক মানুষদের পাশাপাশি থেকে সেই জীবনীশক্তির অপচয় করবেন না।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত