৩০ মার্চ, ২০১৭ ১২:০৬ পিএম

চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসকদের আরো যা যা করতে হয়

চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসকদের আরো যা যা করতে হয়

একজন চিকিৎসক এর কাছ থেকে মানুষ কি শুধু তার প্রেসক্রিপশন ই আশা করেন? না, তাদের একেক জন একেক ভাবে সেবা প্রত্যাশা করেন। তাদের সেই প্রত্যাশা গুলোর প্রতি সম্মান জানিয়ে সাধ্যমত কিছু করা আর না পারলে বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে দেয়া।
হ্যা আমাদের অনেকেই এই কাজ গুলোকে বাড়তি ঝামেলা মনে করে এড়িয়ে যান। বিরক্ত আমিও হই মাঝেমাঝে কিন্তু যখন ই তাদের প্রত্যাশার জায়গায় নিজেকে ভাবি তখন এগিয়ে না গিয়ে পারিনা।
সকল তরুন চিকিৎসকই এগিয়ে না গিয়ে পারেন না।
চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি যে কাজ গুলো আমাদের প্রতিদিন করতে হয় যা আমরা বিবেকের তাড়নায় করি তার কয়েকটি উদাহরন দেই তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।

১) সকালে আমার খুব কাছের বড় ভাই ফোন দিলেন, গরীব এক রুগি পাঠাচ্ছি যা লাগে সব গুছিয়ে দিস। এও বলে দিলেন, উনাদের ঢাকাতে কেউ নেই। আমি স্যার এর রুমে ছিলাম। সেই রুগির লোক কল দিলেন। অনুসন্ধান এ গিয়ে দেখি রুগি হাড্ডিসার। দেখেই বুঝলাম ক্যান্সার জাতীয় কিছু হবে। স্যার রুমে গিয়ে কাগজপত্র বের করে স্যার কে দেখানো মাত্রই এক্সরে দেখে অনুমান প্রায় সঠিক হল।

ফুসফুস ক্যান্সার। তাও কনফার্ম হতে হবে। আমাদের ইউনিট এ যদিও আজ ভর্তি ছিল না তাও ভর্তি নিলাম। প্রয়োজনীয় সব কিছু গুছিয়ে দেয়া হল। আরো কিছু পরীক্ষা করাতে পাঠিয়ে দিলাম। রুগির চিকিৎসা শুরু হল। সব কিছু সরাসরি আমাদের নির্দেশনা মত হল। যদিও এগুলো আমাদের কাজের আওতায় না। কিন্তু অসহায় মানুষ গুলো কিছু বুঝে না। তাই দায়িত্ব নিয়ে করা। এতে সময় নষ্ট হয় না। যদিও অনেকে সময় নষ্ট বলে থাকেন। এটা অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো।

২) উপরের কাজটা শেষ করে মাত্র ক্যান্টিনে এসেছি। দূর থেকে এক মহিলা চিৎকার করে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন। আমি তাকিয়ে দেখি আমার গ্রামের এক ভদ্র মহিলা। উনি আমার এক ভাইয়ের বাসা দেখা শুনা করে। নদী ভাঙ্গা মানুষ। তাই আমাদের গ্রামে থাকে। জামাই ঝালমুড়ি বিক্রি করে। দুই ছেলে রিকশা চালায়। আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না। অনেক গরীব। ঢাকাতে প্রথম। কেউ নেই ওদের ঢাকাতে। হাসপাতালে এসে কিছুই বুঝতে পারছেনা। একটা সমুদ্রে পরে গিয়েছে। আমাকে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পেলেন। উনি নিজেই নাকি বিশ্বাস করতে পারছেন না আমাকে দেখে। এতটাই খুশি উনি হয়েছেন। উনার বিশ্বাস এখন সব হবে। কি কারনে এখানে এসেছেন জিজ্ঞেস করতেই বড় ছেলের জন্য এসেছেন। একটু মানসিক সমস্যা ছেলেটার। জিজ্ঞেস করলাম ছেলে কোথায়?
বলল, নামাজ পড়তে গিয়েছে। মসজিদ কাছেই। বের হয়ে আমাকে দেখেই পায়ে পরে গেল। কোন রকমে উঠিয়ে দেখলাম হাত ফুলে গিয়েছে। হাতে ইনফেকশন হয়ে পুজ হয়েছে। অবস্থা ভাল না।

এরপর ভর্তি থেকে শুরু করে সব ম্যানেজ করতে ৩ ঘন্টা লাগল। মাত্র ১০০ টাকা আছে ওদের কাছে। দুপুরে খায়নি। টাকা দিলাম হাতে। মহিলাকে ক্যান্টিনে নিয়ে দুপুরে খাওয়াইলাম। এরপর আগামিকাল আসব কথা দিয়ে আসলাম।

৩) পথিমধ্যে শুনলাম আমাদের এমপি স্যার অসুস্থ। ল্যাব এইডে ভর্তি। স্যারকে দেখতে সেখানে গেলাম।

৪) গতকাল রাতে হঠাৎ করে উপজেলা পরিষদের এক অফিসার আমাকে কল দিলেন। অনেক চিন্তিত মনে হল উনাকে। শুধুমাত্র আমার কাছ থেকে একটা পরামর্শ নিতে উনি কল দিয়েছেন। আমি হ্যা/ না বলার উপর সিজারিয়ান অপারেশন নির্ভর করতেছিল যদিও গাইনি চিকিৎসক সিজারিয়ান এর কথা বলেছেন। জরুরি ভিক্তিতে করতে হবে।

কথা শুনে বুঝলাম গর্ভবতী মা এর পেটের পানি কমে গিয়েছে। পেটের বাচ্চার অবস্থা ভাল না। সাত মাসের গর্ভবতী। জরুরি অপারেশন লাগবে। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতেছিলেন। আমি বললাম অপারেশন করাতে পারেন। বাচ্চা ও মা ভাল আছে। আজ সকালে কল দিয়ে জেনেছি।

৫) আগামি কাল কয়েকটি কাজের কল অলরেডি চলে এসেছে। সাধ্যমত চেষ্টা করব তাদের প্রত্যাশা পুরনে। অনেকেই বলেন এগুলো আজাইরা কাজ। কিন্তু কয়জনের কাছে এই কাজের জন্য মানুষ প্রত্যাশা করে যায়?

এগুলোর মধ্যে মানসিক প্রশান্তি আছে। আরে দোয়া হল ফ্রি পাওয়া। 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না