ডা. তরফদার জুয়েল

ডা. তরফদার জুয়েল

অনারারি মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। 


৩০ মার্চ, ২০১৭ ১১:১১ এএম

খারাপ ডাক্তার !!!

খারাপ ডাক্তার !!!

একজন ব্যক্তি হাতে কয়েকটা কাগজ নিয়ে আমার সামনে এসে বললেন, ডাক্তার সাব কিছু কথা কইতে আইলাম।

আমি তো আনন্দিত। যাক, একজন লোক অন্তত পাওয়া গেল বিনা ডাকে হাজির হয়েছেন গল্প করার জন্য। সারাক্ষণ থাকি মেডিকেলিয় পড়া, বিসিএস, রোগি, চিকিৎসা নিয়ে। মাঝে মাঝে হাপিয়ে উঠি। একটু মন খুলে নিজের ভাল মন্দের কথা, কষ্টের কথা অন্যকে বলতে ইচ্ছা করে, কিন্তু কেউ এসব শোনার জন্য আমার সাথে কথা বলতে আসে না, যারা আসে রোগ, রোগি, চিকিৎসা সংক্রান্ত কথা নিয়েই আসে। সিরিয়াস বিষয়ে কথা বলতে আসে, পরামর্শ নিতে আসে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত কথা মানে যা ইচ্ছা তাই বলা না, ভেবে চিন্তে রোগির অবস্থার কথা ভেবে, রোগের অবস্থা ভেবে পরামর্শ দেয়া, মাথার মধ্যে রোগ নিয়ে, রোগি নিয়ে গবেষণা করা, সিরিয়াস চিন্তা করা। সব সময় সিরিয়াস চিন্তা করতে করতে আর ভাল লাগে না, মাঝে মাঝে বিরক্তি আসে। সবাই শুধু ডাক্তারের কলমের খোঁচাটাই দেখে, মুখের কথাটাই শোনে, ওই খোচা দেয়ার জন্য, কথা বলার জন্য, পরামর্শের জন্য যে মাথা খাটাতে হয়, নার্ভাস সিস্টেমের স্নায়ুগুলোকে গরম করতে হয় তা দেখতে পায় না, বুঝতে চায় না।

এমবিবিএস পাশ করার পর খুব কম লোকই আমার সাথে কথা বলেছেন আমার কুশল জানার জন্য, কেমন আছি, কি করছি, শরীর-মন ভাল আছে কি না জানার জন্য। ফোনে হোক বা সামনে হোক, অধিকাংশ মানুষই যোগাযোগ করেন তার দরকারে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শের জন্য। তবে শুরুটা করেন এই ভাবে - বাবা, ডাক্তার হয়ে তো বড়লোক হয়ে গেছ, ব্যস্ত হয়ে গেছ, আমাদের কোন খোজই নাও না । তারপর কিছুক্ষণ পর মূল বক্তব্য। ( আমারও কইতে মন চায়, আপনিও তো আমার খোজ নেন না, আজ দরকার পড়ছে, তাই কথা বলছেন। বলা হয় না, বললে যদি হাজী সাহেবের মুখ খারাপ হয়, এই ভেবে চুপ থাকি)।

অনেক সময় এমনও হয়, সামনে পরীক্ষা, খুব টেনশনে আছি। সারারাত পড়ে ভোর ৪ টায় ঘুমিয়েছি। সকাল ৭ টায় কেউ ফোন করেছেন, ধরতে পারি নাই। পরে কল ব্যাক করে ঝাড়ি খাইলাম, ফোন ধরি না ক্যান? খোজ খবর নাই ক্যান? এত বেলা করে ঘুমাই ক্যান? কয়টা পর্যন্ত ঘুমাই, এই নিয়ে সবার ভাবনা, কখন ঘুমাই, কয় দিন পর পর ঘুমাই, এই নিয়ে ভাবনা নাই। ভাল, খুব ভাল, দেশের মানুষ হিসাবি হয়েছে, ফাউ টাইম নষ্ট করে কি লাভ?

যাহোক, মূল কথায় আসি। 
আগন্তুক ব্যক্তিকে দেখে হাসিমুখে বসতে বললাম। বললাম, এসেছেন খুব ভাল করেছেন, গল্প করার লোক পাচ্ছিলাম না। আসেন, গল্প করি।

আগন্তুক বললেন, একটু দরকারি কথা ছিল।

বললাম, বলেন দরকারি কথা। একটু দরকারি গল্প করি। কোন বিষয়ে পরামর্শ লাগলে দিতে পারি। কিন্তু রোগ, রোগি, চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ চাইবেন না, রোগ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ ও গল্প করতে চাইলে, যতক্ষণ কথা বলবেন ততক্ষণ যে কয়টা রোগি দেখতে পারতাম, তার ভিজিট দিতে হবে।

দেখি আগন্তুকের মুখ কালো হয়ে গেছে।

(হয়ত মনে মনে ভাবছেন- শালা কশাই, টাকা ছাড়া দুনিয়ার কিছু বোঝে না) 

 

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত