ইকরামুল কবীর

ইকরামুল কবীর

সিনিয়র সাংবাদিক, ব্যুরো চিফ, সময় টিভি, সিলেট। 


২৭ মার্চ, ২০১৭ ০১:৩৫ পিএম

স্যালুট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

স্যালুট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

৫ ভাগ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা খাদিজার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। স্কয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রেস ব্রিফিং-এ ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে বলেছিলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপযুক্ত চিকিৎসা খাদিজাকে রিটার্ন করতে সহায়তা করেছে। 

জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওসমানী হাসপাতালের আরও অনেক সুনাম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জরুরি সেবার সর্বশেষ প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলেন শুক্রবার রাতে। 

শিববাড়ি এলাকায় সন্ধ্যায় জঙ্গিদের শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ মারাত্মকভাবে আহত হন ৭জন। মিডিয়াকর্মীসহ সবাই মিলে আহতদের অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়িতে তুলে দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ওসমানী হাসপাতালে এসে দেখে অন্য চিত্র। জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে তদারকি করছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুুল হক। জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার ইউনিট, সার্জারি ওয়ার্ড, এক্সরে বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ইউনিটে চিকিৎসক, ইন্টার্ণ চিকিৎসক, নার্স, সংশ্লষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি, লিফ্টম্যান, ট্রলিবয় প্রাণপণ ছুটে কাজ করছেন। এরই মাঝে একজন কর্মকর্তা জানালেন হাসপাতালের পরিচালক সংশ্লষ্ট চিকিৎসক, ইন্টার্ণ চিকিৎসক, নার্সসহ সবার ছুটি ও শিফট বাতিল করে হাসপাতালে আসতে বলায় সবাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এসে গেছেন। 

হাসপাতালে এসে জানলান একই স্থানে আরেকটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। জরুরি বিভাগের সামনে পরিচালক জানালেন, বোমা বিস্ফোরণে আহতের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে মনোনিবেশ করেছেন।

এর ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। র‍্যাব-৯ এর লে. কর্ণেল আবুল কালাম আজাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচেও পাঠানো হয়েছে। ৫০ জনের মধ্যে একজন ছাড়া বাকী তিনজনে প্রায় মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পুলিশ পরিদর্শক মনির আর ফাহিমকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। 
ওসমানী মেডিকোল কলেজের শিক্ষার্থীরা রক্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না। 

রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার ইউনিটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে লক্ষ্য করলাম, ইচ্ছেশক্তি আর প্রচন্ড মনোবল নিয়ে ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক থেকে শুরু করে ট্রলিবয় পর্যন্ত প্রতিটি ব্যক্তির সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আন্তরিকতা। ভালো কিছু দেখলে আসলেই মনটা ভরে যায়।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত