২২ মার্চ, ২০১৭ ০২:৪৯ পিএম

জনসংখ্যা ও পুষ্টিতে ১,১৫,০০০ টাকা

জনসংখ্যা ও পুষ্টিতে ১,১৫,০০০ টাকা

বাংলাদেশের ইতিহাসে এত দিন খরচের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল পাবনার রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। যার সিংহভাগ দিচ্ছে রাশিয়া। তবে সে রেকর্ড ভেঙে গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে সর্বোচ্চ খরচের একটি প্রকল্প। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি’ (এইচপিএনএসপি) শিরোনামের অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে আসবে চার হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ আসবে বিশ্বব্যাংক, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা), যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডি, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে। কর্মসূচিটি এখন থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলবে সারা দেশে।

কর্মসূচি অনুমোদনের পর এটিকে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রকল্পটি তাঁর একান্ত নিজের আগ্রহের। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি শিরোনামের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ধারণাসহ বিভিন্ন টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেটি বন্ধ করে দেয়। আমরা আবার ক্ষমতায় এসে কর্মসূচিটি চালু করি। ’ এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজিতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন ধাপে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়েছে। আগের তিন ধাপের সফলতায় চতুর্থ পর্যায়ের কর্মসূচিটি হাতে নেওয়া হয়েছে। যথাযথভাবে এটি বাস্তবায়িত হলে ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজিও অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলেছে, ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি’ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আওতায় যেসব সেবা দেওয়া হবে সেগুলো হলো—মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টিসেবা,  সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড, কাজের নজরদারি ও মূল্যায়ন। আগের তিনটি কর্মসূচি সম্পর্কে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবগুলোই সফল। কর্মসূচির কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক উপকার হয়েছে। বিশাল এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত টাকা পাওয়া যাবে কি না এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অর্থায়নের বিষয়ে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও ইউএনএফপির প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা মৌখিক সম্মতি জানিয়েছে।

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সভায় এক লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে চার হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। বাকি সব টাকা আসবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জুয়েনা আজিজ এবং আইএমইডির ভারপ্রাপ্ত সচিব মফিজুল ইসলাম।

গতকালের একনেক সভায় চার হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে নির্বাচিত ৩২৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে কোনোটির একাডেমিক ভবন নির্মাণ আবার কোনোটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। নির্মাণ হবে ছাত্রী হোস্টেল। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যেসব স্কুলে লিফট বসানোর কথা ছিল, শেখ হাসিনা তার বদলে অ্যাসকেলেটর বসাতে বলেছেন। যাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনো ক্ষতি না হয়। স্কুলে জেনারেটর নিশ্চিত করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভালো শিক্ষকদের মাঠ পর্যায়ে রাখতে তাঁদের সপরিবারে কাছাকাছি স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতেও বলেছেন তিনি।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এক হাজার ৮০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কলেজগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৬) যথাযথ মানে প্রশস্তকরণ এবং ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা শহরে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।

সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি