২২ মার্চ, ২০১৭ ১২:২৮ পিএম
একনেকে সোয়া লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের ৯ প্রকল্প অনুমোদন

স্বাস্থ্য খাতে লাখ কোটি টাকার প্রকল্প

স্বাস্থ্য খাতে লাখ কোটি টাকার প্রকল্প

আগামী সাড়ে পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। এ জন্য চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএসপি) হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা; পরিবার পরিকল্পনা সেবা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিসেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল মঙ্গলবার এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি চতুর্থ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিন পর্যায়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল কর্মসূচির মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা দেবে সরকার। বাকি অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংকসহ অন্য উন্নয়ন-সহযোগীরা। স্বাস্থ্য খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচিটির চতুর্থ পর্যায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সারা দেশেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা পায়।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আগের তিনটি পর্যায়ের কর্মসূচি বেশ সফল হয়েছে। এটি দেশের জনগণকে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

গতকালের একনেক সভায় উল্লিখিত প্রকল্পটিসহ ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকার মোট নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে স্থানীয় উৎস থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৪ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। আর বিদেশি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ১৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন; ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকার সরকারি কলেজসমূহে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ; ২০০ কোটি টাকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন; ৯৪ কোটি টাকার গৌরনদী টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন; ৭৩ কোটি টাকার বিসিএসআইআরের আইএমএমএমে একটি খনিজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ; ৩২৯ কেটি টাকার যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ; ১৫৭ কোটি টাকার বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু সড়কের দশম কিলোমিটার চেংগী নদীর ওপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ এবং ২৪৯ কোটি টাকার ঢাকা শহরে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।

শিক্ষা খাতের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগে স্কুলে নিবন্ধনকেই বেশি জোর দেওয়া হতো। এখন বিজ্ঞান শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ বিজ্ঞান শিক্ষক তৈরি করা হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

সৌজন্যে : প্রথম আলো 

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত