২১ মার্চ, ২০১৭ ১০:৫০ এএম

অনেক স্থানেই পানিতে দুর্গন্ধ

অনেক স্থানেই পানিতে দুর্গন্ধ

কদমতলা পানির পাম্পহাউস! প্রতিদিন সকাল থেকেই থাকে জার আর কলসির সারি। পাত্রের মালিকদের কেউ পাম্পের কাছে, কেউবা সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে নজর রাখেন। কিন্তু গতকাল সোমবার সকালে তেমনটি ছিল না। ছিল ঝুমবৃষ্টি। ভিড়টা লাগল সাড়ে ১০টার দিকে, বৃষ্টি থামার পর।

রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাসহ কিছু স্থানে বাসাবাড়ির কলে ময়লা-গন্ধযুক্ত পানি আসছে। এ সমস্যা বাড়ছে প্রতিদিন। স্থানীয় পাম্পহাউসগুলোয় ধরনা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। এমনকি গভীর রাতেও। কিছু পাম্পহাউসে পানি নিতে টাকাও গুনতে হয়। পাম্পহাউসগুলোয় ভিড় বাড়ার কারণ গভীর নলকূপ থেকে পাইপলাইনে যাওয়ার আগে এই পানি নেওয়া সম্ভব। 

বেসরকারি একটি বিমা কোম্পানি থেকে অবসর নিয়েছেন কদমতলা প্রাইমারি স্কুল গলির বাসিন্দা আবদুল আলিম। কদমতলা পানির পাম্পের কলের কাছে ৫ লিটারের দুটি জার রেখে কিছুদূর থেকে লক্ষ করছিলেন—কেউ যেন সিরিয়াল না ভাঙে। বিরক্তিভরা কণ্ঠে বললেন, এভাবে প্রতিদিন, অনেক সময় দুই বেলা পাম্পহাউসে আসতে হচ্ছে।

কারণ বাসায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি খাওয়া দূরের কথা, ব্যবহারেরও অযোগ্য। তাঁর কথা হচ্ছে, অবসর নেওয়ার পর এভাবে পানি বহন করে নেওয়াই এখন তাঁর চাকরি। পাম্পে আসা এলাকার অনেক বাসিন্দাই পানি নিয়ে তাঁদের ভোগান্তির কথা জানান। অনেক বাড়ি থেকে গৃহকর্মী বা বাচ্চা ছেলেকে পাঠানো হয়েছে। আকলিমা বেগম নামের এক গৃহকর্মী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও তাঁকে পানি নিতে হয়েছে। কারণ তাঁর মালিকের বাসায় খাওয়ার পানি ছিল না।

এসব এলাকার মতো একই সমস্যা মায়াকানন, সবুজ কানন, মুগদায়। কিছুদিন আগে এ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। সবুজ কাননের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ জানান, ওয়াসা কথা শোনে না। সংবাদপত্রে ছাপা হলে ওয়াসার লোক এসে খোঁজখবর নেন। তারপর যে দশা, সে রকমই থেকে যায়।গোপীবাগ বালুর মাঠ পাম্পেও মানুষের ভিড়। পেয়াদাপাড়ার লোকজনের ভিড় বেশি। দুর্গন্ধ সমস্যা। 

ছয় মাস আগেও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের গভীর নলকূপের কল থেকে পানি সংগ্রহ করতেন শান্তিনগর, চামেলিবাগ ও আশপাশের বাসিন্দারা। সেখানে রাত ১২টায়ও পানি সংগ্রহ করতে দেখা যেত। কিন্তু মাস ছয়েক আগে বাইরের কলটি বন্ধ হয়ে যায়। চামেলিবাগ এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম নিয়মিত সেখান থেকে পানি নিতেন। তিনি বলেন, কিছুদিন বোতলজাত পানি কিনেছেন। কিন্তু খরচে পোষাচ্ছে না। এখন দুর্গন্ধযুক্ত পানি ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে।

আরামবাগ এলাকায়ও পানিতে ময়লা আসছে। একটি বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মো. ওয়াসীম বলেন, বড় বড় জার পাঠিয়ে পুলিশ লাইনস পাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করা হতো। পানির দাম না লাগলেও যারা পানি এনে দিত তাদের বকশিশ দিতেন। এখন পানি আনতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত দিকে ওয়াসার পাম্প থেকে। কিন্তু সব সময় তা সম্ভব হয় না।

পানিতে গন্ধ সম্পর্কে ওয়াসার ৬ নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজ্জাক শিকদার বলেন, এখনো শুকনা মৌসুম চলছে। এই মৌসুমে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত থাকে। শান্তিনগর, গোপীবাগসহ বেশ কিছু এলাকায় এই নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ করা হয়। সায়েদাবাদ শোধনাগারের পক্ষে সে পানি শোধন করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্য স্থানে পাইপলাইন সমস্যা আছে।

সৌজন্যেঃ প্রথম আলো

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত