২০ মার্চ, ২০১৭ ১০:৩২ এএম

নদীর দখল-দূষণ রোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

নদীর দখল-দূষণ রোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

জনসচেনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দেশের নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ সম্ভব নয় বলে এক মতবিনিময় সভায় অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, নদী মরে গেলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। ইতিমধ্যেই ১২ শত নদীর মধ্যে আট শত নদী হারিয়ে গেছে। বেঁচে আছে চার শত নদী। নদী রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান তারা।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রিমিয়ার নিউজ সিন্ডিকেট লিমিটেড আয়োজিত নদী বাঁচাও-দেশ বাঁচাও- মানুষ বাঁচাও শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ভারতের সঙ্গে গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে আলোচনা চলছে, অচিরেই এ বিষয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।

মন্ত্রী বলেন, গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে জায়গা অধিগ্রহণের জন্য। ১৩ কিলোমিটার জায়গার অর্ধেক বাংলাদেশের আর অর্ধেক ভারতের। সেজন্যই তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। অন্যদিকে ব্যারেজের এক চতুর্থাংশ পানি জমা হবে ভারতের জায়গায়। এ নিয়ে সমঝোতার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। 

গঙ্গা ব্যারেজ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাঁচানো অসম্ভব মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, নাব্যতা না থাকলে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। আগে আমরা ভারতের পানি পেতাম ৫৫ হাজার কিউসেক। কিন্তু এখন ২০ হাজার কিউসেকও পাওয়া যায় না। ওই অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে আরো ২০ হাজার কিউসেক পানি গঙ্গা, মাথা ভাঙ্গা, চন্দনা নদীতে ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যমুনার পানি এনেও বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা যাবে না, যতক্ষণ নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হবে। আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে দখল মুক্ত এবং বর্জ্য দূষণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো যাবে না।

তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে আমরা প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে আসছি। মানুষ তার প্রয়োজনে ফল ও ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে নদীতে বাঁধ দিচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে এই বাঁধই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতি বছর যে পরিমাণ পলি জমা হচ্ছে নদীর তলদেশে, সে তুলনায় খনন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংকট লেগেই আছে। তবে নদী খননের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, নদী বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তনাদ হচ্ছে। নদী দখল হচ্ছে, নদী নাব্যতা হারাচ্ছে। এজন্য মানুষ দায়ী, মানুষের অসচেতনতা দায়ী। অতীতের কোনো সরকার নদী সংরক্ষণের জন্য কাজ করেনি। আমরাই বঙ্গবন্ধুর কেনা সাতটি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কাজ শুরু করি। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালে আমরা ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছি। বেসরকারি খাতেও ৭০টি ড্রেজার সংগ্রহ করে নদী খননে বিপ্লব ঘটিয়েছি।

এছাড়াও আরো ১০টি ড্রেজারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ ছিল। বর্তমানে ২০ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নৌ-পথ হারিয়ে গেছে। নদী রক্ষায় তিনি জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার আহবান জানান। তিনি বলেন, সামাজিক- সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছাড়া কোনো সুফল আসতে পারে না। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক বলেন, নদ-নদীর অবদান অপরিসীম। নদী-নালা হচ্ছে দেশের প্রাণ। নদী না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। দেশের জনগণ বাঁচবে না।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, দেশের শিল্প-সাহিত্য নদী কেন্দ্রীক। তাই নদীকে বাঁচাতে হবে। নদী বাঁচাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান আলহাজ হারুন উর রশীদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবির, সাবেক মহা-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুর রহমান, প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার, প্রকৌশলী মাহামুদুর রহমান, দৈনিক জনতার সম্পাদক মো. আসান উল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মো.শাহাবুদ্দিন শিকদার প্রমুখ।

সৌজন্যেঃ ইত্তেফাক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত