২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৬ পিএম

স্বাস্থ্য খাতের নীতি পরিবর্তনে গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য খাতের নীতি পরিবর্তনে গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গবেষণাকে কেবল ডিগ্রি অর্জন কিংবা পদোন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের স্বাস্থ্য খাতের নীতি ও কর্মসূচি পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, গবেষণার প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন এর ফলাফল সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এবং জাতীয় নীতিমালায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ২২ সপ্তাহব্যাপী গবেষণা পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন। সোসাইটি অব মেডিসিন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ও সাব-স্পেশালিটি বিভাগের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হয়, যা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। তারপরও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার আলোকে যথাযথ গবেষণা পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করা গেলে তা স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

নিজের দীর্ঘ গবেষণা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, অতীতে অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে পরিচালিত কমিউনিটিভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। এসব গবেষণার ফলাফলে হাজার হাজার শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বড় নমুনা বা স্যাম্পল সাইজ কিংবা অসংখ্য ভেরিয়েবল অন্তর্ভুক্ত করলেই মানসম্মত গবেষণা হয় না। গবেষণার মূল প্রশ্নটি চিহ্নিত করা এবং সেই প্রশ্নের সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, গবেষণালব্ধ প্রমাণ বা এভিডেন্সকে কাজে লাগিয়ে নীতিনির্ধারক ও সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করা গেলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।

চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ভাইরাল হেপাটাইটিস ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে মানসম্মত গবেষণা পরিচালনার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল শাহীন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন।

বক্তারা স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক