১১ মার্চ, ২০১৭ ১১:৪৫ এএম

বেসরকারি উদ্যোগে কিডনি প্রতিস্থাপন বাড়ছে

বেসরকারি উদ্যোগে কিডনি প্রতিস্থাপন বাড়ছে

বাংলাদেশে বেসরকারি উদ্যোগে বাড়ছে কিডনি প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্টেশন)। এককভাবে একজন সার্জনই একটি বেসরকারি হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৩৬৪টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এক হাজার ৪০০-এর কিছু বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি নামে পরিচিত) ১৯৮২ সালে। অবশ্য মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত কিডনি প্রতিস্থাপন বন্ধ ছিল কয়েকটি কারণে।

বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য একটি স্বয়ংসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। এ সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখানেই হয়ে থাকে। এর আগে দেশের বাইরে থেকে কিছু টেস্ট করিয়ে আনতে হতো। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮২ থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪ বছরে ৫১০টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে।

একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটা নিতান্তই কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। অপর দিকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) বা কিডনি হাসপাতালের কিডনি প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম একেবারেই হতাশাজনক। বিগত বিএনপি সরকার সময়ে ২০০৫ সালে এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলেও এ হাসপাতালের কিডনি প্রতিস্থাপনের হার একেবারেই নগণ্য। এখানে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৬০টি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। 

শাহবাগের ডায়াবেটিক হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত বারডেম ২০০৪ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু করলেও গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ হাসপাতালে মাত্র ১২৫টি প্রতিস্থাপন হয়েছে। সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হলেও বারডেম একটি উঁচুদরের ক্লিনিক হিসেবেই বেশি পরিচিত।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, হয়তো বেশি খরচ বলে এখানে রোগীরা আসতে চান না। অপর দিকে অধ্যাপক ডা: হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মিরপুরের কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে ৩৯১টি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক হারুন অর রশীদ।

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি বা সিকেডিইউ ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে ৩৮০টি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের কিডনি সার্জন অধ্যাপক ডা: মো: কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সিকেডিইউতে ২০১৬ সালে ৮৪টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। ২০১৫ সালে ৬১টি, ২০১৪ সালে ৫২টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। 

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ২০১০ সালে শুরু করেছে কিডনি প্রতিস্থাপন এবং এ পর্যন্ত সেখানে প্রতিস্থাপন করেছে মাত্র পাঁচটি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ২০১২ সালে শুরু করে প্রতিস্থাপন করেছে মাত্র দু’টি। এর বাইরে তারকাখচিত বেসরকারি হাসপাতাল এ্যাপোলো ২০০৭ সালে শুরু করে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে ২১টি, গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল ২০০৯ সাল থেকে করেছে ৫১টি। পপুলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ২০০৯ সাল থেকে করেছে ৪৫টি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে লাগে দেড় লাখ টাকা (পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য খরচ এর বাইরে)। সিকেডিইউতে লাগে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন এখান থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে কর্মরত মো: রুহুল আমিন।

সৌজন্যেঃ নয়া দিগন্ত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি