১১ মার্চ, ২০১৭ ১১:২২ এএম

রিয়েল টাইমে’ যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লিখবেন বাংলাদেশের তরুণরা

রিয়েল টাইমে’ যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লিখবেন বাংলাদেশের তরুণরা

চিকিৎসক রোগী দেখবেন যুক্তরাষ্ট্রে বসে। রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের কথোপকথন ধারণ করা হবে চিকিৎসকের চোখে থাকা গুগল গ্লাসে। এতে জমা হওয়া তথ্য ঢাকায় বসে ‘রিয়েল টাইমে’ অর্থাৎ, তাৎক্ষণিকভাবে ইংরেজিতে ‘তরজমা’ করে ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেবেন এ দেশেরই কোনও তরুণ-তরুণী। এই কাজের জন্য আগামী পাঁচ বছরে সাত হাজারের বেশি জনবল নিয়োগে দেবে অগমেডিক্স। বাংলাদেশি তরুণরা হবে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের ‘রিমোট ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’।

শুক্রবার (১০ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে অগমেডিক্স কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ইমার্জিং টেকনোলজির গন্তব্য এবং দেশের মেধাবী যুবকদের কল্যাণে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমাদের শীর্ষ উদাহরণ হচ্ছে অগমেডিক্স।’

পলক আরও বলেন, ‘দেশে বিদেশি বিনিয়োগকে আগ্রহী করতে সরকারের উদ্যোগ হিসেবে অগমেডিক্স বাংলাদেশের একটি মডেল উদাহরণ।’ আগামী ২ বছরে দুইশ উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলেও জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গুগল গ্লাস স্টার্টআপ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হলো অগমেডিক্স। এই প্রতিষ্ঠান গুগল গ্লাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপও তৈরি করে থাকে। এর উদ্যোক্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ইয়ান শফিক ও যুক্তরাষ্ট্রের পেল ট্র্যান।

অগমেডিক্সের বিভিন্ন সেবার কথা জানাতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী। এসময় অগমেডিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পেলু ট্র্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অগমেডিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পেলু ট্র্যান বলেন, ‘অগমেডিক্স পরিচালনার কাজে ও আমেরিকার ডাক্তারদের সঙ্গে মেধাবী স্ক্রাইবদের (দেশে বসে যারা চিকিৎসকের কথা শুনে রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও রোগীর সব তথ্য লিখে দেন) সংযোগ ঘটাতে বাংলাদেশ একটি আদর্শ জায়গা।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৫০ শতাংশ জনগণের বয়সই ২৫ বছরের নিচে। তারা প্রযুক্তিতে পারদর্শী। এসব মেধাবী তরুণরাই আমাদের টার্গেট।’

অগমেডিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমাদুল হক বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে সাত হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। যারা ইংরেজিতে পারদর্শী (শোনা, বলা ও পড়ায়) তাদের একটা প্রাথমিক পরীক্ষা হবে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের চার থেকে ছয় মাসের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যারা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হবেন, তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হবে। এ কাজে আমাদের সহায়তা করবে আইসিটি বিভাগ ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।’ অগমেডিক্সে যোগ দেওয়া স্ক্রাইবরা দুই বছর পর থেকে মাসে পাঁচ থেকে ছয়শ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

অগমেডিক্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টিরও বেশি শহরে প্রাইমারি কেয়ার ডক্টর, স্পেশালিস্ট ও সার্জনদের সেবা দিয়ে আসছে। এসব চিকিৎসকরা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী দেখেন।

সৌজন্যে : বাংলা ট্রিবিউন

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত