মো. আল আমিন ভূঁইয়া
মো. আল আমিন ভূঁইয়া
নিবন্ধিত নার্স (বিএনএমসি)
হেলথ সার্ভিস অফিসার
রিদম বাংলাদেশ ট্রাস্ট
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:০৬ পিএম
ভোগান্তির অপর নাম ‘পোস্ট বেসিক বিএসসি নার্সিং’: আর্থিক অনটনের শঙ্কায় নার্সিং শিক্ষার্থীরা
পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিংয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় সরকারি কোটা না থাকায় বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এবং সদ্য নিবন্ধিত অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিভিন্ন সরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
কোটা বাতিল ও নতুন সুযোগ
বিগত বছরগুলোতে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের জন্য ৯৫ শতাংশ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ কোটা বরাদ্দ ছিল। তবে চলতি বছরে এই কোটা ব্যবস্থা তুলে দেওয়ায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে কর্মরত এবং সদ্য নিবন্ধিত নার্সরাও (আরএন) নিজেদের মেধার জোরে সরকারি নার্সিং কলেজগুলোতে পড়ার সুযোগ অর্জন করেছেন।
উচ্চশিক্ষা বনাম জীবিকার সংকট
ভর্তির সুযোগ পেলেও এসব শিক্ষার্থীর সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করবেন কীভাবে? একজন শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর তিন বছরের ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্স শেষ করেন। এরপর ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে পরিবার চালানোর মূল দায়িত্ব বহন করছেন।
বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা
এমন পরিস্থিতিতে পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ভর্তির পর যদি নিয়মিত উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা থাকে এবং চাকরির সুযোগ না থাকে, তবে পরিবার ও নিজেদের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্যই চরম কষ্টসাধ্য। ফলে একদিকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এবং অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব—এই দুইয়ের চাপে পড়ে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন।
চিকিৎসকদের মতো স্টাইপেন্ডের দাবি
এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার মডেলটি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে সরকারি স্টাইপেন্ড বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সাহায্য করে। নার্সিং পেশায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্যও কি একই ধরণের আর্থিক সহায়তা চালু করা সম্ভব নয়?
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পথ
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো—পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা করা, অথবা পড়ালেখার মান ঠিক রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পার্ট-টাইম বা বাস্তবসম্মত চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা। এতে করে নার্সিং পেশাজীবীরা আর্থিক চিন্তামুক্ত হয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারবেন। শুধু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কোনো নার্স ডিপ্লোমা পর্যায়েই আটকে না থাকেন, বরং বিএসসি, স্নাতকোত্তর ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন—এমন নীতি নির্ধারণই এখন সময়ের দাবি।
জেএইচ/