ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. আজিজুর রহমান

কন্সাল্ট্যান্ট,
শিশু কিডনি বিভাগ,
কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল ও রিসার্চ ইন্সিটিউট, ঢাকা।


পোস্টগ্রাজুয়েট রেসিডেন্সি প্রোগ্রামঃ ফেইজ-এ ট্রেইনিং সার্টিফিকেট সময়ের দাবী

অনেক দিন ধরেই ভাবছি রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম নিয়ে লিখবো। আমি রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। আল্লাহর রহমতে মূল পরীক্ষায় একবারেই পাশ করেছি। কোর্সে থাকার সময় মনে করেছিলাম পাশ করলেই মনে হয় ডাক্তারি জীবনের কষ্টকর অধ্যায়টা শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমাদের দেশের নীতি নির্ধারক এবং আমাদের শিক্ষকগণ যে আমাদের জন্য পদে পদে গর্ত খুড়ে রেখেছেন সেটা না সিস্টেমের মধ্যে না পড়লে বুঝা যায় না।

সরাসরি Sub Speciality সমস্যা: রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে সরাসরি Sub Specialityতে ভর্তি করানো হচ্ছে। এর আগে বেশির ভাগ ডাক্তার প্যারেন্ট সাবজেক্ট যেমনঃ ইন্টারনাল মেডিসিন,জেনারেল পেডিয়েট্রিক্সে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করে তারপর সাব স্পেশালিটিতে আসত। কিন্তু আমাদের রেসিডেন্সি কারিকুলাম প্রণেতারা সরাসরি সাব-স্পেশালিটি খুললেন। প্রথম ব্যাচে যারা ভর্তি হলেন তারা শুনলেন-ফেইজ এ তিনবছর আর ফেইজ বি দুই বছর এবং প্রথম দিকে তাদের রোটেশন ৪মাস পরপর হচ্ছিল।

এক বছর যেতে না যেতেই কর্তা ব্যক্তিরা এটাকে ২ বছর আর ৩ বছর করলেন এবং রোটেশন ৩ মাস পরপর করলেন। এই ৩ মাস বা ৪ মাস নিয়ে কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হলো ফেইজ-এ এর সময়টা নিয়ে। এই যে দীর্ঘ ২ বছর তারা আমাদের প্যারেন্ট সাবজেক্টের বিভিন্ন শাখায় রোটেশন করালেন এবং ফেইজ-এ মহাসমারোহে পরীক্ষা নিলেন, এটার পরবর্তীতে কোন মূল্যই থাকলো না।

এই ২ বছরে যদি ট্রেনিং সার্টিফিকেট দেযা হতো অথবা ফেইজ এ পাশের একটা সার্টিফিকেট (জেনারেল সাবজেক্টের ডিপ্লোমার মত) দেয়া হতো তাহলেও হতো।মহাসমারোহে পরীক্ষার কথা বলছি এই জন্য যে, দেশ বিখ্যাত শিক্ষকগণ এ পরীক্ষা নিতে আসেন দেশের বড় বড় মেডিকেল কলেজ থেকে। এই পরীক্ষায় অনেকে ফেইল করতে করতে কোর্স আউট হয়ে যাচ্ছেন।

গতবছর শুধু হেপাটোলজিতেই পাঁচজন ফেইজ-এ ফেল করে কোর্স আউট হয়ে গেছেন। আমাদের সন্মানিত শিক্ষকগণ প্রায় প্রতিদিনই রাউন্ডের সময় বলতেন বিশ্বের কোথাও নাকি প্যারেন্ট সাবজেক্টে কনসালটেন্ট না হয়ে সাব-স্পেশালিস্ট হওয়া যায় না। তাহলে কেন তারা আমাদের জন্য এমন গর্ত খুড়লেন? সাব-স্পেশালিটিতে পাশ করার পর যখন কোথাও চাকরি পাচ্ছি না, তখন আমাদের জেনারেল পেডিয়েট্রিক্সের এর চেয়ারম্যান স্যারের সাথে দেখা করে বললাম সমস্যার কথা।

তিনি বললেন যে তিনিও শুরুতেই সাব-স্পেশালিটি খোলার বিপক্ষে ছিলেন। তবে কেন এবং কারা এমনটি করলেন?

কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ: আমার এতক্ষনের আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে আসলে কার সর্বনাশ হচ্ছে। আমাদের সাথে যারা কোর্সে ছিলেন তারা বেশির ভাগই FCPS part-1 করা ছিল। ট্রেনিং সার্টিফিকেটের অভাবে তাদের কেউই আর part-2 এর পরীক্ষা দিতে পারছে না। আবার দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনিং করার মত সুযোগ,ইচ্ছা, সামর্থ্য সবার থাকে না। তেমনই থাকে না MS/MD পাশ করার পর MCPS নামক (Near 100% ফেইল)পরীক্ষা দোয়ার।

তাহলে মোটামুটি আমাদের সব ডাক্তারদেরই ক্ষতি হচ্ছে। তবে ক্ষতি বেশি হচ্ছে বেসরকারী রেসিডেন্টদের। সরকারী রেসিডেন্টগণ সাব-স্পেশালিটি পাশ করলেই তারা সহকারী অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন অনাযাসে। কারণ সাব-স্পেশালিটির যেসব সরকারী পোস্ট আছে তার বেশির ভা্গই যোগ্য লোকের অভাবে ফাঁকা।

গত প্রমোশনের সময় এক সিনিয়র আপুকে হতাশ হতে দেখেছি কারণ তিনি জেনারেলিস্ট হওয়ার কারণে সহকারী অধ্যাপক হতে পারছেন না। সরকারী সাব-স্পেশালিস্টরা সহজেই প্রমোশান পাচ্ছেন। কিন্তু বেসরকারী কনসালটেন্টরা চাকরিই পাচ্ছেননা। পরিশেষে আমি মনে করি রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরী এবং জনগণকে বিশ্বমানের সেবা দেয়ার লক্ষকে সামনে রেখেই শুরু করা হয়েছে।

তবে এই প্রোগ্রামকে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসু করার জন্য ফেইজ-এ পরীক্ষা পাশের একটা সার্টিফিকেট এবং ট্রেনিং সার্টিফিকেট দিলে সবার জন্যই কল্যানকর হবে। দেশের বাইরে চাকরির জন্য আবেদন করলেও জেনারেল এবং সাব-স্পেশালিটিতে ডিগ্রী থাকার জন্য অনেক খানি সুবিধা হবে। কর্তা ব্যক্তিরা যত দ্রুত এটা বুঝবেন তত তাড়াতড়ি সবার মঙ্গল হবে।

 

ডা.মো.আজিজুর রহমান

MD (pediatric nephrology) Residency-Batch 2nd, BSMMU. 

[email protected]

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর