০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:২৭ পিএম

ঢামেক হাসপাতালে তিন মাস ধরে অচল ক্যাথল্যাব, সারতে লাগবে আরও দেড় মাস

ঢামেক হাসপাতালে তিন মাস ধরে অচল ক্যাথল্যাব, সারতে লাগবে আরও দেড় মাস
ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের একমাত্র ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবরেটরি (ক্যাথল্যাব) প্রায় তিন মাস ধরে অচল হয়ে আছে। এতে হৃদরোগীদের চিকিৎসায় তৈরি হয়েছে ভোগান্তি। বিকল্প হিসেবে নিউরোসার্জারি বিভাগের ক্যাথল্যাব ব্যবহার করায় সেখানে বেড়েছে রোগীর চাপ এবং প্রসিডিউরের অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। সেগুলো হাসপাতালে এনে মেরামতের কাজ শুরু হলেও ক্যাথল্যাবটি পুরোপুরি সচল হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ক্যাথল্যাবে উন্নত এক্স-রে ও ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া হয়। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনিতে ব্লক বা সংকোচন শনাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজন হলে বেলুন বা স্টেন্ট (রিং) বসিয়ে বন্ধ বা সংকুচিত রক্তনালি সচল করা হয়। এছাড়া পেসমেকার স্থাপন, ভালভের চিকিৎসা এবং হৃদ্‌যন্ত্রের জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসাতেও ক্যাথল্যাব ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কার্ডিওলজির একমাত্র ক্যাথল্যাবটি প্রায় তিন মাস ধরে নষ্ট হয়ে আছে। তবে শিগগিরই এটি মেরামত করা হবে।’

ক্যাথল্যাবটি বন্ধ থাকায় রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিউরোলজি বিভাগের একটি ওটি আছে। সেখানে আমাদের কিছুটা বেশি স্লট দেওয়া হচ্ছে। ওই ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে আপাতত কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিউরোলজি ওটিতে তাদের নিউরো ক্যাথল্যাব রয়েছে। সেখান থেকেই সাময়িকভাবে কার্ডিওলজির কিছু কাজ করা হচ্ছে। তবে সীমিত পরিসরে।’

কার্ডিওলজির ক্যাথল্যাব কবে নাগাদ চালু হতে পারে—জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ‘প্রয়োজনীয় মালপত্র ইতোমধ্যে বন্দরে চলে এসেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো বন্দর থেকে ছাড়িয়ে হাসপাতালে আনা হতে পারে। এরপর মেরামতের কাজ শুরু হবে। সরকারি প্রক্রিয়ায় মালপত্র কিনতে টেন্ডার ও এলসি খোলাসহ বিভিন্ন ধাপ থাকে। পুরোপুরি চালু হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। তবে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবার কথা বলব। যেহেতু এটি টেকনিক্যাল কাজ, তাই কিছুটা সময় লাগবে। তবে মালপত্র বন্দরে পৌঁছে যাওয়াটা আশার বিষয়।’

এদিকে কার্ডিওলজির ক্যাথল্যাব অচল থাকায় নিউরোসার্জারি বিভাগের ক্যাথল্যাবে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে ক্যাথল্যাবে প্রতিদিন একটি বড় প্রসিডিউর এবং দুই থেকে তিনটি ছোট প্রসিডিউর বা ডিএসএ (ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি) করা হতো। নিউরোসার্জারি বিভাগের সাতটি ইউনিটের মধ্যে দুটি এন্ডোভাসকুলার ইউনিট নিয়মিত কাজ করত। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ইউনিটগুলোর রোগীদেরও প্রসিডিউর করা হতো। তবে কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথল্যাব বন্ধ থাকায় এখন একই ক্যাথল্যাবে বিভিন্ন বিভাগের রোগীদের প্রসিডিউর করতে হচ্ছে।

নিউরোসার্জারি বিভাগের একাধিক চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, কার্ডিওলজির রোগীদের জন্য ক্যাথল্যাব ব্যবহার করায় নিউরোসার্জারি বিভাগের রোগীদের প্রসিডিউরের সময় বেড়ে গেছে। আগে যেসব রোগীর প্রসিডিউর এক সপ্তাহের মধ্যে করা সম্ভব হতো, এখন তাদের সিডিউল পেতে দুই সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগছে।

ক্যাথল্যাব ব্যবহারের সময়সূচি ও জনবল নিয়ে জানতে চাইলে নিউরোসার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ‘একটি ক্যাথল্যাবে সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখানে জনবল পর্যাপ্ত। কিন্তু ক্যাথল্যাব অন্য বিভাগ ব্যবহার করলে আমরা চাইলেও প্রসিডিউর করতে পারি না। বর্তমানে নির্দিষ্ট দিন ভাগ করে বিভিন্ন বিভাগকে ক্যাথল্যাব ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে রোগী প্রস্তুত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রসিডিউর করা সম্ভব হয় না।’

নিউরোসার্জারি বিভাগের জন্য আলাদা আরেকটি ক্যাথল্যাব প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘নিউরোসার্জারির জন্য বর্তমানে একটি ক্যাথল্যাবই যথেষ্ট। তবে নতুন ক্যাথল্যাব স্থাপনের ক্ষেত্রে জায়গার সংকট রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ডের জন্যই পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ অবস্থায় নতুন ক্যাথল্যাব স্থাপন করা সহজ নয়।’

নিউরোসার্জারি বিভাগের রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়ার্ড ও শয্যা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্রেন টিউমারের মতো রোগে আক্রান্তদের শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হলে তাদের ভোগান্তি বাড়ে। ওয়ার্ডের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। একজন সুস্থ মানুষের পক্ষেও সেগুলো ব্যবহার করা কঠিন।’

ক্যাথল্যাবের পাশাপাশি ওয়ার্ড ও শয্যাসংকটের বিষয়টিও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসার জন্য শুধু অপারেশন থিয়েটার বা ক্যাথল্যাব থাকলেই হবে না বরং পর্যাপ্ত শয্যা ও উপযুক্ত ওয়ার্ডের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। নিউরোসার্জারি ও হৃদ্‌রোগের মতো স্পর্শকাতর বিভাগের রোগীদের জন্য এসব সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।’

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক