ডা. মো. আহাদ হোসেন

ডা. মো. আহাদ হোসেন

সহকারী অধ্যাপক ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


২৮ জুন, ২০২৬ ০৮:২৯ পিএম

দাম্পত্য ও পেশাগত জীবনে ভারসাম্য রক্ষার উপায়

দাম্পত্য ও পেশাগত জীবনে ভারসাম্য রক্ষার উপায়
প্রতীকী ছবি

পরিবার মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, আর সেই আশ্রয়ের ভিত্তি গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও বোঝাপড়ার ওপর। কিন্তু নাগরিক ব্যস্ততা ও পেশাগত প্রতিযোগিতার কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে সময় ও মনোযোগের ঘাটতি অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক বন্ধনকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো ব্যস্ত পেশায় কর্মরত দাম্পত্য ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে সেই বাস্তবতা, এর কারণ এবং দৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই এই ধারাবাহিক লেখার প্রথম পর্ব।

বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন লিখবো বলে চিন্তা করেছি, কিন্তু সময় হয়ে ওঠেনি। পরিবার আমাদের সকলেরই স্বস্তি, নির্ভরতা ও মানসিক প্রশান্তির আশ্রয়। পরিবার বলতে আমরা মূলত বুঝি স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোনকে। এদেরকে ঘিরেই মূলত একটি সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন গড়ে ওঠে।

একটি ছোট পরিবারে শুধু স্বামী-স্ত্রী থাকে। পরবর্তীতে তাদের সন্তানাদি হয়। সন্তানেরা বড় হয়, তাদের পরিবার তৈরি হয় এবং একই সঙ্গে সেখানে শুরুতেই যেই স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনের মাধ্যমে পরিবার তৈরি হলো, তারা পিতা-মাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। কালক্রমে তারা দাদা-দাদি বা নানা-নানীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সময়ের পরিক্রমায় আমরা যে যেই অবস্থানেই থাকি না কেন, প্রত্যেকের অবস্থানের একটি গুরুত্ব রয়েছে এবং সেই অবস্থানের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক কিছু অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য জড়িয়ে রয়েছে। এই জায়গাগুলো যদি আমরা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পারি, তাহলেই একটি পরিবারের পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হতে শুরু করে।

এই দুর্বলতা যদি সময়মতো চিহ্নিত ও সংশোধন করা না যায়, তাহলে এক সময় তা গভীর পারিবারিক দূরত্বের জন্ম দেয়। ফলে আমরা পারিবারিক বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, আমাদের চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে, সেই পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে আমাদের কাজকর্মে।

আজকে আমাদের সমাজে যে ঘটনাগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেগুলো মূলত একটি পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়ারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। অনেকেই বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই বিষয়টির ভুক্তভোগী আমরা সবাই। আজকে আপনি বলছেন, হয়তো কালকে আপনি এর শিকার হতে পারেন।

সুতরাং এখন থেকেই আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের পরিবার, পারিবারিক জীবন এবং পেশার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কীভাবে একটি সুন্দর পারিবারিক বন্ধন তৈরি করতে পারি, সেদিকে প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

সুন্দর পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকা

যেমনটি পূর্বে বলেছিলাম, একটি সুন্দর পরিবার গঠনের শুরু মূলত স্বামী-স্ত্রীকে ঘিরেই। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও এর ধারাবাহিকতা একটি সুগঠিত পরিবার গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসক হিসেবে আমার ক্ষুদ্র জীবনে যেটুকু দেখেছি, সেগুলো থেকেই লেখার চেষ্টা করছি।

বিবাহের শুরুটা মূলত বিভিন্নভাবে হয়। যেমন, মেডিকেল স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় কারো পারস্পরিক সম্পর্ক থাকলে পরবর্তীতে সেটা বিবাহে রূপ নেয়। অথবা পারিবারিক ইচ্ছায় দুইজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি পরিবার গঠন হয়। অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসক এবং নন-চিকিৎসকের মধ্যেও পরিবার গড়ে ওঠে।

ব্যক্তিগতভাবে আমরা দুজনেই চিকিৎসক এবং আমাদের বিবাহ পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

বিবাহের শুরুতে আমাদের অনুভূতিগুলো যতটা গভীর থাকে এবং পরস্পরের প্রতি যতটা আস্থা ও ভালোবাসা থাকে, সেটি আস্তে আস্তে আমাদের কার্যক্রম ও জীবন পরিচালনার পদ্ধতিতে কিছুটা দুর্বল হতে থাকে।

কিছু মতবিরোধ, মনোমালিন্য অস্বাভাবিক নয়

তবে এ কথা ঠিক যে, একটি পরিবার স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলে কিছু মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য থাকতেই পারে, এটি অস্বাভাবিক নয়। কোনো কোনো সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতানৈক্য এবং একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, এটিও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই বিষয়গুলো যদি দ্রুততম সময়ে সমাধান না হয়, তাহলে এটি একটি শক্ত পরিবারের ভিতের মধ্যে দুর্বলতার সূচনা করে। যদি আমরা সেই ফাটলগুলো সময়মতো মেরামত করতে না পারি, তাহলে তা একসময় বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।

চিকিৎসক দম্পতির শ্রদ্ধাবোধ যে কারণে গভীর হওয়া চাই

পেশাগত জীবনে দুজনেই চিকিৎসক হলে তাদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত গভীর হওয়া প্রয়োজন। হতে পারে, দুজনেই নিজ নিজ অঙ্গনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আবার এমনও হতে পারে, দুজনের কেউ একজন স্বাভাবিকভাবেই সাফল্যের উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছেছেন, অপরপক্ষে অন্যজন সেই পথচলায় তুলনামূলক ধীরগতিতে এগিয়েছেন।

যে অবস্থাই হোক না কেন, পরস্পরের উচিত প্রত্যেকের অবস্থানকে মূল্যায়ন করা। আমরা যদি এখানে একজন আরেকজনের চেয়ে নিজেকে উচ্চতর মনে করার মানসিকতা পোষণ করি, তাহলে পরিবারের ভিত দুর্বল হতে শুরু করে। সুতরাং এ ধরনের অনুভূতি থেকে সর্বদাই নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

আবার এমনও হতে পারে যে, আমার আচরণে এমনটা প্রকাশ পাচ্ছে যেন আমি একটু সম্মানজনক অবস্থানে আছি, তাই আমার অধিক স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। কিন্তু এমনটি তো হচ্ছে না। এ ধরনের প্রশ্ন বারবার আপনার মনে নাড়া দিতে পারে। এটি মূলত শয়তানের ওয়াসওয়াসা।

একজনের লক্ষ্য অর্জনে অন্যজন পাশে থাকুন

মনে রাখবেন, একটি সুখী পরিবার মূলত গঠন হয় স্বামী-স্ত্রীর মেলবন্ধনের মাধ্যমেই। যদি কোনো ক্ষেত্রে স্বামী এগিয়ে যান, তার পোস্টগ্র্যাজুয়েশন অর্জনের ক্ষেত্রে, ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে কিংবা বিসিএস অর্জনের ক্ষেত্রে, তাহলে পাশাপাশি তার স্ত্রীকেও সহযোগিতা করতে হবে। তার কী ইচ্ছা, সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তার অর্জনের জন্য সহযোগিতা করতে হবে, অনুপ্রেরণা দিতে হবে।

তবে এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করি যে, একজন যদি একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সফল হয়ে যান, তাহলে সেই বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরেকজনকে বিষয়টি ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াও জরুরি। কিন্তু দুজনেই যদি দুটি ভিন্ন বিষয়ে অবস্থান করেন এবং সেই অবস্থান থেকে একজন সফল হয়ে যান, আরেকজন ধীরগতিতে এগোতে থাকেন, সে ক্ষেত্রে কখনোই একজনের উচিত হবে না মাঝপথে তাকে নিরুৎসাহিত করা অথবা অন্য কোনো বিষয়ে যাওয়ার জন্য কিংবা অন্য কোনোভাবে নতুন কিছু করার জন্য বাধ্য করা। এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী।

পারস্পরিক বিরোধ নিরসন যেভাবে 

এতক্ষণ যে বিষয়গুলো বলছিলাম, সেগুলো মূলত নতুন অবস্থায় যে সকল চিকিৎসক পরিবার গঠন করেন, তাদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে থাকতে পারে। পাশাপাশি আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন দুইজনই একই পেশায় ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরে কাজ করার কারণে দুজনের তীব্র কর্মব্যস্ততার শেষে যখন একান্তে সময় কাটাতে চান, তখন এই জায়গাটাতে অনেক সময় পারস্পরিক বিরোধ তৈরি হতে পারে।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভিত্তি মূলত দাম্পত্য জীবন। কোনো সময় হতে পারে যে, স্বামী তার ব্যস্ততা শেষ করে একান্তে সময় কাটাতে চাচ্ছেন, কিন্তু স্ত্রী তার ব্যস্ততার অজুহাতে সেটাকে অস্বীকার করছেন বা অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ ধরনের ঘটনা হঠাৎ বা মাঝে মধ্যে হতে পারে, এটি অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এমনটি বারবার ঘটতে থাকলে তা ধীরে ধীরে একটি সুগঠিত পরিবারের ভেতরে দূরত্বের সৃষ্টি করতে পারে। একটি বিষয় আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি, একজন পুরুষ যদি তার আবেগিক ও দাম্পত্য চাহিদাগুলো যথাযথভাবে পূরণ করতে না পারেন, তাহলে তার মধ্যে গভীর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা তার মন, মস্তিষ্ক ও চিন্তা-চেতনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে আমি ঠিক একইভাবে ব্যাখ্যা করব না। তবে এটুকু নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, একজন নারী বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যদি একজন পেশাজীবী, বিশেষ করে চিকিৎসক হন, তাহলে দায়িত্বের পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্বও সমানভাবে বহন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাকে অতিরিক্ত শ্রম, ত্যাগ ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করে। এই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে পরিবারে একজন নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে সর্বোপরি একটি বিষয় নারীদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনিচ্ছা, ক্লান্তি কিংবা ব্যস্ততা সত্ত্বেও এ সম্পর্কের জন্য সময় ও গুরুত্ব দিতে হয়। কারণ দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু শারীরিক নয়, এটি মানসিক প্রশান্তি, পারস্পরিক নির্ভরতা ও সম্পর্কের গভীরতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

ইতিপূর্বে যেমন বলেছি, অনেক পুরুষ তাদের আবেগিক ও দাম্পত্য চাহিদার ক্ষেত্রে সহজে মানসিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন না। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এই সম্পর্ককে লালন করা প্রত্যেক দম্পতির দায়িত্ব।

বড় অর্জনের মূল চাবিকাঠি স্বামী-স্ত্রীর সুদৃঢ় বন্ধন

সুতরাং যতই দুঃখ, কষ্ট বা সংগ্রাম করুন না কেন, দাম্পত্য জীবনকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এতটুকু বলা যায়, যদি স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন খুব সুন্দর, সুস্থ ও পরিপূর্ণ থাকে, তাহলে দুজনে মিলে জীবনের বড় বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এই জায়গায় যদি কোনো দুর্বলতা তৈরি হয়, সেটি পরবর্তীতে অনেক বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

আপনি জুনিয়র চিকিৎসক হন অথবা একজন প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হন, আপনাকে এই জায়গায় সময় দিতেই হবে এবং এই বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়েই পরিবারের ভিত্তি সঠিক রাখতে হবে। আমরা যারা ব্যস্ততার কারণে এই জায়গাটি ভুলে বসেছি বা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছি না, তারা গুরুতর ভুল করছি। এই জায়গায় অবহেলার কারণে পরবর্তীতে নানাবিধ পারিবারিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে, যা সন্তানদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কারণ একটি সুদৃঢ় পরিবার শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি প্রজন্মকে সঠিক মূল্যবোধ, স্থিতি ও মানসিক নিরাপত্তা প্রদান করে।

লেখাটি চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ। পরবর্তী লেখায় কীভাবে আমরা আমাদের ব্যস্ততম সময়গুলোর ভেতরেও পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে পারি, সে বিষয়ে লিখব, ইনশাআল্লাহ।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত