ডা. বাহারুল আলম

ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


০৩ মার্চ, ২০১৭ ১০:৫৯ এএম

চিকিৎসকদের জেগে ওঠার এখনই সময়, প্রতিকারে নয় প্রতিবাদে

চিকিৎসকদের জেগে ওঠার এখনই সময়, প্রতিকারে নয় প্রতিবাদে

বগুড়ার শজিমেকহা-তে রোগীর স্বজনরা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা অপরাধ নয় -- এ মতামত বাংলাদেশে কারো ছিল না বা নাই। কিন্তু তার পূর্বে নারী চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা প্রতিরোধ করতে গিয়ে রোগীর স্বজন লাঞ্ছিত হয়েছে- এ বিষয়টি সহ ইদানীং কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় ডজন খানেক চিকিৎসক রাজধানী সহ সারা বাংলাদেশে লাঞ্ছিত হয়েছে। ছিটেফোঁটা দুএকটা ঘটনা ছাড়া এগুলো প্রচার মাধ্যমে আসে নি। মন্ত্রণালয়, বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দূরে থাক, ক্ষমতাহীন কোন কমিটি তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত হয় নি। কারণ একটিই এবং তা সবার জানা—লাঞ্ছিত হওয়া মানুষটি ‘চিকিৎসক’ ।

রাষ্ট্রের পক্ষপাতমূলক এ নির্লজ্জ আচরণ আরো কত নিষ্ঠুরভাবে কতদিন ধরে চলবে? অপরদিকে চিকিৎসকরা রাষ্ট্রের এ আচরণ মেনে নিয়ে ধিক্কৃত হতেই থাকবে আর কতদিন? – সেটিও এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কোন পক্ষেরই জবাব নাই। শজিমেকহা-এ রোগীর স্বজনদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় মন্ত্রণালয় এত সংবেদনশীল ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে অতীতে কখনও দেখা যায় নি। কারণ সকলের জানা। তারা কেবল রোগীর স্বজন নয়, মন্ত্রীরও স্বজন, বাড়ি সিরাজগঞ্জ। চিকিৎসক সহ গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভিভাবক হয়ে এ ধরনের পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করতে গিয়ে রোগীর স্বজনদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে অনেক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেই ঘটেছে। মন্ত্রণালয় কখনও তাদের জন্য দরদী হয়ে ওঠেনি বা কোন তদন্তও করে নি। সারাদেশে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করা রাষ্ট্রের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের এ সময়ের বড় ব্যর্থতা। অথচ বগুড়া শজিমেকহা-এ রোগীর স্বজনদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য খোদ মন্ত্রণালয় বিএমডিসি ও অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে মাঠে নেমেছে। নাম তার উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি। ক্ষমতা প্রয়োগ করেই সিরাজগঞ্জ বংশোদ্ভূত রোগীর স্বজনদের নিরাপত্তা বিধান করবে , চিকিৎসকদের ২য় বার আক্রমণ করে, লাঞ্ছিত করে, অপমান করে। তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়া স্থগিত হয়ে যাবে , অন্যত্র সরে যেতে হবে । সবই অবলোকন করবে অভিযোগ দাখিল-কারি রোগীর স্বজনরা।

সংক্ষুব্ধ হৃদয়ে আবারো প্রশ্ন জাগে, একদিকে নাগরিকরা, রোগীর স্বজনরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে চিকিৎসকদের তাদের কর্মস্থলে। অপরদিকে রাষ্ট্র লাঞ্ছিত করছে কেবল নিরাপত্তা না দিয়ে নয়, উপরন্তু রাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের নির্দেশে পুনর্বার চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করে।

চিকিৎসকদের জেগে ওঠার এখনই সময় , প্রতিকারে নয়, প্রতিবাদে, প্রতিশোধে। দাবী নয়, অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার । কে ডাক দিল , কে নেতৃত্ব দিল , কে দিল না --- কে আসলো, কে আসলো না-- এ হিসাবের সময় এখন নয়। রাষ্ট্রের মূলধারার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছাবার অভিযাত্রী হয়ে যাত্রা শুরু করতে হবে। চিকিৎসকদের অধিকার আন্দোলন রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কেউ রাখে না।

সকল শৃঙ্খল ভঙ্গ করে যে যেখানে যে অবস্থায় আছ, সংঘবদ্ধভাবে প্রতিবাদে নেমে পড়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত